'যে মানুষ অন্যের মুখে হাসি...', আসরানির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অক্ষয়-প্রিয়দর্শন
আসরানিকে তাঁর শেষ দুটি ছবিতে পরিচালনা করছিলেন প্রিয়দর্শন। এবার বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুতে সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
গত ২০ অক্টোবর চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন বলিউডের বিখ্যাত প্রবীণ অভিনেতা গোবর্ধন আসরানি। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮৪ বছর। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুতে বলিউডের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলেন অক্ষয় কুমার।

অক্ষয় কুমার জানান, গত সপ্তাহ পর্যন্ত প্রিয় দর্শনের আসন্ন ছবি ‘হ্যায়ওয়ান’ ছবির শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন আসরানি। খুব স্বাভাবিকভাবেই সহ অভিনেতার এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অক্ষয়। তবে শুধু এই একটি ছবি নয়, প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে এর আগেও একাধিক ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন অক্ষয়।
আরও পড়ুন: চোখ ভরা জল, হাতে রক্তমাখা ছুরি, কেন এই রূপ শুভশ্রীর? খোলসা করলেন কৌশিক
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে অক্ষয় লেখেন, ‘আমি ভীষণভাবে শোকোস্তব্ধ। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই হ্যায়ওয়ান ছবির কাজ শুরু করেছিলাম আমরা। ওঁর কমিক টাইমিং অসাধারণ।’
অক্ষয় আরও লেখেন, ‘ভাগম ভাগ থেকে দে দানা দন, ওয়েলকাম থেকে ভূত বাংলা বহু ছবিতে আমরা একসঙ্গে অভিনয় করেছি। ওঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি আমি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় সম্পদকে হারালো। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি, এমন একজন মানুষ যে বহু মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল একসময়।’
অভিনেতার মৃত্যুর পর নিউজ এইট্টিনকে দেওয়ার একটি সাক্ষাৎকারে পরিচালক প্রিয়দর্শন বলেন, ‘উনি একজন মহান মানুষ ছিলেন। ওঁর চলে যাওয়া আমার জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি। খুব কম মানুষই এমন আছেন যাদের মৃত্যু আমাকে এইভাবে প্রভাবিত করে।’
পরিচালক আরও বলেন, ‘অক্ষয় আমাকে ফোন করে বলে, এই ঘটনার পর ও ভীষণভাবে মানসিক অবসাদে ভুগছে। গত ৪০ থেকে ৪৫ দিন ধরে আসরানি স্যারের সঙ্গে দুটি ছবিতে কাজ হচ্ছিল আমাদের। অক্ষয়কে বিভিন্ন ব্যাপারে উনি পরামর্শ দিতেন। এমনকি রাজপালকেও বিভিন্ন বিষয়ের পরামর্শ দিতেন উনি।’
আরও পড়ুন: হাসপাতালে ভর্তি রায়ানের দাদু! পরিণীতায় এখন দেখা যাবে না সুব্রত গুহ রায়কে, কী হল?
আসরানির জীবন এবং কর্মজীবন
এফটিআইআই-এর প্রাক্তন ছাত্র, আসরানি ষাটের দশকের শেষের দিকে পাঞ্জাবি সিনেমায় একজন প্রধান অভিনেতা হিসেবে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন, তারপর ‘অভিমান’ এবং ‘চুপকে চুপকে’-এর মতো বলিউড ছবি দিয়ে সহ-অভিনেতা হিসেবে তার খ্যাতি অর্জন করেন। ৭০ এবং ৮০-এর দশকে, তিনি নিজেকে একজন শীর্ষ কৌতুকাভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, সম্ভবত আইকনিক ছবি ‘শোলে’-তে একজন জেলর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়াও তিনি ‘হেরা ফেরি’, ‘মালামাল উইকলি’ এবং ‘ধামাল’-এর মতো হিট ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
E-Paper

