সত্তরের দশকের অন্যতম বোল্ড ও আইকনিক অভিনেত্রী জিনাত আমান (Zeenat Aman)। রূপোলি পর্দায় অগাধ সাফল্য পেলেও, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও সমস্য়ার কথা কারো অজানা নয়। সম্প্রতি প্রয়াত স্বামী মাজহার খান (Mazhar Khan)-এর সঙ্গে দীর্ঘ ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম যন্ত্রণা, প্রতারণা এবং নিঃস্ব হওয়ার কঠিন লড়াই নিয়ে পুরোনো এক সাক্ষাৎকারের স্মৃতি পুনরায় প্রকাশ্যে এল।

প্রয়াত অভিনেতা মাজহার খানের সঙ্গে ১৯৮৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জিনাত। তাঁদের দুই সন্তান— আজান ও জাহান। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় জীবনের চরম দুর্ভোগ।
‘প্রথম বছরই বুঝেছিলাম ভুল করেছি, কিন্তু মানিয়ে নিয়েছিলাম’
সিমি গারেওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিনাত জানিয়েছিলেন, বিয়ের প্রথম বছর যখন তিনি সন্তানসম্ভবা, তখনই জানতে পারেন মাজহার অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। জিনাত বলেন, ‘বিয়ের প্রথম বছরই বুঝে গিয়েছিলাম সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। কিন্তু সবার অমতে বিয়ে করেছিলাম বলে একলাই সব সহ্য করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। প্রথম সন্তান হওয়ার পরই সংসার ভাঙতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়ে যাই।’
৫ বছরের কঠিন ব্যাধি ও নার্সের মতো সেবা
ছোট ছেলের বয়স যখন পাঁচ, জিনাত তখন অভিনয় জগতে ফিরে আসার ও ঘর ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাজহার। মানবিকতার খাতিরে সেই মুহূর্তে স্বামীকে ছেড়ে না গিয়ে টানা পাঁচ বছর ধরে তাঁর সেবা করেন জিনাত।
মুম্বাইয়ের হাসপাতাল থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য স্বামীকে নিয়ে ঘোরেন তিনি।
{{/usCountry}}মুম্বাইয়ের হাসপাতাল থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য স্বামীকে নিয়ে ঘোরেন তিনি।
{{/usCountry}}নার্সিং শেখা:
চিকিৎসকদের পরামর্শে নিজে ইনজেকশন দেওয়া, ড্রেসিং করা এবং ১৮ মাস ধরে মাজহারের শরীরে লাগানো মেডিকেল ব্যাগ বদলানোর মতো কাজও নিজেই শেখেন জিনাত। দিনরাত এক করে সেবা করার ফলে জিনাত নিজেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
পেনকিলার আসক্তি ও ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত
জিনাতের অক্লান্ত চেষ্টায় মাজহার সুস্থ হয়ে উঠলেও, পরবর্তীকালে তিনি অতিরিক্ত প্রেসক্রিপশন ড্রাগ ও পেনকিলারে (ব্যথানাশক ওষুধ) আসক্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদিন প্রায় ৭টি করে ব্যথানাশক বড়ি খাওয়া শুরু করেন তিনি, যা তাঁর কিডনি বিকল হওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানদের কথা ও নিজের সুস্থতার কোনো তোয়াক্কা না করে যখন মাজহার নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে থাকেন, বাধ্য হয়ে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন জিনাত। পরে ১৯৯৮ সালে কিডনি বিকল হয়ে মারা যান মাজহার খান।
‘শেষকৃত্যেও যেতে দেয়নি, সব টাকা কেড়ে নিয়েছিল শ্বশুরবাড়ি’
মাজহারের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের তরফ থেকে চরম নির্মমতার শিকার হতে হয় জিনাতকে। জিনাতের অভিযোগ:'স্বামীকে বাঁচাতে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলাম, অথচ তাঁর মৃত্যুর পর শেষ দেখাটুকুও দেখতে দেওয়া হয়নি আমায়। তাঁর মা ও বোন মাজহারের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয় এবং আমার ছেলেদের আমারই বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল।'
বর্তমান জীবন ও কাজের ফ্রন্ট
সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ ছেলেদের নিয়ে নিজের শর্তে স্বাধীনভাবে বাঁচছেন ৭০ পার করা এই অভিনেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজকাল তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজ ‘দ্য রয়্যালস’ (The Royals)-এ দেখা গিয়েছিল এই প্রবীণ অভিনেত্রীকে।