প্রায় ২০ বছর পর নির্বাসন কাটিয়ে ১ আগস্ট কলকাতায় আসছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। মৌলবাদ বিরোধী কবি ও সাহিত্যিকদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি রবীন্দ্র সদনে উপস্থিত থাকবেন। ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘এইচআরবিএফএফ’ নামের দুটি সংগঠন এই সভার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের লেখিকা নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে কলকাতায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

লিঙ্গসমতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট লেখার কারণে তসলিমা নাসরিনকে তার নিজ দেশ বাংলাদেশ থেকে এবং পরবর্তীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাসিত করা হয়। ১৯৯৪ সালে মৌলবাদীদের তীব্র রোষানল ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের পটভূমিতে তিনি 'লজ্জা' নামের উপন্যাসটি রচনা করেন। এটি প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মৌলবাদীরা তার উপর চড়াও হয়।
তবে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর, ভারতে আশ্রয় নিয়েও শান্তি পাননি। ২০০৭ সালে কলকাতায় মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো তার উপস্থিতির প্রতিবাদে চরম সহিংস আন্দোলন গড়ে তোলে। আর সেই সময় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই সময় তাঁকে রাতারাতি শহর ছাড়তেও হয়েছিল। তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।
বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য অতীতে রাজ্যসভায় তসলিমার ভারতে, বিশেষ করে বাংলায় ফিরে আসার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লেখিকার অবস্থানের কারণে তাঁকে বাংলায় ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত। একাধিকবার বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারকে নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তসলিমা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে। এখন দেখার বাংলাদেশি লেখিকার কলকাতা সফর বাংলা সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে কী প্রভাব পেলে।
{{/usCountry}}বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য অতীতে রাজ্যসভায় তসলিমার ভারতে, বিশেষ করে বাংলায় ফিরে আসার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লেখিকার অবস্থানের কারণে তাঁকে বাংলায় ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত। একাধিকবার বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারকে নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তসলিমা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে। এখন দেখার বাংলাদেশি লেখিকার কলকাতা সফর বাংলা সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে কী প্রভাব পেলে।
{{/usCountry}}