একজন মেতে থাকেন মাঠ-ঘাটের রাজনীতি, মিটিং-মিছিল আর স্লোগানে। অন্যজন মগ্ন থাকেন খোল-করতাল, তানপুরা আর রাধাকৃষ্ণের লীলাকীর্তনে। আপাতদৃষ্টিতে দুই মেরুর বাসিন্দা হলেও, তাঁদের মনের সুর মিলে গিয়েছিল এক লহমায়। কথা হচ্ছে রাজারহাটের যুব তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী এবং বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর। মঙ্গলবার রাতে দেবরাজের আকস্মিক গ্রেফতারির চর্চার পর রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, তখন নেটিজেনদের একাংশের নজর ফিরেছে এই তারকা দম্পতির শুরুর দিনগুলোর দিকে।

শুরুর সেই দিনগুলো ও প্রথম আলাপ:
অদিতি ও দেবরাজের প্রথম আলাপ কিন্তু রাজনীতির ময়দানে হয়নি। রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার অত্যন্ত চেনা মুখ এবং কাউন্সিলর ছিলেন দেবরাজ। অদিতি তখন সারেগামাপা-র সুবাদে বেশ নাম করেছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুবাদে পরিচিতি থাকলেও প্রেম ছিল না দু'জনের। বাগুইহাটির মেয়ের সঙ্গে দেখাশোনা করে বিয়ে হয় দেবরাজের। দুই পেশাতে দু'জনেই ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। সুবক্তা ও সুপুরুষ দেবরাজের ব্যবহার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল অদিতির। অন্যদিকে, অদিতির গায়কী আর স্নিগ্ধ রূপ মন কেড়েছিল দেবরাজের।
সোজা বিয়ের প্রস্তাব:
প্রথম আলাপের পর ফোন নম্বর আদানপ্রদান এবং অল্প কিছুদিনের আলাপেই দেবরাজ বুঝতে পেরেছিলেন, অদিতির সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। দুই পরিবারের সম্মতিতে নতুন জীবন শুরু করেন দুজনে।
পাকপ্রণালী মেনে ছিমছাম বিয়ে:
২০১৮ সালের শীতে চার হাত এক হয় দেবরাজ ও অদিতির। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং সনাতনী বাঙালি নিয়ম মেনেই বসেছিল বিয়ের আসর। অদিতির পরনে ছিল সাবেকি লাল বেনারসি, কপালে চন্দন আর মাথায় মুকুট। আর দেবরাজ সেজেছিলেন ধুতি-পাঞ্জাবিতে। টলিউডের তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চাঁদের হাট বসেছিল তাঁদের রিসেপশনে। বিয়ের পর অদিতি সংবাদমাধ্যমে হেসে বলেছিলেন, ‘ও রাজনীতির মানুষ হলেও ভীষণ কেয়ারিং। আমার গানকে ও সবচেয়ে বেশি সম্মান করে।’
রাজনীতিতে অদিতির এন্ট্রি ও স্বামীর ছায়া:
{{/usCountry}}রাজনীতিতে অদিতির এন্ট্রি ও স্বামীর ছায়া:
{{/usCountry}}বিয়ের পর অদিতির সঙ্গীতজীবনে যেমন দেবরাজ সবসময় পাশে থেকেছেন, তেমনই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে অদিতি যখন সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন, তখন তাঁর প্রধান স্তম্ভ ছিলেন স্বামী দেবরাজ। রাজারহাট-গোপালপুর আসন থেকে অদিতির টিকিট পাওয়া এবং বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার নেপথ্যে দেবরাজের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি ও জনসংযোগ বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
রাজনীতি আর সুরের এই মেলবন্ধন গত কয়েক বছর ধরে ছিল টলিপাড়ার অন্যতম ‘হ্যাপি কাপল গোলস’। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও অদিতিতে আস্থা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিজেপির তরুণজ্য়োতি তিওয়ারির কাছে হারের মুখ দেখেন অদিতি। নির্বাচনের আগেই সদ্য মা হয়েছেন, একরত্তিকে সামলে সেরেছেন ভোটপ্রচার। তবে রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দারা আস্থা রাখেনি গায়িকার উপর। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতা এবং দেবরাজের আটক হওয়াকে ঘিরে যে অদিতি মুন্সীর জীবনে এক কঠিন পরীক্ষা এনে দাঁড় করাল, তা বলাই বাহুল্য। দেবরাজকে কোনও এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আটক করেছে বলে চর্চা, তবে এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও সামনে আসেনি।