বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খানের সৎ ভাই হায়দর আলি খানকে খুব কম মানুষই চেনেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন হায়দরের প্রাক্তন স্ত্রী ও অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার।

সিদ্ধার্থ কাননকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইভা জানান, ২০০০ সালে পরিবারের অমতে বাড়ি থেকে পালিয়ে হায়দরকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে বিয়ের আগে তিনি জানতেন না, হায়দর সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন। ইভার অভিযোগ, মানসিক অসুস্থতার পাশাপাশি মদ্যপানের নেশাও ছিল হায়দরের। সম্পর্কের সময় শারীরিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি অন্তরঙ্গ মুহূর্তেও তিনি আঘাত পেতেন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের দাম্পত্যের ইতি টানেন তিনি।
ইভার দাবি, বিয়ের আগে আমির খান তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তখন তিনি সেই পরামর্শ শোনেননি। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনাও হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।
বর্তমানে হায়দরের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় বলেও দাবি করেছেন ইভা। তাঁর কথায়, ‘আজ হায়দরের কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। কখনও কেউ তাঁকে চওলে (বস্তিতে) থাকতে দেয়, কখনও কোনও বন্ধু আশ্রয় দেয়। এমনকী খাবারের জন্যও তাঁকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। যা হয়েছে, তা অতীত। কিন্তু মানবিকতার জায়গা থেকে এখনও ওর জন্য খারাপ লাগে। একসময় ও আমার স্বামী ছিল।’
তিনি আরও বলেন, একসময় হায়দরের চারপাশে এমন মানুষজন ছিলেন, যারা তাঁকে আরও মদ্যপানের দিকে ঠেলে দিতেন। এখন তাঁর দেখভাল করার মতোও কেউ নেই। ইভার প্রার্থনা, জীবনের শেষ পর্বে অন্তত হায়দর যেন শান্তি পান।
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, একসময় হায়দরের চারপাশে এমন মানুষজন ছিলেন, যারা তাঁকে আরও মদ্যপানের দিকে ঠেলে দিতেন। এখন তাঁর দেখভাল করার মতোও কেউ নেই। ইভার প্রার্থনা, জীবনের শেষ পর্বে অন্তত হায়দর যেন শান্তি পান।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, আমির খানের বাবা তাহির হুসেন দু'বার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী জিনাত হুসেনের সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন আমির খান। পরে তিনি শাহনাজকে বিয়ে করেন। শাহনাজের প্রথম পক্ষের ছেলে ছিলেন হায়দর আলি খান। সেই সূত্রেই হায়দর ছিলেন আমির খানের সৎ ভাই।
আমির খানের বাবা তাহির হুসেনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। তিনি প্রথমে জিনাত হুসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন যার সাথে তার চারটি সন্তান ছিল। আমির খান ও তার তিন ভাইবোন। শাহনাজের সঙ্গে তাহির হুসেন দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন। শেহনাজের প্রথম বিবাহ থেকে দুটি কন্যা ছিল, হায়দার আলী খান। এই সম্পর্ক থেকে মনে হচ্ছিল তারা আমিরের সৎ ভাই।