নবি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে মহিলাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে রীতিমতো দাপট দেখাচ্ছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হরমনপ্রীত কৌর-শেফালি বর্মাদের সেই ইনিংস দেখতে নবি মুম্বইয়ে হাজির হন রোহিত শর্মা। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে বিশ্রামের বদলে আইপ্যাডে মন দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফেরা।

রবিবাসরীয়তে ভারতের জোড়া চ্যালেঞ্জ। প্রথমে অজিদের দেশেই ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। আর তারপর নভি মুম্বইয়ে ভারতের মহিলা দলের বিশ্বকাপ ফাইনাল। প্রথম চ্যালেঞ্জটা অতিক্রম করেছে ভারত। হোবার্টে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি পাঁচ উইকেটে অজিদের হারিয়েছে সূর্যকুমার ব্রিগেড। এরপর পালা ভারতের মেয়েদের। আর অজিদের হারিয়েই সাজঘরে ফিরেই তড়িঘড়ি হরমনপ্রীতদের ম্যাচ দেখতে বসে পড়েন গৌতম গম্ভীররা। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শুরু হয় স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার একটু পর। অন্যদিকে, মুম্বইয়ে বৃষ্টির জন্য তিনটের বদলে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনাল ম্যাচ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের থেকে দুই ঘণ্টা পর। ততক্ষণে সূর্যকুমারদের খেলা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি বড় টেবিলের উপর আইপ্যাড রাখা রয়েছে। তাতে হরমনপ্রীতদের ম্যাচ চলছে। আর তা মন দিয়ে দেখছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর, সীতাংশু কোটাক, ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ, বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল, জশপ্রীত বুমরাহ, রিঙ্কু সিংরা। অন্যদিকে, মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে নবি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে এসেছেন রোহিত শর্মা। গ্যালারিতে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহের পাশে বসে খেলা দেখেন তিনি।
ধোনি-যুবরাজদের ২০০৭ সালের টি-২০ জয় যেমন আইপিএল-এর জন্ম দিয়েছিল, তেমনই আজকের সাফল্য মেয়েদের ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। হরমনপ্রীত, মান্ধানারা আজ এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, যেখানে জয় মানে শুধু দলের নবজন্ম নয়-একটি মানসিকতার রূপান্তর। ইতিমধ্যে ভারতের মেয়েরা বদলে দিয়েছে ধারণা; জিতলে বদলে দেবে ইতিহাস। ২০০৫ এবং ২০১৭ সালে মহিলাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারত। ২০১৭ সালে ফাইনাল খেলেছেন হরমনপ্রীত, স্মৃতি মন্ধানা এবং দীপ্তি শর্মা। এবারের ফাইনালেও তাঁরা ভারতের ভরসা।
{{/usCountry}}ধোনি-যুবরাজদের ২০০৭ সালের টি-২০ জয় যেমন আইপিএল-এর জন্ম দিয়েছিল, তেমনই আজকের সাফল্য মেয়েদের ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। হরমনপ্রীত, মান্ধানারা আজ এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, যেখানে জয় মানে শুধু দলের নবজন্ম নয়-একটি মানসিকতার রূপান্তর। ইতিমধ্যে ভারতের মেয়েরা বদলে দিয়েছে ধারণা; জিতলে বদলে দেবে ইতিহাস। ২০০৫ এবং ২০১৭ সালে মহিলাদের বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ভারত। ২০১৭ সালে ফাইনাল খেলেছেন হরমনপ্রীত, স্মৃতি মন্ধানা এবং দীপ্তি শর্মা। এবারের ফাইনালেও তাঁরা ভারতের ভরসা।
{{/usCountry}}
উইমেন ইন ব্লু-কে শুভেচ্ছা বার্তা
বিশ্বকাপ ফাইনালে নামার আগে হরমনপ্রীত, স্মৃতি মন্ধানাদের পরামর্শ দিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন একাধিক বিশ্বসেরা ক্রিকেট তারকা। হোবার্ট থেকেই ভারতের নারী ব্রিগেডকে গুরুমন্ত্র পাঠিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। এক ভিডিও বার্তায় গম্ভীর বলেন, 'ভারতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফদের পক্ষ থেকে মহিলা দলকে ফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ এরপরই পরামর্শ দিয়ে হরমনপ্রীতদের বলেছেন, ‘এই সুযোগটা উপভোগ করো। নির্ভীক থাকার চেষ্টা করো। ভুল হতে পারে ভেবে ভয় পাবে না। তোমরা ইতিমধ্যেই দেশকে গর্বিত করেছ।’ মহিলা দলকে ফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন টি-টোয়েন্টির ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। সূর্যকুমার বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আমাদের মহিলা দলকে শুভেচ্ছা। মাঠে নেমে উপভোগ করো। নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো। এখনও পর্যন্ত তোমরা দুর্দান্ত খেলেছ।’ অন্যদিকে জসপ্রীত বুমরাহ বলেছেন, ‘ম্যাচটা উপভোগ কর। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সুযোগ খুব বেশি পাওয়া যায় না। আলাদা বা বাড়তি কিছু চেষ্টা করার দরকার নেই। খুব ভাল খেলছ তোমরা। নিজেদের উপর আস্থা রাখো এবং উপভোগ করো। মাঠে শুধু নিজেদের সেরাটা দাও। বাকি সব আপনা আপনিই হয়ে যাবে।’
মহিলা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবও। কপিল বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের মেয়েরা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। অনেকে দেখছি মহিলাদের এই দলটাকে আমাদের ৮৩-র দলের সঙ্গে তুলনা করছেন। আমার মতে, এই তুলনাটা ঠিক নয়। মহিলাদের এই দলটা আমাদের থেকে অনেক ভাল। খুব বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলছে। ওদের খেলা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, মহিলাদের ক্রিকেট কোন মানে পৌঁছে গিয়েছে। অধিনায়ক-সহ দলের সকলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে। ওদের খেলার মান সত্যিই দারুণ। আশা করব, ফাইনালে ওরা আরও ভাল ক্রিকেট উপহার দেবে।’