ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের মতো দুই বড় দলের ম্যাচ ঘিরে নতুন সাজে সেজে উঠেছে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। শনিবার মুখোমুখি হবে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে। তার আগে স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে বাইরে, প্রায় সব জায়গাতেই করা হয়েছে একাধিক পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য।

ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে নতুন করে রং করা হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। এবার প্রথম বার যুবভারতীর প্রতিটি আসনে আলাদা নম্বর দেওয়া হয়েছে। ফলে দর্শকদের আর শুধু নির্দিষ্ট জোনের টিকিট নিয়ে মাঠে ঢুকতে হবে না। কোন আসনে বসবেন, তা টিকিটেই স্পষ্ট করে দেওয়া থাকবে। এতে গ্যালারিতে বসার সময় ভিড় এবং বিভ্রান্তি কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দর্শকদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা আরও ভাল করতে স্টেডিয়ামের র্যাম্প এবং শৌচাগারও নতুন করে সাজানো হয়েছে। গ্যালারির লবিতে থাকছে খাবারের স্টল। ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের যাতে স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে খাবারের খোঁজ করতে না হয়, সেই ব্যবস্থা থাকছে মাঠের মধ্যেই।
তবে শুধু গ্যালারি বা সাধারণ পরিকাঠামোতেই পরিবর্তন থামেনি। মাঠের মূল ঘাস নিয়েও বিশেষ ভাবে কাজ করেছেন যুবভারতীর কর্মীরা। ব্রাজিল থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পিচের ঘাসের মান উন্নত করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের দুই প্রশিক্ষণ মাঠেও করা হয়েছে প্রয়োজনীয় বদল। সেখানেই ভারতীয় ফুটবলারদের পাশাপাশি ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং উরুগুয়ের তারকারা অনুশীলন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, মূল মাঠ এবং অনুশীলন মাঠের ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তুষ্ট ব্রাজিলের বিশেষজ্ঞ দল। ফলে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আপাতত স্বস্তিতে আয়োজকরা। তবে মাঠ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
{{/usCountry}}সূত্রের খবর, মূল মাঠ এবং অনুশীলন মাঠের ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তুষ্ট ব্রাজিলের বিশেষজ্ঞ দল। ফলে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আপাতত স্বস্তিতে আয়োজকরা। তবে মাঠ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
{{/usCountry}}ম্যাচের দুদিন আগে স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স টানেলের দুই পাশে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। আগে সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের ছবিও দেখা যেত। নতুন সাজের সময় সেই ছবিগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে অবশ্য কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। অতীতে লিওনেল মেসিকে ঘিরে কলকাতায় যে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার শুরু থেকেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় দর্শকদের জিনিসপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হবে।
মাদকজাতীয় দ্রব্যের পাশাপাশি লেজার লাইট, ব্যানার, পোস্টার, হোর্ডিং, ছাতা এবং জলের বোতলও নিয়ে মাঠে প্রবেশ করা যাবে না। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে যানবাহন চলাচল, দর্শকদের নিরাপত্তা থেকে স্টেডিয়ামের ভিতরের পরিস্থিতি, সব দিকেই নজর রাখবে পুলিশ।
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, নিরাপত্তার চারটি দিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও স্ট্যান্ডবাইতে রাখা হবে। ফলে ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচ ঘিরে যেমন উৎসাহ তুঙ্গে, তেমনই প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কলকাতায় শেষ হোক ফুটবলের এই মহারণ।