দেশজুড়ে NEET-UG পরীক্ষা বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে লদাখের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-এর আমরণ অনশন আন্দোলন আজ ২০তম দিনে পদার্পণ করেছে। দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থা যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তা নিয়ে এবার গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমল (Jeetu Kamal)।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে জীতু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সোনম নিজের ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে এই লড়াই লড়ছেন না, লড়ছেন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কিছুটা সংবেদনশীলতা এবং আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান খোঁজার আকুল আর্জি জানিয়েছেন অভিনেতা।
‘মাংসপেশী ভাঙছে, ইউরিক অ্যাসিড বাড়ছে’— সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা
জীতু কমল তাঁর পোস্টে সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান আশঙ্কাজনক শারীরিক পরিস্থিতির খতিয়ান তুলে ধরেছেন। ২০ দিন ধরে খাবার না থাকায় তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনশনের জেরে ইতিমধ্যেই সোনমের ওজন প্রায় ৯ কিলোগ্রাম কমে গেছে। তাঁর বর্তমান রক্তচাপ (Blood Pressure) দাঁড়িয়েছে ১০৫/৬১-এ। শরীরে মাংসপেশী ভাঙতে শুরু করেছে এবং ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।
এই কঠিন বাস্তব তুলে ধরে জীতু প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দেশের সরকারের কাছে একটু সংবেদনশীলতা আশা করতে পারি না আমরা? একটু আলোচনাই তো। তারপর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সে তো আপনাদেরই হাতে।’
২. শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা বিতর্ক ও জীতুর অবস্থান
{{/usCountry}}২. শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা বিতর্ক ও জীতুর অবস্থান
{{/usCountry}}পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায়ে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুললেও, জীতু কোনো রাজনৈতিক তর্কে জড়াতে চাননি। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা দেবেন কিনা বা দেওয়া উচিত কিনা, সেই তর্কে না ঢুকেও বলতে চাই, সরকারের তরফে সোনমের সঙ্গে একবার আলোচনাতেও কি বসা যায় না? শোনা যায় না ওঁর কথা?’ একজন বিশিষ্ট ভারতীয় নাগরিক ২০ দিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় বসে আছেন, তাই ওঁর কথা শোনা সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
‘আইস স্তূপা’ থেকে শিক্ষা সংস্কার: সোনমের অবদানকে কুর্নিশ
লদাখের দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবেশ রক্ষায় সোনমের আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত কাজগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন জীতু। তিনি উল্লেখ করেন যে, সোনম শিক্ষার্থীদের কেবল পুঁথিগত নয়, বাস্তবমুখী ও সৃজনশীল শিক্ষার পথ দেখিয়েছেন। এছাড়াও লদাখের জলসংকট দূর করতে ওঁর তৈরি ‘আইস স্তূপা’ (Ice Stupa) প্রকল্প এবং হিমালয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই সর্বজনবিদিত।
জীতু অত্যন্ত পরিপক্বভাবে যোগ করেন, 'তাঁর সব মতামতের সঙ্গে সবাই একমত হবেন, এমন নয়। কিন্তু একজন ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষাবিদ এবং দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মানুষের কথা শোনা, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা এবং গণতান্ত্রিক পথে সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাদের সবার, বিশেষ করে সরকারের। আলোচনা হোক। মতভেদ থাকুক, তবুও আলোচনা তো হোক।'