Jahangir Khan: ফলতায় পুলিশি হেফাজত থেকে কুখ্যাত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় আরও বড় বিপাকে পড়লেন তাঁর স্ত্রী। এবার তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় নতুন করে মামলা রুজু করল ফলতা থানার পুলিশ। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, যার ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫।

পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে মুক্ত করার পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে একটি গোপন বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ফলতা থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমর্থকদের জড়ো করা হবে। এর পর সেখান থেকে সংগঠিত ভাবে থানায় হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গির খানকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে আনার ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ধৃতদের জেরা করে এই পুরো ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে থানা হামলার ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। তদন্ত এগোলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার ফলতায় একটি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন যে, কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন। বাংলায় কোনও রকম গুন্ডামি বা জঙ্গিপনা বরদাস্ত করা হবে না। এর পরই মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে পুলিশ সুপারকে (এসপি) স্পষ্ট নির্দেশ দেন, থানায় হামলা চালানোর ঘটনায় সিসিটিভি বা অন্য ভিডিওতে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ধারায় নতুন মামলা রুজু করে। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাহাঙ্গিরকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে বার হয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরকে কেন এ ভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে, এমন প্রশ্ন তুলে আপত্তি তোলেন কয়েক জন। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবিও জানানো হয়। সেই দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, থানা ঘেরাওয়ের পরিকল্পনাও ছিল বিক্ষোভকারীদের। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে ঘেরাও কর্মসূচির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তাঁরা। তবে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ করে পুলিশ। নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও।