দুর্গাপুজোর দিন গোনা শুরু হতেই তিলোত্তমা কলকাতার চেনা ছবি— উপচে পড়া ভিড়, কেনাকাটার ধুম এবং তার সঙ্গেই শিয়রে শমন হয়ে দাঁড়ানো স্তব্ধ ট্রাফিক! পুজোর ঠিক মুখে কলকাতার রাস্তার এই বেহাল যানজট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। টানা ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট গাড়িতে আটকে থেকে জীবনে প্রথমবার ট্রেন মিস করার মনখারাপের গল্প শোনালেন তিনি।

‘আগে ল্যাজেগোবরে, পুজো এলেই মাখন!’
কলকাতা ট্রাফিকের এই অদ্ভুত সমীকরণ তুলে ধরে অনিন্দ্য নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন— পুজোর ঠিক আগের দিনগুলোতে কলকাতার ট্রাফিক পুলিশ বা পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা কীভাবে ‘ল্যাজেগোবরে’ হয়ে যায়, তা নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। এই সময়ে ট্রাফিক পুলিশকে মার্কস দিলে ‘লেটার মার্কস’ তো দূরের কথা, পাস মার্কস পাওয়া নিয়েই সন্দেহ থেকে যায়!
তবে মজার বিষয় হলো, পুজো শুরু হওয়ার সাথে সাথেই সেই ট্রাফিক ব্যবস্থাই যেন হঠাৎ ম্যাজিকের মতো ‘লেটার মার্কস’ নিয়ে পাস করে যায় এবং রাস্তাঘাট একেবারে ‘মাখন’ হয়ে ওঠে। অভিনেতার মতে, এটা কলকাতার পুজোর এক চিরন্তন অদ্ভুত নিয়ম, যা সিপিআইএম সরকারের আমল থেকেই শুরু হয়েছিল, তৃণমূলের সময়ে আরও উন্নত হয়েছে এবং এবারও হয়তো পুজোয় দুর্দান্ত ট্রাফিক সামলানো দেখা যাবে।
জীবনে প্রথমবার ট্রেন মিস!
তবে এই অভিজ্ঞতার মূল ধাক্কাটা তিনি পেয়েছেন সাউথ কলকাতা থেকে কলকাতা স্টেশনে যাওয়ার পথে। অনিন্দ্য জানান, জীবনে কোনোদিন তিনি ফ্লাইট বা ট্রেন মিস করেননি। ঝুঁকি না নিয়ে চিরকাল নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে স্টেশনে বা বিমানবন্দরে বসে থাকাটাই তাঁর স্বভাব।
কিন্তু পুজোর আগের কলকাতার জ্যাম সেই অভ্যাসেও জল ঢেলে দিল! টানা ২.৪৫ ঘণ্টা (পৌনে তিন ঘণ্টা) গাড়িতে আটকে থেকেও দক্ষিণ কলকাতা থেকে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। ফলে জীবনে প্রথমবার ট্রেন হাতছাড়া হয় তাঁর।
{{/usCountry}}কিন্তু পুজোর আগের কলকাতার জ্যাম সেই অভ্যাসেও জল ঢেলে দিল! টানা ২.৪৫ ঘণ্টা (পৌনে তিন ঘণ্টা) গাড়িতে আটকে থেকেও দক্ষিণ কলকাতা থেকে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। ফলে জীবনে প্রথমবার ট্রেন হাতছাড়া হয় তাঁর।
{{/usCountry}}‘আমারই দুপুরে গিয়ে বসে থাকা উচিত ছিল’— নিজের ভুল স্বীকার:
কোনো রকম ক্ষোভ বা শাসনব্যবস্থাকে দোষ না দিয়ে অত্যন্ত সততার সঙ্গে অনিন্দ্য নিজের ভুলেই ট্রেন মিস হয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘নিজের ব্যর্থতা জনসমক্ষে স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই, আমারই ভুল। আমার দুপুরে গিয়ে স্টেশনে বসে থাকা উচিত ছিল!’
পুজোর মুখে তিলোত্তমার রাস্তায় ট্রাফিকের এই হাল নিয়ে অনিন্দ্যর এই পোস্ট এখন নেটপাড়ায় হু হু করে ভাইরাল। শহরের সাধারণ মানুষের সিংহভাগই তাঁর এই ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারছেন।