শিরোনামটা পড়ে চমকে উঠলেন তো? অবাক হওয়ারই কথা। যেখানে ১৮ বছর বয়সে ভারতীয় নাগরিকরা গণতান্ত্রিক অধিকার হাতে পান, সেখানে একজন সুপরিচিত অভিনেতা জীবনের প্রথম ভোটটি দিতে সময় নিলেন দীর্ঘ ৩৮ বছর! না, তিনি উদাসীন ছিলেন না, বরং বারবার আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থার বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলেন অভিনেতা রাজা চট্টোপাধ্যায়। অবশেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নিজের ভোট নিজে দিলেন তিনি।

সেই তিক্ত স্মৃতির ১৮:
রাজা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, ১৮ বছর বয়সে ভোটার কার্ড পাওয়ার পর উত্তেজনার শেষ ছিল না। রোদে পুড়ে, ঘেমে-নেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যখন বুথে পৌঁছালেন, তখন শুনতে হলো— “আপনার ভোট তো আগেই পড়ে গেছে!” সেই কিশোর মনের রাগ আর অভিমানে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর কোনোদিন ভোটের পথ মাড়াবেন না।
কাগজে-কলমে ‘মৃত’ রাজা:
সময় বদলালে ভাবনাও বদলায়। মাঝবয়সে নাগরিক দায়িত্ব পালনের টানে আবারও একবার বুথে গিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেখানে গিয়ে অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ! রাজা জানতে পারলেন, সরকারি খাতায় তিনি আর জীবিতই নন— তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দ্বিতীয়বার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নির্বাচন থেকে নিজেকে চিরতরে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
৫৭-তে নতুন অস্তিত্ব:
উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতায় ঠিকানা বদলানোর পর ২০২৬ সালে নতুন করে ভোটার কার্ড তৈরি হয় রাজার। অনেক মানুষের সহযোগিতায় অবশেষে এই বছর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রাজা লিখছেন, “আমি যেহেতু অভিনেতা, অনেকেই ভালোবাসেন। অনেকে ফোন করে রিকশা পাঠাতে চাইলেন, সাহায্য করতে চাইলেন। আমি শুধু বলেছিলাম, লাইনে দাঁড়ানোটা আমার জন্য কঠিন, কেউ যদি একটু সাহায্য করে।”
এক ছোট ভাইয়ের বাইকে চেপে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সেখানকার কর্মীদের সহায়তায় দীর্ঘ লাইনের ঝক্কি এড়িয়ে অবশেষে ইভিএম-এর সামনে দাঁড়ালেন অভিনেতা। বিদ্রুপ করে তাঁর এক ছোট ভাই বলেই ফেলল, “দাদা তুমি আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট, আমি তোমার চেয়ে ভোটদানে সিনিয়র!”
{{/usCountry}}এক ছোট ভাইয়ের বাইকে চেপে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সেখানকার কর্মীদের সহায়তায় দীর্ঘ লাইনের ঝক্কি এড়িয়ে অবশেষে ইভিএম-এর সামনে দাঁড়ালেন অভিনেতা। বিদ্রুপ করে তাঁর এক ছোট ভাই বলেই ফেলল, “দাদা তুমি আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট, আমি তোমার চেয়ে ভোটদানে সিনিয়র!”
{{/usCountry}}নিজের কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়া:
১৮ বছরের সেই উত্তেজনা আজ হয়তো নেই, কিন্তু ৫৭ বছরের রাজার কাছে এই ভোটদানের অনুভূতি অনেক বেশি গভীর। অভিনেতা আবেগপ্রবণ হয়ে লিখেছেন, “দীর্ঘ ৩৮ বছর পর নিজের অধিকার নিজে প্রয়োগ করার আনন্দ— এটা ভাষায় বোঝানো কঠিন। আজ আমি ভীষণ খুশি, ভীষণ গর্বিত। এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে শুধু একটা ভোট নয়, এটা নিজের অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার মতো।”
রাজা চট্টোপাধ্যায়ের এই গল্প কেবল এক ভোটারের কাহিনী নয়, বরং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ত্রুটি আর নাগরিকের জেদ বজায় রাখার এক অনন্য নজির। অভিনেতার শেষ কথা— “আপনার ভোট, আপনার কণ্ঠস্বর। নিজের অধিকারকে গুরুত্ব দিন।”