নেই বড় বাজেট, নেই দামি সিনেমা ক্যামেরা! তবুও শুধুমাত্র একটি আইফোন ১২ ব্যবহার করেই নির্মিত হয়েছে সম্পূর্ণ বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র! প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারণাকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বাধীন বাংলা সিনেমায় এক অভিনব দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র ‘মোহনা- টাইডস অফ ডেস্টিনি’ (MOHONA-Tides of Destiny)।

ব্যয়বহুল প্রযুক্তির পরিবর্তে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং গল্প বলার দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্মিত এই ছবি দেখিয়েছে, সীমিত আর্থিক পরিকাঠামোর মধ্যেও কীভাবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। চিশতী টি এম ও তনুময় বিশ্বাস পরিচালিত এই ছবিতে ম্যাজিক রিয়ালিজমের সঙ্গে মিশেছে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং নিয়তির এক রহস্যময় আখ্যান।
আরও পড়ুন: শেষ হয়েও হল না শেষ, এবার থেকে বিগ বসের সিক্রেট রুমে থাকবেন নন্দিনী
ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপূর্ব বর, মৃয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বৃষ্টি রায়। এছাড়াও রয়েছেন কৌশিক গোস্বামী, চিশতী টি এম, অর্পিতা দাস, সুপর্ণ দে, শাশ্বতী গোস্বামী, সঞ্জয় হালদার, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, সৌমিলি নস্কর, সাহানা বসু ভাদুড়ী, জয় মৈত্র, কুন্তল ঘোষাল, সঞ্জীব ঘোষ এবং অলিভিয়া বর। ছবির ডিরেক্টর অফ ফটোগ্রাফি সায়ন সরকার। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন সায়ন সরকার ও সুনিতা আইচ। সংগীত, গীত রচনা ও সুরারোপের দায়িত্বে অভ্রদীপ্ত ব্যানার্জি এবং আবহসংগীতে রাজদীপ দাশগুপ্ত।
চিশতী ক্রিয়েশনস-এর ব্যানারে, প্যারালাল ফিল্মস-এর সহযোগিতায় ছবিটি প্রযোজনা করেছেন চিশতী টি এম। সহ-প্রযোজনায় রয়েছেন হাজিফা খাতুন (ঝর্ণা) ও আবুল খায়ের (মৃদুল)।
{{/usCountry}}চিশতী ক্রিয়েশনস-এর ব্যানারে, প্যারালাল ফিল্মস-এর সহযোগিতায় ছবিটি প্রযোজনা করেছেন চিশতী টি এম। সহ-প্রযোজনায় রয়েছেন হাজিফা খাতুন (ঝর্ণা) ও আবুল খায়ের (মৃদুল)।
{{/usCountry}}প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। সেই পরিবর্তনেরই এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘মোহনা’। একটি আইফোন ১২, ছোট একটি এলইডি লাইট এবং সাধারণ টাংস্টেন বাল্বের আলোতেই সম্পন্ন হয়েছে ছবির শুটিং। সীমিত বাজেট, ন্যূনতম সরঞ্জাম এবং বিকল্প প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারে নির্মিত এই চলচ্চিত্র স্বাধীন নির্মাতাদের সামনে তুলে ধরেছে ব্যয়সাশ্রয়ী চলচ্চিত্র নির্মাণের এক বাস্তবসম্মত পথ।
তবে এই ছবির নির্মাণযাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। আর্থিক প্রতিকূলতার পাশাপাশি বড় প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মুখেও পড়তে হয়েছিল নির্মাতাদের। হার্ড ড্রাইভ বিকল হয়ে নষ্ট হয়ে যায় ছবির সম্পূর্ণ এডিটিং ও সাউন্ড ডিজাইনের কাজ। কিন্তু সেই বিপর্যয়েও থেমে থাকেনি ছবির যাত্রা। নতুন করে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে ছবিটিকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয়। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, আর্থিক চ্যালেঞ্জ এবং সৃজনশীল উদ্ভাবনের এই সমন্বয় স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের এক অনন্য অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন: পারিবারিক ভিডিয়োয় কেন নেই দুর্নিবারের পরিবার? সত্যিটা সামনে আনলেন গায়কের বাবা
গল্প প্রসঙ্গে
ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সাবিনা ও সুলেমান, কলকাতায় সাধারণ জীবন গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা এক দম্পতি। তাঁদের চেনা জীবনের গতিপথ বদলে যায় একটি পুরোনো পিতলের প্রদীপ খুঁজে পাওয়ার পর। সেই প্রদীপকে ঘিরে এক নিষ্পাপ ইচ্ছা অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁদের জীবনকে ঠেলে দেয় প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং ট্র্যাজেডির এক জটিল আবর্তে। বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে অলৌকিক সম্ভাবনার মেলবন্ধনে গল্পটি তুলে ধরেছে মানুষের আকাঙ্ক্ষার অনিশ্চিত পরিণতি এবং সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত ও জীবনের ওপর নিয়তির অদৃশ্য প্রভাব।
বড় বাজেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে ‘মোহনা-টাইডস অফ ডেস্টিনি’। শুধুমাত্র একটি আইফোন ১২ এবং ন্যূনতম আলোকসজ্জার সাহায্যে নির্মিত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখিয়েছে, প্রযুক্তির উদ্ভাবনী প্রয়োগ ও সৃজনশীল পরিকল্পনার মাধ্যমে আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেকটাই অতিক্রম করা সম্ভব। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণে বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বল্প ব্যয়ে প্রযোজনা এবং নতুন প্রজন্মের গল্প বলার ভাষাকে সামনে এনে বাংলা সিনেমার পরিসরে এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে ‘মোহনা’।