তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী সিনেমা হল ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’। সাপুড়ের মেয়ে জ্যোৎস্না ও রাজপুত্র কঞ্চনের প্রেমকাহিনী নিয়ে তৈরি লোককথার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ ব্যবসা-করা ছবি হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল। 'জ্যোৎস্না' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অঞ্জু ঘোষ এবং রাজপুত্র 'কাঞ্চন' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

নদীর জলে ভেসে যাওয়া এক রাজকন্য। তাকে নদী থেকে উদ্ধার করে লালন-পালন করেন এক নিঃসন্তান বেদে পরিবার। আর জ্যোৎস্নার পালিত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনামিকা সাহা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাংলাদেশের এই ছবিতে কাজ করার জন্য তাঁকে সেইসময় অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকী, দেবশ্রী রায় কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘অনামিকাদি তোমার বর কি তোমাকে খেতে দেয় না…’
অনামিকা সাহা সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না সম্পর্কে বলেন, ‘জুহি চাওলার ডাবিং করে, লাঞ্চ ব্রেকে এনটিওয়ান স্টুডিয়োয় বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি। হঠাৎ দেখি একটা সুন্দর ছেলে দৌড়ে আমার দিকে আসছে। বলছে, দিদি আপনি বিয়ে করে আর শ্যুটিং করবেন না? আমি যেই বললাম, 'এই তো শ্যুট করছি'। উনি শুনে বলে ওঠেন 'এটা তো ডাবিং'। আমি তারপর জানাই যে আমার শ্বশুরবাড়ির পছন্দ নয় আমি শ্যুটিং করি। এরপর উনি আমায় পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশের কিছু মানুষের সঙ্গে। তাঁরা বলে একটি ছবিতে আমাকে নিতে চায়। আমি কী করব, বললাম আপনারা আমার শ্বশুর বাড়িতে আসুন, আমার শ্বশুরমশাইয়ের থেকে অনুমতি নিন। পরদিন সকালে তাঁরা একগাদা সবজি, ফল, মিষ্টি নিয়ে হাজির শ্বশুরের থেকে অনুমতি নিতে। শ্বশুর ওদের কথা শুনে বলে, এটা করতে কি বাংলাদেশ যেতে হবে? ওঁরা বলে, না না ভারতেই শ্যুট হবে। আমার শ্বশুর কিছুক্ষণ ভেবে অনুমতি দিয়ে দিলেন। সেদিন কী যে আনন্দ হয়েছিল, ৬ বছর পর কাজ করার সুযোগ পেলাম।’
অনামিকা আরও বলেন, ‘সুপার ডুপার হিট হয়েছিল এই ছবি। নাম ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না। আমাকে ওই সময় অনেকে অনেক কথা বলেছিল। দেবশ্রী রায় পর্যন্ত বলেছিলেন, ‘কী অনামিকাদি তোমার বর তোমাকে খেতে দেয় না। কী সব বাংলাদেশের সিনেমা যাত্রাপালার মতো, তাতে তুমি অভিনয় করছ’। এদিকে প্রযোজক এই ছবি থেকে এত বস্তা বস্তা টাকা রোজগার করল যে আর ছবিই করল না।’
{{/usCountry}}অনামিকা আরও বলেন, ‘সুপার ডুপার হিট হয়েছিল এই ছবি। নাম ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না। আমাকে ওই সময় অনেকে অনেক কথা বলেছিল। দেবশ্রী রায় পর্যন্ত বলেছিলেন, ‘কী অনামিকাদি তোমার বর তোমাকে খেতে দেয় না। কী সব বাংলাদেশের সিনেমা যাত্রাপালার মতো, তাতে তুমি অভিনয় করছ’। এদিকে প্রযোজক এই ছবি থেকে এত বস্তা বস্তা টাকা রোজগার করল যে আর ছবিই করল না।’
{{/usCountry}}