বলিউড কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore) এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক নবাব মনসুর আলি খান পাতৌদি (Mansoor Ali Khan Pataudi)-র ভিনধর্মে বিবাহ ছিল সেই সময়ের অন্যতম বহুল চর্চিত বিষয়। সম্প্রতি তাঁদের কন্যা সাবা পাতৌদি (Saba Pataudi) এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের পরিবার, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং তাঁদের বেড়ে ওঠা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

সাবা জানান, বিবাহের পর শর্মিলা ঠাকুর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সন্তানদের কোনও বিভ্রান্তি ছাড়াই ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলেন, যদিও তিনি কখনোই তা জোর করে কারো ওপর চাপিয়ে দেননি।
‘ইসলাম ধর্ম শেখানো থেকে রোজা রাখা— আম্মাই পথ দেখিয়েছেন’
ইউটিউব চ্যানেল Big Bollywood Buff-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবা পাতৌদি জানান যে তিনি নিজে একজন অনুগত ইসলাম ধর্মাবলম্বী। পারিবারিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি ঈশ্বর বা স্রষ্টার কথা ভাবতে হয়, আমি আল্লাহ্-র কথাই বলব। তবে এর মানে এই নয় যে আমি অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করি না। আম্মা এবং আব্বার বিয়ের পর আম্মা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং আমাদেরও ইসলামের সঠিক শিক্ষা দিয়েছিলেন, যাতে আমরা বিভ্রান্ত না হয়ে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারি। আমাদের বাড়িতে কোনও মন্দির নেই বা হিন্দু ধর্মপালনের প্রথা ছিল না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ধর্ম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয়। শর্মিলা ঠাকুর তাঁদের ইসলাম, রমজান ও রোজার নিয়মাবলি শিখিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কে কী পালন করবে, সেই স্বাধীনতা সন্তানদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের পরিবারে দীপাবলি, হোলি, ক্রিসমাস থেকে শুরু করে সব উৎসবই সমান আনন্দে উদযাপিত হয়।
{{/usCountry}}তিনি আরও যোগ করেন, ধর্ম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয়। শর্মিলা ঠাকুর তাঁদের ইসলাম, রমজান ও রোজার নিয়মাবলি শিখিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কে কী পালন করবে, সেই স্বাধীনতা সন্তানদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের পরিবারে দীপাবলি, হোলি, ক্রিসমাস থেকে শুরু করে সব উৎসবই সমান আনন্দে উদযাপিত হয়।
{{/usCountry}}শর্মিলা ও মনসুর আলি খানের বিয়ে ও লড়াইয়ের গল্প
১৯৬৯ সালের ডিসেম্বরে চার বছরের প্রেমের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শর্মিলা ঠাকুর ও নবাব মনসুর আলি খান পাতৌদি।
পারিবারিক বাধা ও হুমকি: এক সম্ভ্রান্ত বাঙালি হিন্দু পরিবারের মেয়ে শর্মিলা এবং মুসলিম রাজপরিবারের মনসুরের বিয়ে সহজ ছিল না। শর্মিলা পূর্বেই প্রকাশ করেছেন যে বিয়ের আগে তাঁদের পরিবারে নানা হুমকিমূলক বার্তা এসেছিল।
লিভ-ইন রিলেশনশিপ: ২০২৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা প্রকাশ করেন যে, তৎকালীন সমাজব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সুবিধার্থে বিয়ের আগে তাঁরা কিছুদিন একসঙ্গে থেকেছিলেন (Live-in)।
দীর্ঘ ৪২ বছরের দাম্পত্য: সব বাধা পার করে ২০১১ সালে মনসুর আলি খানের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত টানা ৪২ বছর সুখে সংসার করেছেন এই দম্পতি। তাঁদের তিন সন্তান হলেন— সাইফ আলি খান, সাবা পাতৌদি এবং সোহা আলি খান।