...
...
Next Story

Worlds oldest polo club: রাজা-বাদশাহের খেলা বলে পরিচিত, এখন অলিম্পিকের অংশ, অথচ এর প্রথম ক্লাব কলকাতাতেই! জানতেন কি

Calcutta Polo Club history 1862: পোলো খেলার ইতিহাস প্রাচীন পারস্য বা ইরানে শুরু হলেও, আধুনিক পোলো যেভাবে আমরা আজ দেখি, তার নিয়মকানুন এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তৈরি হয়েছিল ভারতে।

Published on: Jun 10, 2026, 07:48:33 IST
Advertisement

History of modern polo game: পোলো (Polo)—যাকে বলা হয় ‘রাজা-বাদশাহদের খেলা’ (The Game of Kings)। সবুজ ঘাসের মখমল মাঠে ঘোড়ার পিঠে চড়ে কাঠের মলেট দিয়ে বল তাড়া করার এই খেলায় জড়িয়ে রয়েছে আভিজাত্য, গতি এবং রোমাঞ্চ। আধুনিক বিশ্বে আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন বা আমেরিকা পোলো খেলার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত হলেও, এই খেলার আধুনিক রূপের জন্ম কিন্তু আমাদের এই ভারতেই। আর সেই সুবাদেই পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং এখনও সচল থাকা প্রথম পোলো ক্লাবটির গৌরবময় ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে ভারতের মাটির সাথে।

রাজা-বাদশাহের খেলা বলে পরিচিত, অলিম্পিকের অংশ, অথচ এর প্রথম ক্লাব কলকাতাতেই!
রাজা-বাদশাহের খেলা বলে পরিচিত, অলিম্পিকের অংশ, অথচ এর প্রথম ক্লাব কলকাতাতেই!

অনেকেই হয়তো মনে করেন বিশ্বের প্রাচীনতম পোলো ক্লাবটি ইউরোপের কোনো দেশে অবস্থিত। কিন্তু ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর প্রাচীনতম পোলো ক্লাবটি হলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মণিপুরে অবস্থিত ‘ইম্ফল পোলো ক্লাব’ (Imphal Polo Club) এবং বিশ্বের প্রাচীনতম সচল বাণিজ্যিক পোলো ক্লাবটি হলো কলকাতার ‘কলকাতা পোলো ক্লাব’ (Calcutta Polo Club)।

পোলো খেলার ইতিহাস প্রাচীন পারস্য বা ইরানে শুরু হলেও, আধুনিক পোলো যেভাবে আমরা আজ দেখি, তার নিয়মকানুন এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ তৈরি হয়েছিল ভারতের মণিপুর রাজ্যে। মণিপুরে এই খেলাকে বলা হতো ‘সাগোল কাঞ্জেই’ (Sagol Kangjei)। সেখানে ঘোড়ার পিঠে চড়ে এই খেলা ছিল লোকসংস্কৃতির অংশ।

ইম্ফল পোলো ক্লাব: ইতিহাসের প্রথম সাক্ষী

মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘মাপাল কাঞ্জেইবুং’ (Mapal Kangjeibung) হলো পৃথিবীর প্রাচীনতম সচল পোলো গ্রাউন্ড। আর এই মাঠকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ‘ইম্ফল পোলো ক্লাব’। মণিপুরের রাজাদের হাত ধরে এই ক্লাবের সূচনা হয়েছিল। ব্রিটিশরা যখন এই রাজ্যে আসে, তখন তারা মণিপুরের বীর যোদ্ধাদের ঘোড়ার পিঠে চড়ে এই অবিশ্বাস্য গতিময় খেলা খেলতে দেখে মুগ্ধ হয়। মণিপুরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যই পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আধুনিক পোলো খেলার জন্ম দেয়।

কলকাতা পোলো ক্লাব: আধুনিক পোলোর জন্মদাতা

তাঁদের উদ্যোগেই ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কলকাতা পোলো ক্লাব’। এটিই বিশ্বের প্রাচীনতম সচল পোলো ক্লাব হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, যা আজও তার ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। ১৮৬৩ সালে এই কলকাতা পোলো ক্লাবই প্রথম আধুনিক পোলো খেলার নিয়মকানুন সংহতিবদ্ধ করে বই আকারে প্রকাশ করে। এখান থেকেই খেলাটি ধীরে ধীরে ইংল্যান্ড এবং পরে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজকীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বরেকর্ড

কলকাতার গড়ের মাঠ বা ময়দানে অবস্থিত এই ক্লাবের ইতিহাস অত্যন্ত রাজকীয়। ভারতের বড়লাট বা ভাইসরয় থেকে শুরু করে জয়পুরের মহারাজা মান সিং, কুচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুরের মতো ব্যক্তিত্বরা এই ক্লাবের নিয়মিত পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এমনকি ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অফ ওয়েলস (পরবর্তীতে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড) যখন ভারত সফরে আসেন, তখন তাঁর সম্মানে এই ক্লাবেই বিশেষ পোলো ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল।

আজকের ২০২৬ সালের আধুনিক ক্রীড়াজগতেও কলকাতা পোলো ক্লাব এবং ইম্ফলের ঐতিহ্যকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয়। এই ক্লাব দুটি কেবল খেলার মাঠ নয়, বরং ভারতের বুকে ব্রিটিশ আমল এবং প্রাচীন রাজকীয় সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল।

যে পোলো খেলা আজ অলিম্পিক থেকে শুরু করে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর আভিজাত্যের প্রতীক, তার শিকড় যে ভারতের মাটিতে প্রোথিত—তা ভাবলে গর্বে বুক ভরে ওঠে। ইম্ফল ও কলকাতা পোলো ক্লাব আমাদের সেই গৌরবময় ক্রীড়া ইতিহাসেরই সাক্ষী। ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকে ছুঁয়ে দেখতে পোলোর এই আদি চারণভূমিগুলোর ঐতিহ্যকে জানা প্রতিটি ক্রীড়াপ্রেমীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe