অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঠিক ৬ দিন আগেই সামনে এসেছিল তাঁর প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যুর খবর। ২০২০ সালের জুন মাসের সেই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। ঘটনার ছয় বছর পর এই হাই-প্রোফাইল মামলায় এক অভূতপূর্ব মোড় এলো। বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের ভার নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করল সিবিআই (CBI)।

মালবাণীর ১২ তলার ফ্ল্যাট থেকে পড়ে গিয়ে দিশার মৃত্যুকে এতদিন আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও, সিবিআইয়ের নতুন এফআইআরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে—গ্যাংরেপ, হত্যা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং পুলিশি রেকর্ডে কারচুপির মতো গুরুত্বর অভিযোগ।
কাদের নাম রয়েছে সিবিআইয়ের এফআইআরে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, দিশার মৃত্যুকে ‘মিথ্যে আত্মহত্যার গল্প’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও আইনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও তৎকালীন পুলিশকর্তার নাম উঠে এসেছে।
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরে, অনিল দেশমুখ, অভিনেতা সূরজ পঞ্চোলি, ডিনো মোরিয়া, রিয়া চক্রবর্তী, শৌভিক চক্রবর্তী ও দিশার বাগদত্তা রোহন রায়ের।
প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং, শচীন বাজে, তৎকালীন ডিসিপি বিশাল ঠাকুর এবং মালবাণী থানার বেশ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারও নাম রয়েছে এফআইআরে।
নাম রয়েছে রিজেন্ট গ্যালাক্সি বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তারক্ষী, দিশার ফ্ল্যাটের পার্টিতে থাকা কয়েকজন বন্ধু এবং আগের এসআইটি (SIT)-র একাধিক প্রবীণ সদস্য। । দিশার বাবার আবেদনের ভিত্তিতেই গত ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় বম্বে হাই কোর্ট।
‘মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে...’, দিশার বাবার বয়ান:
{{/usCountry}}‘মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে...’, দিশার বাবার বয়ান:
{{/usCountry}}গত শুক্রবার সিবিআইয়ের কাছে নিজের বয়ান নথিভুক্ত করান দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান। পরে হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি নিশ্চিত করেন যে এফআইআর দায়ের হয়েছে। দিশার বাবার আইনজীবী নিলেশ ওঝা জানান:
“সিবিআইয়ের কাছে দিশার বাবা স্পষ্ট বয়ান দিয়েছেন যে, দিশা সালিয়ানকে গণধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছিল। তৎকালীন কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ও ব্যক্তি মিলে অপরাধ ঢাকার জন্য আত্মহত্যার ভুয়া গল্প সাজান এবং প্রমাণ লোপাট করেন।”
২৪ বছর বয়সে দিশার মৃত্যুর পর প্রথমে মুম্বাই পুলিশ ও পরবর্তীতে ২০২৩ সালের রাজ্য সরকারের এসআইটি তদন্তে কোনো ‘ফাউল প্লে’ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে বোম্বে হাইকোর্টের নতুন নির্দেশে সিবিআইয়ের এই এফআইআর বলিপাড়া ও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে বিশাল বড় ঝড় তুলে দিল।
এফআইআরে সুশীল কুমার যাদব এবং শিবমুরাদ গৌতম ওরফে মুন্না, প্রীতি রানে, প্রবীণ রানে, অঙ্কিতা সাতুর, ইন্দ্রনীল বৈদ্য, দীপ আজমেরা, হিমাংশু শিখরে, রেশা পাডওয়াল, সতবন্ত সিং, নাভেদ মুজাওয়ার এবং প্রিয়েশ রানে সহ সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের নামও রয়েছে। এফআইআরে আরও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দিশার বাবা একটি বিবৃতি রেকর্ড করেছিলেন সিবিআই শুক্রবার দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ানের বয়ান রেকর্ড করেছিল। এর পরে, একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তার বয়ান রেকর্ড করার পরে দিশা সালিয়ানের বাবা বলেছিলেন- আমি সিবিআইয়ের কাছে আমার বয়ান দিয়েছি, আপনি আগামীকাল এটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। আমি এই মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কথা বলেছি। সোমবার দিশার বাবা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছিলেন যে তিনি জানতে পেরেছেন যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সতীশ সালিয়ানের আইনজীবী কী তথ্য দিয়েছিলেন? সতীশ সালিয়ানের আইনজীবী নীলেশ ওঝা শুক্রবার বলেছিলেন যে দিশার বাবাও তাঁর বক্তব্যে এমন তথ্য দিয়েছেন যা তিনি বোম্বে হাইকোর্টে জানাননি। নীলেশ দিশার বাবার বক্তব্যের মূল বিষয়গুলিও বলেছিলেন। তাঁর মতে, "বিবৃতির মূল বিষয় ছিল দিশা সালিয়ানকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল এবং তারপরে খুন করা হয়েছিল এবং অপরাধটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যার মধ্যে তৎকালীন কিছু পুলিশ অফিসারও জড়িত ছিল। "
24 বছর বয়সে, দিশা সালিয়ান বিশ্বকে বিদায় জানিয়েছিলেন, দিশা সালিয়ান 24 বছর বয়সে মারা যান। মালাডের একটি বিল্ডিংয়ের 12 তম তলা থেকে পড়ে দিশার মৃত্যু হয়। মালওয়ানি পুলিশ এই ঘটনায় একটি দুর্ঘটনার মৃত্যুর রিপোর্ট দায়ের করেছিল। একই সময়ে, তদন্তের পরে, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছিল যে দিশা আত্মহত্যার কারণে মারা গেছেন এবং অন্যায়ের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 2023 সালের ডিসেম্বরে রাজ্য সরকার কর্তৃক গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলও দিশার মৃত্যুতে কোনও অন্যায়ের প্রমাণ পায়নি।