বাংলাদেশি ছোটপর্দর অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া)-র জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত। স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান এই অভিনেতা। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে অভিনেতাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ইকরার মৃত্যু
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) ওপার বাংলার রাজধানী ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘর থেকে ইকার ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিল। পরে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ঘটনার সময় অভিনেতা জাহের আলভী শ্যুটিং বা ব্যক্তিগত কারণে নেপালে অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে স্ত্রীর আত্মহত্যার খবরটি শেয়ার করেছিলেন।
শ্বশুরের দায়ের করা মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ
ইকরার মৃত্যুর দিন রাতেই তাঁর বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে স্পষ্ট করে বলা হয়— জাহের আলভীর সঙ্গে তাঁর মেয়ের দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ চলছিল। আলভী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ধরণের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল ইকরার, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় জাহের আলভীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির আওতায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।
প্রসঙ্গতো, ২০১০ সালে আলভী ও ইকরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, ভালোবাসার বিয়ে ছিল তাঁদের। এবং তাঁদের এক পাঁচ বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গতো, ২০১০ সালে আলভী ও ইকরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, ভালোবাসার বিয়ে ছিল তাঁদের। এবং তাঁদের এক পাঁচ বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে।
{{/usCountry}}আদালতে জামিন নামঞ্জুর
সরকারি আইনজীবী হারুন অর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আত্মসমর্পণ করার পর জাহের আলভী-র তরফ থেকে জামিনের জোরালো সওয়াল করা হয়েছিল। তবে সরকারি কৌঁসুলি তার বিরোধিতা করে। স্পষ্ট জানায়, ইকরাকে বারবার আত্মহত্যা করার কথা বলতেন আলভী। তাঁর একাধিক মেয়ের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আদালত সমস্ত নথি ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং অভিনেতাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।