‘আমি মুরগী হয়ে গেলাম…', ‘দেশু ৭’ লাইভের পর হঠাৎই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অনির্বাণের?

অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে অলিখিত ভাবে ব্যান করা হয় ইন্ড্রাস্ট্রি থেকে। এরপর সোমবার 'দেশু ৭' নিয়ে লাইভে এসে নিশ্চিত করেন অনির্বাণ ‘দেশু ৭’-এ থাকছেন। আর এই সব কিছুর মাঝেই অবাক করা পোস্ট অনির্বাণের!

Published on: Jan 19, 2026 10:04 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টলিপাড়া ফেডারেশন বনাম পরিচালক দ্বন্দের সাক্ষী থেকেছে। সমস্যা এত বড় আকার নেয় যে বেশ কিছুদিন বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রিতে কাজ থেমে গিয়েছিল। আর এর প্রভাব যে অভিনেতা-পরিচালকের উপর প্রত্যক্ষ ভাবে পড়ে তিনি হলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তাঁকে একপ্রকার অলিখিত ভাবে ব্যান করা হয় ইন্ড্রাস্ট্রি থেকে।

‘আমি মুরগী হয়ে গেলাম…', ‘দেশু ৭’ লাইভের পর হঠাৎই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অনির্বাণের?
‘আমি মুরগী হয়ে গেলাম…', ‘দেশু ৭’ লাইভের পর হঠাৎই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট অনির্বাণের?

আরও পড়ুন: 'সঙ্গীকে অপমান করা…', 'দেশু' আবেগে ভেসে রাজ-রুক্মিণীকে যেন কটাক্ষ না করা হয়, অনুরোধ দেব-শুভশ্রীর!

দেবের সঙ্গে ‘রঘু ডাকাত’ই অভিনেতার মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি। তারপর থেকে অভিনেতা কোনও কাজের অফার পাননি। আর এর মাঝেই শোনা যায় 'দেশু ৭'-এ নাকি খলনায়ক হয়ে ফিরছেন তিনি। তারপর তা নিয়ে মুখ খোলেন দেব। শুধু তাই নয় অনির্বাণ যাতে আবার কাছে ফিরতে পারেন তা নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানান। নায়ক বলেছিলেন, তিনি অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন। এরপর সোমবার 'দেশু ৭' নিয়ে লাইভে এসে নিশ্চিত করেন অনির্বাণ ‘দেশু ৭’-এ থাকছেন। আর এই সব কিছুর মাঝেই অবাক করা পোস্ট অনির্বাণের!

তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি মুরগী সাজা মানুষের ছবি শেয়ার করেন। সেই ছবির নীলে লেখা ছিল, 'পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়।' ছবিটি পোস্ট করে নায়ক ক্যাপশনে যা লেখেন তার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘আমি মুরগী হয়ে গেলাম।’

আরও পড়ুন: 'দেশু ৭' আবহে অনির্বাণের কাজে ফেরা নিয়ে একজোট দেব-রাজ? ‘যদি পা ধরে…’, যা বললেন পরিচালক

প্রসঙ্গত, এদিন লাইভে দেখা যায় শুভশ্রী দেবকে প্রশ্ন করছেন, ‘আমাদের ছবিতে কী অনির্বাণ থাকছে?' নায়িকার মুখে এই প্রশ্ন শুনেই অনির্বাণের নাম নিয়ে হেসে ফেলেন দেব। নায়িকা আবার প্রশ্ন করেন, ‘আচ্ছা ওঁকে কেন কাজ করতে দেওয়া হয় না?’ দেব হেসে উত্তর দেন, ‘এতটাও ইনোসেন্ট না তুমি। একটু বেশি সরল হয়ে যাচ্ছে।’ তারপর হাসতে হাসতেই শুভশ্রী বলেন, ‘আমি সত্যি জানি না।’

দেব আরও বলেন, ‘আমি জানি না অনির্বাণকে নিয়ে কী ঝামেলা বা কেন? আমি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ করেই ওঁকে নিয়ে এই খরবটা চোখে পড়ে। আমি ফেক নিউজ ভেবেছিলাম প্রথমে। তারপর আমি এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করি। ওঁর সঙ্গে ফেডারেশনের একটা ছোট মনমালিন্য চলছে। আমি চাই সবাই যেন সুস্থ ভাবে কাজ করতে পারে। এইটুকু একটা ইন্ড্রাস্ট্রি। হিরোই নেই আমি, জিৎদা, বুম্বাদা বাদ দিয়ে। অঙ্কুশ, আবির, পরমব্রত আমরা সবাই চেষ্টা করছি ইন্ড্রাস্ট্রিটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। সেখানে গিয়ে একটা হিরোকে ব্যান করা মানে অনেকগুলো কাজো তো ব্যান হয়ে যাওয়া। একটা বছরের মধ্যে ও হইচইতে তিন চারটে সিরিজ করে নেয়। ৩৬৫ দিনের মধ্যে ও কম করে ১০০ দিন কাজ করে নেবে। সেই কাজটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি আগের দিন ওঁর হয়ে ক্ষমা চাইলাম।’

অনির্বাণের স্টোরি
অনির্বাণের স্টোরি

তিনি আরও বলেন, ‘লিডারের কাজ হচ্ছে একটা মানুষকে দুবেলার খাবার জোগার করে দেবে। এটা নয় যে তাঁর কাজটা বন্ধ করে দেবে। আর একজন শিল্পীর কাছে আছে কী তাঁর সম্মান ছাড়া? তাই সবাইকে যদি ক্ষমা চাইতে হয়। এটা শুনতে লাগছে একজন সর্দার জীকে বলা হচ্ছে তাঁর পাগড়ি খুলে পায়ে দিতে। এটা কেন? একটা শিল্পীর কাছে সম্মান যদি চলে যায়, তাহলে তো সে উলঙ্গ হয়ে যাবে। আর আমরা কী শুধুই কাঁকড়ার জাত? আমরা তো বিপ্লবী জাতও ছিলাম একটা সময়। আমাদের ভয়ে ব্রিটিশরা কলকাতা ছেড়ে দিল্লিতে রাজধানী করেছিল। আমি ‘দেশু ৭’-এ কাল পর্যন্ত অনির্বাণকে চাইছিলাম না, কিন্তু আজ চাইছি ও কাজ করুক।’