আগামী দুর্গাপুজোয় মুক্তি পাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ ছবি দর্শকদের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে আসছেন পরিচালক। ইতিমধ্যেই ছবির টিজার-ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে, যা দেখে ছবিটির জন্য দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা বেড়েছে বৈকি।

তবে এবার খোদ অমিতাভ বচ্চনের তরফ থেকে এই ছবিটির জন্য এল বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ট্রেলার নিজের একাউন্টে শেয়ার করে অমিতাভ লেখেন, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী, যিনি দেবদাস এবং পরিণীতার মতো উপন্যাস লিখেছেন। সেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন পথের দাবী, যেটি ব্রিটিশ সরকার ব্যান করে দিয়েছিলেন।’
শুধু মুম্বই থেকে খুব অমিতাভ বচ্চনের তরফ থেকে এমন একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাওয়া সত্যি সৌভাগ্যের। অমিতাভ বচ্চনের পোস্ট নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে শেয়ার করে পরিচালক লেখেন, ‘স্যার, আপনার আশীর্বাদের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। গোটা টিমের কাছে এই মুহূর্তটার গুরুত্ব অপরিসীম।’
এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র প্রসঙ্গে
{{/usCountry}}এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র প্রসঙ্গে
{{/usCountry}}এই ছবিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় দেখা যাবে টোটা রায় চৌধুরীকে। সঙ্গে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি 'পথের দাবী'র ‘সব্যসাচী’র ভূমিকায় থাকবেন আবির চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে মিমি চক্রবর্তী, দিব্যাণী মণ্ডল ও ঋক চট্টোপাধ্যায়কে।
ট্রেলার প্রসঙ্গে
ট্রেলারের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে পরাধীন ভারতের দৃশ্য। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের উপর অকথ্য অত্যাচার করে চলেছে ব্রিটিশ সরকার তেমন অন্যদিকে নিজের লেখার জোরে ধীরে ধীরে মানুষের মনে সঞ্চার করানোর চেষ্টা করছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের মতো সাহিত্যিকরা। এর মধ্যেই শরৎচন্দ্র লিখে ফেলেন পথের দাবী, যার হাত ধরে সৃষ্টি হয় সব্যসাচীর মতো একটি চরিত্র।
সব্যসাচী শুধুমাত্র একটি চরিত্র হয়ে থাকে না, পরাধীন ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে যায় সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। নির্ভয়ে যারা চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এমন তরুণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেখে ভয় পেয়ে যায় ব্রিটিশ সরকার। ‘পথের দাবী’কে পুড়িয়ে মানুষের মনে আবার ভয় সঞ্চার করার চেষ্টা করে তারা।
কিন্তু যে সাহস একবার ভারতবাসীর মনে জন্মেছিল, সেই সাহস কি এত তাড়াতাড়ি মুছে ফেলা যায়? তাই পথের দাবী শিক্ষিত বাঙ্গালীদের মনে এমন সাহস জোগালো, যা ভারতকে স্বাধীনতার দিকে একটু হলেও এগিয়ে নিয়েছিল। এই ছবিটি শুধুমাত্র পরাধীন ভারতের গল্প বলবে তা নয়, এই গল্পে দর্শকরা দেখবেন সামনাসামনি লড়াই না করেও কিভাবে ভারতবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই সময়ের সাহিত্যিকরা।