পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুর খবর নাড়িয়ে দিয়েছে সকলকে। ভূতের ভবিষ্যত, অপরকাজিত, যত কাণ্ড কলকাতাতেই-এর মতো হিট ছবি উপহার দেওয়া অনীকের জীবনের শেষটা যে এমন ভয়াবহ হবে, তা কেউই ভাবতে পারেননি। হিন্দুস্তান পার্কের একটি বহুতলের ছাদ থেকে তিনি মরণঝাঁপ দেন বলেই মনে করা হয়েছে প্রাথিক তদন্তে। সেই আবাসনে থাকতেন পরিচালকের প্রাক্তন স্ত্রী। বুধবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অনীক। সূত্রের খবর, দেখা করতে অস্বীকার করেন সন্ধি দত্ত। এরপর সোজা ছাদে উঠে যান পরিচালক।

বছরখানেক আগে ডিভোর্স হয় অনীক ও সন্ধির। দুজনের বিবাহিত জীবন ছিল ২৮ বছরের। এমনকী, ২৫ বছরের বিয়ের দিন মাথায় টোপর পরেছিলেন অনীক, সন্ধির সিঁথিতে সিঁদুরও দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের ছাড়াছাড়ি খবর আসে। জানা যায়, ছাদও আলাদা হয়েছে। তবে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বরং ব্যাক্তিগত বিষয় গোপন রাখারই আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে। যিনি চাকরি সূত্রে থাকেন কলকাতায়।
২৫ বছরের বিবাহবার্ষিকী নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন অনীক। লিখেছিলেন, ‘আমাদের ২৫ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে নিছক বন্ধুদের অনুরোধে এমন কাজ করতে হল, যা আমি আমার নিজের বিয়েতেও করিনি। আমাকে পরতে হল টোপর। স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুরও পরাতে হয়েছে। সেই সিঁদুর… যা কিনা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অংশ…।’
এখনো ধোঁয়াশা কাটছে না! দীর্ঘসময় ধরে যে অনীকের অবসাদের চিকিৎসা চলছিল তা জানিয়েছেন তাঁর ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা। তবে তিনি যে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা বোধহয় কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি।
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি তোমার উপর ভীষণ রাগ আর অভিমান করে আছি, অনীক দত্ত। মনে হচ্ছে শেষ হাসিটা তুমিই হেসে গেলে... এ কেমন উদাহরণ রেখে গেলে তোমার ভক্ত, অনুসরণকারী আর কাছের মানুষদের জন্য? এটা একদমই মেনে নেওয়া যায় না, মেনে নিতে পারছি না, মেনে নেবও না। কমরেড, আমাদের সঙ্গে এটা একদম ঠিক করলে না। আবারও যেন একজন অভিভাবককে হারালাম। হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে আমার একমাত্র সত্যিকারের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীকেও হারালাম।’
{{/usCountry}}অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি তোমার উপর ভীষণ রাগ আর অভিমান করে আছি, অনীক দত্ত। মনে হচ্ছে শেষ হাসিটা তুমিই হেসে গেলে... এ কেমন উদাহরণ রেখে গেলে তোমার ভক্ত, অনুসরণকারী আর কাছের মানুষদের জন্য? এটা একদমই মেনে নেওয়া যায় না, মেনে নিতে পারছি না, মেনে নেবও না। কমরেড, আমাদের সঙ্গে এটা একদম ঠিক করলে না। আবারও যেন একজন অভিভাবককে হারালাম। হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে আমার একমাত্র সত্যিকারের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীকেও হারালাম।’
{{/usCountry}}বুধবারই অনীক দত্তের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে৷ তারপর হয়তো মরদেহ তুলে দেওয়া হবে পুলিশের হাতে। হাসপাতালে অনীককে দেখতে ছুটে আসেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, মানসী সিনহা, দেবলীনা দত্ত, জীতু কমলরা।