...
...
Next Story

Rupa-BJP: সরকার বদলের পর পাটুলি আর নিরাপদ নেই, দু-দিন রাস্তায় হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য, উগরালেন ক্ষোভ

‘বিজেপির সরকার এসেছে মানে বাংলার মেয়েরা অ্যাভেলেবেল নয়!’— ফেসবুকে বোমা ফাটালেন রূপা ভট্টাচার্য।

Published on: Jun 27, 2026 08:16 AM IST
Advertisement

গত ৯ই মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে নানা মহলে চর্চা চলছে। এবার কলকাতার অন্যতম শান্ত ও নিরাপদ এবং জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত পাটুলি-র নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত বিস্ফোরক এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রূপা (রূপালি) ভট্টাচার্য।

'সরকার বদলের পর পাটুলি আর নিরাপদ নেই', পরপর দু-দিন হেনস্থার শিকার, বিস্ফোরক রূপা
'সরকার বদলের পর পাটুলি আর নিরাপদ নেই', পরপর দু-দিন হেনস্থার শিকার, বিস্ফোরক রূপা

গত ২৪শে জুন (বুধবার) এবং ২৬শে জুন (শুক্রবার) একদিনের ব্য়াবধানে দু-বার পাটুলির প্রকাশ্য রাস্তায় অত্যন্ত নোংরাভাবে হেনস্থা, শারীরিক আক্রমণ এবং ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে পাটুলির সমস্ত মেয়েদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বহিরাগত অপরাধীদের উদ্দেশ্যে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিনেত্রী।

পেছন থেকে এসে সরাসরি শারীরিক আক্রমণ!

রূপা ভট্টাচার্য জানান, তিনি গত ৪ বছর ধরে পাটুলির বাসিন্দা এবং সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন নিয়ম করে দিনে ২ কিলোমিটার হাঁটেন। এতদিন এলাকাটি অত্যন্ত নিরাপদ মনে হলেও গত এক মাসে এখানে কিছু বহিরাগত ছেলেদের অস্বস্তিকর জটলা লক্ষ্য করছেন তিনি।

গত বুধবার সন্ধে ৭টা নাগাদ পাটুলি R ব্লকের যে রাস্তাটি বাইপাসের ব্রিজের তলায় মিশেছে, সেখান দিয়ে হেঁটে হনুমান মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। বেনুবন ছায়ার ঠিক আগেই ব্রিজের পাশে বছর কুড়ির এক সাইকেল আরোহী তাঁকে পেছন থেকে ফলো করে এবং আচমকা ইউটার্ন নিয়ে তাঁর ওপর সরাসরি শারীরিক আক্রমণ (Physically Abuse) করতে ধেয়ে আসে। রূপা নিজের উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রতিহত করতে গেলে ধাক্কা লেগে তাঁর ডান হাতে চোট লাগে, এবং ছেলেটি পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর রূপা ভট্টাচার্য যখন পাটুলি থানায় অভিযোগ জানাতে যান, তখন সেখানে ঘটে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তিনি দেখেন আরও একটি মেয়ে হুবহু একই রকমের হেনস্থার অভিযোগ জানাচ্ছে। সেই মেয়েটির সাথেও ঠিক আগের দিন (মঙ্গলবার) পাটুলি মোড় থেকে ঢালাই ব্রিজ যাওয়ার রাস্তায় একই কায়দায় হেনস্থা করা হয়েছিল। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এলাকায় কোনও অভিজ্ঞ সিরিয়াল অফেন্ডার সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে রূপাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্ত শুরু করে।

সুইগি ডেলিভারি বয়ের অভব্যতা ও হুমকি

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার সন্ধে পৌনে সাতটা নাগাদ পাটুলি T ব্লকের খেলার মাঠের পাশে আবারও হেনস্থার শিকার হন অভিনেত্রী। উল্টোদিক থেকে আসা এক সুইগির ডেলিভারি বয় বাইক নিয়ে এসে ইচ্ছে করে তাঁর গা ঘেঁষে একটি ‘ভাঁজ’ মারে। রূপা চমকে সরে গিয়ে তাকানোয় ওই ডেলিভারি বয় বাইক থামিয়ে হিন্দিতে রূপাকে হুমকি ও গালিগালাজ করতে শুরু করে।

রূপা ভট্টাচার্য নিজের পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার আগের দিনের ঘটনাটা মনে ছিল, তাই মাথা আগুন হয়ে যায়। আমি চিৎকার করে বলি— এতক্ষণ কিছু বলিনি, কিন্তু এবার একটা থাপ্পড়ে দুপাটি দাঁত ফেলে দেবো তোর। চল থানায় চল! উল্টো দিকের মাঠের কতগুলো অল্প বয়সী ছেলে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল, নতুন প্রজন্ম মেয়েদের হ্যারাসড হতে দেখলে হয়তো মজাই পায়। কিন্তু একজন টোটো চালক দাদা ‘কী হয়েছে দিদি’ বলে সজোরে টোটো নিয়ে আসতেই ওই অবাঙালি ডেলিভারি বয়টা বাইক নিয়ে ঝড়ের বেগে পালায়।’

‘বিজেপির সরকার এসেছে মানে বাংলার মেয়েরা অ্যাভেলেবেল নয়!’— তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভ

এই জোড়া ঘটনার পেছনে রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অভিনেত্রী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘যে সব বহিরাগত অথবা কলকাতার বাসিন্দা অবাঙালিকুল মনে করছে বিজেপির সরকার এসেছে মানে বাংলার মেয়েরা এবার ওদের জন্য সহজলভ্য, পাড়ায় বেপাড়ায় মেয়ে দেখলেই কুলদীপ সেঙ্গার (উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডের মূল সাজাপ্রাপ্ত আসামী) হওয়ার ছাড়পত্র মিলে গেছে— তাদের বলছি বাংলার মাটি এখনও দুর্জয় ঘাঁটি। যারা মনে করছে সরকার বদলেছে মানে এবার মেয়েদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করবে, তারা শুধরে যা। নয়তো পুলিশ ধরার আগে পাবলিক পিটিয়ে ছাতু করে দেবে।’

শেষে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কেউ যেন জ্ঞান দিতে না আসেন যে একা রাস্তায় হাঁটার দরকার নেই; তেমন মন্তব্য করলে ধরে নেওয়া হবে তারা এই নোংরা মানসিকতার অপরাধীদেরই সমর্থন করছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe