...
...
Next Story

Nepal Flash Flood: উষ্ণায়নের চরম মাশুল গুনছে হিমালয়! কৈলাসে মহাপ্রলয়ের প্রভাব পড়বে বাংলায়?

Nepal Flash Flood: নেপাল, উত্তরাখণ্ড ও সিকিমের এই প্রাকৃতিক ভাঙন শুধুমাত্র পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি গঙ্গা ও তিস্তা অববাহিকা ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সমতলভূমির নিরাপত্তা ও নদী-বাস্তুতন্ত্রের ওপর স্থায়ী বিপজ্জনক ছায়া ফেলছে।

Published on: Aug 27, 2026, 11:34:40 IST
Advertisement

Nepal Flash Flood: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে (Nepal-Tibet border) হড়পায় (Nepal Flash Flood) তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই তাণ্ডবের শিউরে ওঠার মতো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বতের দিক থেকে প্রবল জলের স্রোত নেমে এসে ভোটে কোশী নদীতে (Bhote Koshi River) ভয়াবহ আকার নেয়। মুহূর্তের মধ্যে জলস্তর বেড়ে রাসুয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোট সহ সীমান্তবর্তী বহু এলাকা প্লাবিত হয়। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একাধিক গ্রাম। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, হড়পা বানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭। এখনও নিখোঁজ ৭৫০ জনেরও বেশি। আর কৈলাশে এই মহাপ্রলয়ের মধ্যেই এখন একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে বাংলার জন্য কতটা ঝুঁকি রয়েছে?

কৈলাসে মহাপ্রলয়ের প্রভাব পড়বে বাংলায়? (REUTERS)
কৈলাসে মহাপ্রলয়ের প্রভাব পড়বে বাংলায়? (REUTERS)

সংবাদমাধ্যম 'সংবাদ প্রতিদিন'-এর কলামে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র লিখেছেন, বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়নের চরম মাশুল গুনছে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল। প্রকৃতি প্রতিশোধ নিচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নদী বিশেষজ্ঞ হিমবাহ গলে পিছিয়ে যাচ্ছে। যার জেরে সামনে তৈরি হচ্ছে হিমবাহ হ্রদ। এখনও পর্যন্ত হিমালয় জুড়ে এমন ২০০টিরও বেশি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সিকিমেই রয়েছে ১৭টি, যেগুলিতে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সরাসরি প্রভাবিত হবে পশ্চিমবঙ্গ। নেপালের বিপর্যয়ের প্রভাবও বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পড়বে। আসলে ভূ-প্রাকৃতিক গঠন অনুযায়ী নেপালের গণ্ডকী ও কোশি নদীর ঢাল অত্যন্ত খাড়া। ফলে পাহাড়ি উপত্যকায় মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভূমিকম্প কিংবা ধসের কারণে প্লাবনভূমির দু'পাশ ধসে নদীখাত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর জমা জল হঠাৎ বাঁধ ভেঙে নেমে এলে তৈরি হয় বিধ্বংসী 'হড়পা বান' বা গ্লেসিয়ার লেক বার্স্ট ফ্লাড। নেপালের যে এলাকায় বিপর্যয় নেমেছে সেখানে বা আশেপাশের অঞ্চলে কোনও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ৩৩ ফুট (১০ মিটার) উঁচু কাদা, পাথর ও জলের একটি বিশাল দেয়াল আছড়ে পড়েছে। কোনও আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও ছিল না। তাই স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলেন।

১৯৮০ সালের তামোরের নাগমা পোখারি, ১৯৮১-র ঝাংঝাংবো হ্রদ, ১৯৮৫-র দুধ কোশির এবং ১৯৯৮-র ট্যাম পোখরি বিপর্যয় উল্লেখযোগ্য। ১৯৮১ সালে ঝাংঝাংবো হ্রদ ভেঙে এক ঘণ্টায় প্রায় ১.৯ কোটি ঘনমিটার জল নেমেছিল। ২০১৩ সালের জুনে কেদারনাথের চুরাবারি হিমবাহ সংলগ্ন হ্রদ ফেটে ও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে হড়পা বানে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমের দক্ষিণ লোঙ্ক হিমবাহ হ্রদ ফেটে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ প্লাবন হয়। ধ্বংস হয় বিদ্যুৎ প্রকল্প। ২০২৫-এর আগস্টে উত্তরকাশীর ধারালিতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসে ক্ষিপ্রগতির ডেব্রিস ফ্লো এবং হড়পা বানে লোকালয় তছনছ হয়ে যায়। উপগ্রহ চিত্র এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ গবেষণার তথ্য নিশ্চিত করে যে, হিমালয়ের হিমবাহ সংকোচন অত্যন্ত দ্রুত হারে ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জল জমে নতুন নতুন হ্রদের আয়তন প্রতিদিন বাড়ছে। নেপাল, উত্তরাখণ্ড ও সিকিমের এই প্রাকৃতিক ভাঙন শুধুমাত্র পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি গঙ্গা ও তিস্তা অববাহিকা ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সমতলভূমির নিরাপত্তা ও নদী-বাস্তুতন্ত্রের ওপর স্থায়ী বিপজ্জনক ছায়া ফেলছে। ফারাক্কা ব্যারাজও নদীর পলি পরিবহণ ও তলদেশের চরিত্র বদলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় এই গোত্রর বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। সিকিমের গ্লেসিয়ার লেক ফাটলে তিস্তা নদীপথে জল ও ডেব্রিস নেমে এসে উত্তরবঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। আগেও এর প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও দুর্বল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে ভূমিধস ও হড়পা বান সৃষ্টি হয়। নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং নদীতীর ও পাহাড়ি ঢালে জনবসতি ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তিস্তা, রংপো, রিয়াং, মহানন্দা, বালাসন, তোর্সা ও জলঢাকা অববাহিকা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। তাই আগাম সতর্কতা, সঠিক ভূমি-ব্যবহার পরিকল্পনা, নদীখাত সংরক্ষণ ও দুর্যোগ-প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe