বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের (Nana Patekar) আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন জগৎ। গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নিয়েছেন ৭৫ বছর বয়সী এই প্রখ্যাত তারকা। এবার তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডঃ শেখর সালকার। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডঃ সালকার জানান, সঠিক সময়ে মেসেজ না দেখা এবং গভীর রাতের কারণে সাহায্য পৌঁছাতে যে সামান্য বিলম্ব হয়েছিল, যার জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

রাত ২:৩০ থেকে ভোর ৫:৩০: শেষ তিন ঘণ্টার ট্র্যাজেডি
রাত ২.৩০: হাসপাতাল ও চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটে নাগাদ নানা পাটেকর শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন এবং তাঁর এক বন্ধুকে মেসেজ করে জানান যে তিনি ভালো বোধ করছেন না। তবে তা ছিল গভীর রাত, তাই বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে সেই বার্তা দেখতে পাননি।
ভোর ৪:০০ (বন্ধু ও কেয়ারটেকারের চেষ্টা): ভোর ৪টে নাগাদ বার্তাটি নজরে আসায় বন্ধুটি সঙ্গে সঙ্গে নানাকে ফোন করেন এবং তড়িঘড়ি তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন অভিনেতার শরীর মারাত্মক ঘেমে গেছে এবং তিনি ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছেন।
ভোর ৪:২০ - ৪:৩০ (অ্যাম্বুলেন্স ও কার্ডিয়াক মাসাজ): দ্রুত কেয়ারটেকারকে হাসপাতালে পাঠিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। জরুরি চিকিৎসা দল (ER Team) পৌঁছে দেখে অভিনেতা সম্পূর্ণ সাড়াহীন (Unresponsive)। তখনই তাঁকে কার্ডিয়াক মাসাজ দেওয়া শুরু হয় এবং ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ভোর ৫:৩০ (মৃত ঘোষণা): হাসপাতালে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা টানা 'সিপিআর' ও কার্ডিয়াক মাসাজ দিয়ে হৃদযন্ত্র সচল করার চেষ্টা করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। ভোর ৫:৩০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায় (MLC) এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় অভিনেতার সাথে পরিবারের কেউ না থাকলেও তাঁর কিছু বন্ধু ও কেয়ারটেকার উপস্থিত ছিলেন। পরিবারে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী নীলকান্তি, পুত্র মল্লার পাটেকর এবং দুই ভাই অশোক ও দিলীপ পাটেকরকে। অভিনেতার মৃত্যুতে দায়ের হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত আইনি মামলা।
{{/usCountry}}ভোর ৫:৩০ (মৃত ঘোষণা): হাসপাতালে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা টানা 'সিপিআর' ও কার্ডিয়াক মাসাজ দিয়ে হৃদযন্ত্র সচল করার চেষ্টা করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। ভোর ৫:৩০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায় (MLC) এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় অভিনেতার সাথে পরিবারের কেউ না থাকলেও তাঁর কিছু বন্ধু ও কেয়ারটেকার উপস্থিত ছিলেন। পরিবারে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী নীলকান্তি, পুত্র মল্লার পাটেকর এবং দুই ভাই অশোক ও দিলীপ পাটেকরকে। অভিনেতার মৃত্যুতে দায়ের হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত আইনি মামলা।
{{/usCountry}}তারকাদের শোকবার্তা ও নানার শেষ কাজ
নানা পাটেকরের প্রয়াণে জুনিয়র এনটিআর, অক্ষয় কুমার, রিতেশ দেশমুখ, কিয়ারা আদভানি ও রকুল প্রীত সিং সহ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শেষ ছবি ও প্রজেক্ট: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিপ্রাপ্ত বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ (O'Romeo) ছবিতে শাহিদ কাপুর ও ট্রিপটি ডিমরির সাথে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বক্স অফিসে ছবিটি আশানুরূপ না চললেও সমালোচকদের প্রশংসায় ভেসেছিলেন নানা। ওটিটি-তে কাজ: প্রাইম ভিডিওর ‘সুবেদার’ (Subedaar) ছবিতে বিশেষ উপস্থিতি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এমএক্স প্লেয়ারের প্রকাশ ঝা পরিচালিত সামাজিক-রাজনৈতিক ড্রামা সিরিজ ‘সংকল্প’ (Sankalp)-এ তাঁর শেষ পারফর্ম্যান্স দর্শকরা উপভোগ করেছেন।