প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। সত্তরের দশকে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের জগতে নিজের সতেজ অভিনয় এবং মিষ্টি হাসিতে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। বাণিজ্যিক সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে সমান্তরাল ছবিতেও তার সাবলীল উপস্থিতি তৎকালীন ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। গত ১ বছর ধরে লড়ছিলেন ক্যানসারের সঙ্গে। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১।
উত্তম কুমারের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার ও ‘মৌচাক’-এর সাফল্য

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের আত্মপ্রকাশ। তবে ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তরুণ মজুমদার পরিচালিত কালজয়ী হাস্যরসাত্মক ছবি 'মৌচাক' তাঁকে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত হয়। এর পর ১৯৭৯ সালে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত 'গণদেবতা' ছবিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।
হিন্দি সিনেমায় ‘চিতচোর’
শুধু আঞ্চলিক বাংলা ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি, পাড়ি জমিয়েছিলেন বলিউডেও। বিখ্যাত পরিচালক বাসু চ্যাটার্জির ১৯৭৬ সালের হিট ছবি 'চিতচোর'-এ অভিনেতা অমল পালেকরের বিপরীতে অভিনয় করে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ‘চিতচোর’ ছবির সাফল্য তাকে সর্বভারতীয় স্তরে পরিচিতি এনে দেয়।
হঠাৎই বিরতি ও লাইমলাইট থেকে দূরত্ব
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন তাঁর ক্যারিয়ার বেশ ভালো ছন্দেই চলছিল, তখন আচমকাই রুপোলি পর্দা থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন মিঠু চক্রবর্তী। ধীরে ধীরে অভিনয় জগত থেকে পুরোপুরি বিরতি নিয়ে নেন এবং নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে সরিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি একদমই নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবনযাপন করছেন এবং কোনো সামাজিক বা ফিল্মি অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যেত না। এমনকী দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছিলেন বহু আগেই।