আজ অনিল কাপুর মানেই ‘ঝাকাস’ এনার্জি আর চিরযৌবন। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। এক সময় সুপারস্টার রাজেশ খান্নার একটি ছবি ফ্লপ হওয়ায় কার্যত পথে বসেছিল কাপুর পরিবার। সেই চরম অসহায়তা আর বাবার অপমানের বদলা নিতেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্ট্রাগল শুরু করেছিলেন অনিল।

রাজেশ খান্নার সেই ফ্লপ আর বাবার কান্না:
অনিল কাপুরের বাবা সুরিন্দর কাপুর ছিলেন একজন প্রযোজক। তিনি রাজেশ খান্নাকে নিয়ে একটি বড় বাজেটের ছবি তৈরি করেছিলেন। সবার আশা ছিল ছবিটি ব্লকবাস্টার হবে, কিন্তু বাস্তবে তা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ছবি পিটতেই বদলে যায় মানুষের রঙ। অনিল জানান, ‘বাবা যখন ছবির কাজে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন, তখন এয়ারপোর্টে তাঁকে কেউ নিতে পর্যন্ত আসেনি। বাড়ি ফিরে বাবার চোখে জল ছিল না ঠিকই, কিন্তু চোখের কোণটা চিকচিক করছিল। সেই দৃশ্য আমি ভুলতে পারিনি।’
ইন্ডাস্ট্রির প্রিয় রাঁধুনি ছিলেন মা:
অভাবের দিনগুলোতেও কাপুর পরিবারের আতিথেয়তায় খামতি ছিল না। অনিল স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘চেম্বুরে আরকে স্টুডিওর পাশেই আমরা থাকতাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমার মা লেজেন্ডারি রাঁধুনি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কোনো শ্যুটিং চললে আমাদের বাড়ি থেকেই খাবার যেত। বিয়ের সমস্যা হোক বা বাচ্চা হওয়ার পরামর্শ— সবাই মায়ের কাছে ছুটে আসতেন।’
বাবার জেদ ও অনিলের লড়াই:
{{/usCountry}}বাবার জেদ ও অনিলের লড়াই:
{{/usCountry}}প্রযোজকের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও অনিলের জন্য লঞ্চিংয়ের মঞ্চ সাজানো ছিল না। সুরিন্দর কাপুর পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, ‘অভিনেতা হতে চাও হও, কিন্তু আমি তোমার জন্য ছবি বানাব না। কাজ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।’ এরপরই বাবার হার্ট অ্যাটাক এবং শারীরিক অসুস্থতা অনিলকে মানসিকভাবে বদলে দেয়। অনিল বুঝতে পারেন, বাবার অসম্মান ঘোচাতে হলে তাঁকে বড় অভিনেতা হতেই হবে।
শূন্য থেকে শিখর:
১৮-১৯ বছর বয়সেই কাজের সন্ধানে টো টো করে ঘুরেছেন অনিল। বাবার অসুস্থতার দিনে যখন কোনো বড় হিরো তাঁদের ছবিতে কাজ করতে রাজি হচ্ছিল না, তখন অনিল মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন, ‘আমাকে হিরো হতেই হবে।’ শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। পরবর্তীকালে বাবার প্রযোজনায় ‘লোফার’, ‘জুদাউ’, ‘পুকার’-এর মতো একাধিক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি।