Yuvashakti ₹3000 Allowance Update: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল শিক্ষিত বেকারদের আর্থিক সহায়তা। সরকার গঠনের পর একের পর এক নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করার দাবি করেছে বিজেপি সরকার। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে বেকারভাতা প্রকল্পও। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুর্গাপুজোর আগেই চালু হতে পারে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের অনলাইন পোর্টাল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘যুবশক্তি’। এর আওতায় বর্তমানের যুবশ্রী এবং যুবসাথী প্রকল্পকে একত্রিত করা হবে। সরকারের দাবি, আগের প্রকল্পগুলির তুলনায় যুবশক্তি অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে। শুধু প্রকল্পের কাঠামো নয়, আর্থিক সহায়তার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এতদিন যুবশ্রী এবং যুবসাথী—উভয় প্রকল্পেই উপভোক্তারা মাসে দেড় হাজার টাকা করে পেতেন। ২০১৩ সালে যুবশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছিল শিক্ষিত বেকারদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে। এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে নাম নথিভুক্ত করা বেকারদের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদনকারীকে এই সুবিধা দেওয়া হত। পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে চালু হয় যুবসাথী প্রকল্পও। তবে নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে বেকার ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতিই এবার বাস্তবায়নের পথে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত চলতি বাজেটে যুবশক্তি প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী, কর্মহীন স্নাতক যুবক-যুবতীরা মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে, যারা স্নাতক নন কিন্তু কর্মহীন, তাঁরা মাসিক দুই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন।
তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ডও থাকবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীদের প্রকৃত আর্থিক ও কর্মসংস্থানের অবস্থা যাচাই করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আবেদন করলেই এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না, উপযুক্ত যাচাইয়ের পরই ভাতা প্রদান করা হবে।
{{/usCountry}}তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ডও থাকবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীদের প্রকৃত আর্থিক ও কর্মসংস্থানের অবস্থা যাচাই করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আবেদন করলেই এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না, উপযুক্ত যাচাইয়ের পরই ভাতা প্রদান করা হবে।
{{/usCountry}}প্রকল্পের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে রাজ্যের যুবকল্যাণ দপ্তরের হাতে। যুবকল্যাণমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত কোনও কর্মহীন যুবক বা যুবতীর কর্মসংস্থান না হচ্ছে, ততদিন সরকার তাঁদের পাশে থাকবে। তাঁর কথায়, যুবশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে মাসে দুই হাজার অথবা তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, যুবশ্রী প্রকল্প আগে শ্রম দপ্তরের অধীনে পরিচালিত হলেও যুবসাথী ছিল যুবকল্যাণ দপ্তরের অধীনে। নতুন যুবশক্তি প্রকল্পে এই দুই প্রকল্পকে এক ছাতার নিচে আনা হচ্ছে। আবেদনকারীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৪০ বছর।
রাজ্য সরকারের আশা, এই প্রকল্প কর্মহীন যুবসমাজকে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেবে এবং চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ন্যূনতম সহায়তা নিশ্চিত করবে। পুজোর আগেই পোর্টাল চালু হলে আবেদন প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।