বলিপাড়ার অলিন্দে কান পাতলেই এখন অভিষেক বচ্চন আর ঐশ্বর্য রাইয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নানাবিধ গুঞ্জন শোনা যায়। বচ্চন পরিবারের অন্দরে ঠিক কী চলছে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই নেটপাড়ায়। তবে এই সব পারিবারিক জল্পনাকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে আবারও নিজের রাজকীয় আধিপত্য প্রমাণ করলেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী। জডব্লিউ ম্যারিয়টের মতো বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, রাই সুন্দরীর গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালু আজও আকাশছোঁয়া। আর ঐশ্বর্যর এই নয়া আন্তর্জাতিক সাফল্যের পরই নেটপাড়ায় নতুন করে শুরু হয়ে গিয়েছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পত্তির তুলনামূলক ব্যবচ্ছেদ।

ব্র্যান্ড ভ্যালু ও আর্থিক প্রতিপত্তি: কে কোথায় দাঁড়িয়ে?
একক সম্পত্তির নিরিখে অভিষেক বচ্চনের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছেন ঐশ্বর্য রাই। কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেট থেকে শুরু করে লরিয়াল কিংবা লঞ্জিনের মতো ব্র্যান্ডের বিশ্বজনীন মুখ হওয়ার সুবাদে ঐশ্বর্যর একক উপার্জন বলিপাড়ার বহু প্রথম সারির নায়ককেও টক্কর দেয়। জডব্লিউ ম্যারিয়টের এই নতুন চুক্তি ওঁর ঝুলিতে আসার পর ওঁর আর্থিক গ্রাফ যে আরও উঁচুতে চড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
ঐশ্বর্যর আনুমানিক মোট সম্পত্তি প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে অভিষেক বচ্চনের একক সম্পত্তির পরিমাণ ২৮০ কোটির আশেপাশে।
বচ্চনদের সাম্রাজ্য বনাম ঐশ্বর্যর একক দাপট
{{/usCountry}}বচ্চনদের সাম্রাজ্য বনাম ঐশ্বর্যর একক দাপট
{{/usCountry}}অভিষেকের নিজস্ব উপার্জনের বড় অংশ আসে তাঁর অভিনীত সিনেমা, ওটিটি প্রজেক্ট এবং নায়কের মালিকানাধীন প্রো কাবাডি টিম 'জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্স' ও আইএসএল ফুটবল টিম 'চেন্নাইয়িন এফসি' থেকে। অন্যদিকে, বচ্চন পরিবারের অমিতাভ বচ্চনের বিপুল সম্পত্তি কিংবা ঐতিহ্যবাহী বাংলো 'জলসা'-র উত্তরাধিকারী হিসেবে অভিষেকের ভবিষ্যৎ আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ় হলেও, স্রেফ নিজস্ব একক উপার্জনের খতিয়ানে স্ত্রী ঐশ্বর্য ওঁর চেয়ে প্রায় তিন গুণ এগিয়ে।
ঐশ্বর্যর এই বিপুল আয়ের সিংহভাগই আসে ওঁর দীর্ঘকালীন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড চুক্তিগুলো থেকে। নতুন এই জডব্লিউ ম্যারিয়টের ক্যাম্পেন ওঁর গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালুকে এক ধাক্কায় আরও অনেকখানি বাড়িয়ে দিল। বলিপাড়ার বোদ্ধাদের মতে, অভিষেক-ঐশ্বর্যর ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ যাই হোক না কেন, গ্ল্যামার দুনিয়ার বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে রাইসুন্দরী যে আজও একচ্ছত্র রানি, এই খবর যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল। ১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জেতার পর হিন্দি ও তামিল সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা ঐশ্বর্য কেরিয়ারের এতগুলো বছর পেরিয়েও যে ওঁর গ্ল্যামার আর আন্তর্জাতিক চাহিদা এক ফোঁটাও কমতে দেননি, জডব্লিউ ম্যারিয়টের এই মেগা ঘোষণাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ!