উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ১৯ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ও অসংখ্য দর্শনার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে গোটা শহরজুড়ে। এই বিপর্যয়ের পর রাজ্য সরকারের আর্থিক সাহায্য ও চাকরি ঘোষণার পরই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সোচ্চার হয়ে এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অরিজিতা মুখোপাধ্যায়। যাঁকে দর্শক চেনে বাবুউর মা হিসাবেই।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সিভিক ভলান্টিয়ার নির্ভরতা:
অরিজিতা প্রশ্ন তুলেছেন এবছর পুজোর ট্রাফিক এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতি নিয়ে। তিনি লেখেন, ‘এবছর পুজোর ট্রাফিক জুড়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঘটছে, পুলিশ নেই! সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে কত পরিস্থিতি সামলাবেন? প্রশাসন এবং সরকার তার কোনো দায়িত্ব নেননি কেন?’
আর্থিক সাহায্য নিয়ে তীব্র কটাক্ষ:
চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য ঘোষিত আর্থিক ক্ষতিপূরণকে তীব্র আক্রমণ করে নিম ফুলের মধু খ্যাত অরিজিতা প্রশ্ন তোলেন, ‘সপ্তমীর গোড়ায় চোরবাগানে যাদের প্রাণ চলে গেল, তাঁদের জীবন টাকা দিয়ে ফিরিয়ে আনা যাবে তো?’
‘সিট অফার’ কটাক্ষ:
আরজি কর কাণ্ড-সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে সরকারের চাকরি ও ক্ষতিপূরণ নীতিকে সরাসরি নিশানায় এনে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। অরিজিতা প্রশ্ন করেন, ‘নাকি এরপর রত্না দেবীর মতো তাঁদেরকেও একটা করে সিট (SIT) অফার করে দেবেন?’
চোরবাগান ট্র্যাজেডির পর শিল্পী ও বিনোদন জগতের একের পর এক ব্যক্তিত্বের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ প্রকাশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উৎসবের মাঝেই দুর্গাপুজোর সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।
{{/usCountry}}চোরবাগান ট্র্যাজেডির পর শিল্পী ও বিনোদন জগতের একের পর এক ব্যক্তিত্বের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ প্রকাশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উৎসবের মাঝেই দুর্গাপুজোর সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে।
{{/usCountry}}এদিন দুর্ঘটনার খবর কানে যেতেই তড়িঘড়ি মেডিক্যাল কলেজে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দুর্ঘটনাস্থলেও পৌঁছান। তিনি জানান, ‘কতর্ব্যে গাফিলতি হয়ে থাকতে পারে…’। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য সরকার এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে— চোরবাগান ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো প্রতিটি নিহতের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে এবং পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে হোম গার্ড বা সরকারি সংস্থায় বিশেষ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমস্ত আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। গুরুতর আহতদের জন্য আলাদা আর্থিক সহায়তার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশ দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এককালীন ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়ে চোরবাগান কাণ্ডে ইতিমধ্যেই পুজো উদ্যোক্তা, বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তাকর্মী, ভলেন্টিয়ার-সহ মোট ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।