‘এবার মলে সুতো হবো, তাঁতির ঘরে জন্ম লবো। পাছা পেড়ে শাড়ি হয়ে দুলবো তোমার কোমরে….’, মৌছাক ছবিতে এমনই সুপ্ত বাসনা রেখেছিলেন উত্তম কুমার। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে উত্তম কুমারের সেই রোম্যান্স আজও অমলিন। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারে সেই লেখনি মিলে গেল উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষে। ঋতুপর্ণার 'পাছা'পেড়ে শাড়ি হয়ে কোমরে দুললেন উত্তম-সুচিত্রা। এমনকি নায়িকার শাড়ির পাড়েও মহানায়ক-মহানায়িকা। এই পথ যদি না শেষ হয় গানের নানান দৃশ্যের ছবি দিয়েই সাজানো ছিল ঋতুপর্ণার শাড়ি।

মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মরণে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ শাড়ি পরে উপস্থিত হয়ে তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় অভিনেত্রীকে।টলিউডের ‘কুইন’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং বিতর্ক— যেন একে অপরের পরিপূরক। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, স্রেফ প্রচারের আলোয় থাকার জন্যই নাকি এই ‘ফ্যাশন স্টেটমেন্ট’! চরম সমালোচনার মুখেও পড়েন ঋতুপর্ণা। তবে এবার আর চুপ থাকা নয়, অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রোলারদের যোগ্য জবাব দিলেন তাঁর ভ্রাতৃসম নৃত্যশিল্পী ও সহকর্মী অভিরূপ সেনগুপ্ত।
অভিনেত্রীর সমর্থনে অভিরূপের ক্ষোভ:
অভিনেত্রীকে ঘিরে চলা এই সস্তা সমালোচনার তীব্র বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিরূপ। তিনি ট্রোলারদের মানসিকতা ও রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকটি স্পষ্ট যুক্তি সামনে এনেছেন। অভিরূপ মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে বাংলা, হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও বাংলাদেশের ছবিতে দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন ঋতুপর্ণা। প্রচারের আলোয় থাকার জন্য ওঁর আলাদা করে শাড়ি পরার প্রয়োজন পড়ে না।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়:
{{/usCountry}}শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়:
{{/usCountry}}শাড়িটি কোনও ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে পরা হয়নি। মহানায়কের শতবর্ষ উদযাপনে তাঁকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। এমনকী উত্তম কুমারের পরিবারের অনুমতি ও সম্মতি নিয়েই ঋতুপর্ণা এই শাড়িটি পরিধান করেছিলেন। পরিবারের যেখানে আপত্তি নেই, সেখানে বাইরের লোক প্রশ্ন তোলার কে?
শিল্পী হিসেবে যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানেই কোনো রাজনৈতিক দলের ছাপ গায়ে লেগে যাওয়া নয়। তিনি আগেও বিভিন্ন সরকারের অনুষ্ঠানে কাজ করেছেন, কিন্তু নিজে কোনোদিন সক্রিয় রাজনীতিতে আসেননি বা ভোটে দাঁড়াননি, জানান অভিরূপ।
সোশ্যাল মিডিয়ার সস্তা কটাক্ষ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিরূপ জানান, ট্রোল করার সময় মানুষ নিজেদের নিম্নমানের রুচি প্রদর্শন করেন। কিন্তু একজন শিল্পীর সারা জীবনের পরিশ্রম আর কাজের পরিধিকে এভাবে এক মুহূর্তে ধুয়ে মুছে ফেলা অত্যন্ত অন্যায়।
বিতর্ক যার পিছু ছাড়ে না, সেই ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নিজে এ বিষয়ে মুখ না খুললেও, অভিরূপের এই কড়া ও যুক্তিনিষ্ঠ জবাব টলিপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনুরাগী থেকে শুরু করে সংস্কৃতি জগতের অনেকেই অভিরূপের এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন।