...
...
Next Story

Aditi-Debraj Love story: দুই মেরুর মানুষ, ৮ বছরের দাম্পত্য! কীভাবে তৃণমূলের নেতা দেবরাজের প্রেমে পড়েছিলেন অদিতি মুন্সী?

পরস্পরের চিনতেন। তবে আক্ষরিক অর্থে প্রেম ছিল না। পারাবারিক সম্বন্ধ করেই বিয়ে হয় দু'জনের। প্রেমের জার্নি শুরু বিয়ের পর।

Published on: May 20, 2026, 12:05:44 IST
Advertisement

একজন মেতে থাকেন মাঠ-ঘাটের রাজনীতি, মিটিং-মিছিল আর স্লোগানে। অন্যজন মগ্ন থাকেন খোল-করতাল, তানপুরা আর রাধাকৃষ্ণের লীলাকীর্তনে। আপাতদৃষ্টিতে দুই মেরুর বাসিন্দা হলেও, তাঁদের মনের সুর মিলে গিয়েছিল এক লহমায়। কথা হচ্ছে রাজারহাটের যুব তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী এবং বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর। মঙ্গলবার রাতে দেবরাজের আকস্মিক গ্রেফতারির চর্চার পর রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, তখন নেটিজেনদের একাংশের নজর ফিরেছে এই তারকা দম্পতির শুরুর দিনগুলোর দিকে।

দুই মেরুর মানুষ, ৮ বছরের দাম্পত্য! কীভাবে তৃণমূলের নেতা দেবরাজের প্রেমে পড়েছিলেন অদিতি মুন্সী?
দুই মেরুর মানুষ, ৮ বছরের দাম্পত্য! কীভাবে তৃণমূলের নেতা দেবরাজের প্রেমে পড়েছিলেন অদিতি মুন্সী?

শুরুর সেই দিনগুলো ও প্রথম আলাপ:

অদিতি ও দেবরাজের প্রথম আলাপ কিন্তু রাজনীতির ময়দানে হয়নি। রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার অত্যন্ত চেনা মুখ এবং কাউন্সিলর ছিলেন দেবরাজ। অদিতি তখন সারেগামাপা-র সুবাদে বেশ নাম করেছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুবাদে পরিচিতি থাকলেও প্রেম ছিল না দু'জনের। বাগুইহাটির মেয়ের সঙ্গে দেখাশোনা করে বিয়ে হয় দেবরাজের। দুই পেশাতে দু'জনেই ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। সুবক্তা ও সুপুরুষ দেবরাজের ব্যবহার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল অদিতির। অন্যদিকে, অদিতির গায়কী আর স্নিগ্ধ রূপ মন কেড়েছিল দেবরাজের।

সোজা বিয়ের প্রস্তাব:

প্রথম আলাপের পর ফোন নম্বর আদানপ্রদান এবং অল্প কিছুদিনের আলাপেই দেবরাজ বুঝতে পেরেছিলেন, অদিতির সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। দুই পরিবারের সম্মতিতে নতুন জীবন শুরু করেন দুজনে।

পাকপ্রণালী মেনে ছিমছাম বিয়ে:

২০১৮ সালের শীতে চার হাত এক হয় দেবরাজ ও অদিতির। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং সনাতনী বাঙালি নিয়ম মেনেই বসেছিল বিয়ের আসর। অদিতির পরনে ছিল সাবেকি লাল বেনারসি, কপালে চন্দন আর মাথায় মুকুট। আর দেবরাজ সেজেছিলেন ধুতি-পাঞ্জাবিতে। টলিউডের তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চাঁদের হাট বসেছিল তাঁদের রিসেপশনে। বিয়ের পর অদিতি সংবাদমাধ্যমে হেসে বলেছিলেন, ‘ও রাজনীতির মানুষ হলেও ভীষণ কেয়ারিং। আমার গানকে ও সবচেয়ে বেশি সম্মান করে।’

বিয়ের পর অদিতির সঙ্গীতজীবনে যেমন দেবরাজ সবসময় পাশে থেকেছেন, তেমনই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে অদিতি যখন সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন, তখন তাঁর প্রধান স্তম্ভ ছিলেন স্বামী দেবরাজ। রাজারহাট-গোপালপুর আসন থেকে অদিতির টিকিট পাওয়া এবং বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার নেপথ্যে দেবরাজের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি ও জনসংযোগ বড় ভূমিকা পালন করেছিল।

রাজনীতি আর সুরের এই মেলবন্ধন গত কয়েক বছর ধরে ছিল টলিপাড়ার অন্যতম ‘হ্যাপি কাপল গোলস’। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও অদিতিতে আস্থা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিজেপির তরুণজ্য়োতি তিওয়ারির কাছে হারের মুখ দেখেন অদিতি। নির্বাচনের আগেই সদ্য মা হয়েছেন, একরত্তিকে সামলে সেরেছেন ভোটপ্রচার। তবে রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দারা আস্থা রাখেনি গায়িকার উপর। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতা এবং দেবরাজের আটক হওয়াকে ঘিরে যে অদিতি মুন্সীর জীবনে এক কঠিন পরীক্ষা এনে দাঁড় করাল, তা বলাই বাহুল্য। দেবরাজকে কোনও এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আটক করেছে বলে চর্চা, তবে এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe