স্টুডিয়োপাড়ার ঝকঝকে আলোর আড়ালে থাকা অন্ধকার সত্যটা এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। গত কয়েকদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় চলা ফিসফাসকে সত্যি করে, পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগে আইনি নোটিস পাঠালেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে অঙ্কিতা সবিস্তারে জানান, ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন তিনি এতদিন পর মুখ খুলতে বাধ্য হলেন।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
অঙ্কিতার অভিযোগ, ২০২০ সালে দেবালয় পরিচালিত ‘পবিত্র পাপী’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে সেই সিরিজের একটি সাকসেস পার্টিতে (Success Party) মদ্যপ অবস্থায় পরিচালক তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। শুধু তাই নয়, এই হেনস্থার প্রতিবাদ করায় পরের দিন থেকেই নাকি অঙ্কিতাকে বিভিন্ন কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেন দেবালয়। পরবর্তীকালে দেখা হলে পরিচালক তাঁকে চিনতেও অস্বীকার করেন বলে দাবি অভিনেত্রীর।
অঙ্কিতা বলেন, ‘দেবালয়দার সঙ্গে আমার বহুদিনের সুসম্পর্ক। আমি ওঁনার সঙ্গে চরিত্রহীন করেছি। বউ কেন সাইকো করেছি। ওঁর বাড়ি গেছি। আড্ডা মেরেছি, কখনও আনসেফ ফিল করিনি…..যে লোকগুলোর সঙ্গে তুমি অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলেছো, তাদের সামনে তোমার গার্ডস ডাউন থাকে। পার্টি যখন শেষের দিকে, তখন দেবালয়দা আমার হাত ধরে টেনে পাশের একটা ঘরে নিয়ে যায়। হঠাৎ করেই আমাকে ধাক্কা দেয়, দেওয়ালে আমাকে কাঁধটা চেপে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করে’। সেই পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নিয়ে বেরিয়ে আসেন অঙ্কিতা।
অভিনেত্রীর দাবি, পূর্ব পরিচয়ের জেরে তিনি ভেবেছিলেন পরিচালক মদ্যপ অবস্থায় হয়ত ভুল করে ফেলেছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। কিন্তু কোনওভাবেই অঙ্কিতার কাছে ক্ষমা চাননি। অঙ্কিতা জানান, মাস কয়েক পর এক পার্টিতে দেবালয় ভট্টাচার্য নাকি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান অভিনেত্রীকে। ক্ষমা চাওয়া তো দূর অস্ত, তাঁকে সম্পূর্ণ অদেখা করেন। যা তাঁকে অবাক করেছিল।
{{/usCountry}}অভিনেত্রীর দাবি, পূর্ব পরিচয়ের জেরে তিনি ভেবেছিলেন পরিচালক মদ্যপ অবস্থায় হয়ত ভুল করে ফেলেছেন, তিনি নিশ্চিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। কিন্তু কোনওভাবেই অঙ্কিতার কাছে ক্ষমা চাননি। অঙ্কিতা জানান, মাস কয়েক পর এক পার্টিতে দেবালয় ভট্টাচার্য নাকি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান অভিনেত্রীকে। ক্ষমা চাওয়া তো দূর অস্ত, তাঁকে সম্পূর্ণ অদেখা করেন। যা তাঁকে অবাক করেছিল।
{{/usCountry}}পরবর্তীতে অঙ্কিতার কানে এসছে বেশকিছু অভিনেত্রী, এমনকী একজন নাবালিকা অভিনেত্রীর সঙ্গেও নাকি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভিতরের চাপা কষ্ট আর চেপে রাখলেন না অঙ্কিতা। অবশেষে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সবটা জানালেন অভিনেত্রী।
সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক কমেন্ট ও পোস্ট ডিলিট:
গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সপ্তাহখানেক আগে দেবালয় ভট্টাচার্যের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে কমেন্ট বক্সে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অঙ্কিতা লিখেছিলেন, 'তোমার মতো নোংরা পারভার্ট ব্রাহ্মণদের কী করে শ্রদ্ধা করি বলো তো? যারা নিজের বন্ধুর মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে ছাড়ে না। মদ খেয়ে অভিনেত্রীদের নিতম্বে হাত বোলায়, জোর করে ওই নোংরা গুটখা খাওয়া দাঁতে চুমু খেতে আসে? আর বাধা দিলে পরের দিন নেশা কাটার পরে ক্ষমা না চেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কাজ থেকে কাঠি করে থাকে।' অঙ্কিতার এই কমেন্টের পরেই পরিচালক নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে মূল পোস্টটি মুছে দেন। সাংবাদিক বৈঠকে অঙ্কিতা প্রশ্ন তোলেন, ‘উনি যদি কিছু নাই করে থাকেন, তবে পোস্ট মুছলেন কেন? ওনার কিসের ভয়?’
পাঁচ বছর আগের ঘটনায় কেন এতদিন চুপ ছিলেন?
এতদিন পরে কেন আইনি পদক্ষেপ— এই প্রশ্নের জবাবে অঙ্কিতা অত্যন্ত সততার সাথে জানান, ‘আমি আসলে তখন বলিনি কারণ, সেই সময় আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না। তখন বললে সবাই ভাবত আমি সস্তার প্রচার পাওয়ার জন্য এসব বলছি। তবে এতদিন এই আতঙ্ক ও ঘটনাটা আমাকে প্রতিনিয়ত ট্রিগার করেছে।’ অঙ্কিতা আরও অভিযোগ করেন, তিনি ছাড়াও এক নাবালিকার (বন্ধুর মেয়ে) সাথেও অন্যায় করেছিলেন পরিচালক, যা কার্যত শিশু-হেনস্থা (Child Abuse)।
আইনি নোটিস ও ৭ দিনের সময়সীমা:
অঙ্কিতার আইনজীবী প্রিয়ম দে ইতিমধ্যেই দেবালয় ভট্টাচার্যকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে পরিচালককে প্রকাশ্যে অঙ্কিতার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় হরিদেবপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হবে। এছাড়াও অঙ্কিতা আর্টিস্ট ফোরাম, ইমপা (IMPA), ডিরেক্টরস গিল্ড এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানাবেন বলে স্থির করেছেন।
পাল্টা আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেবালয়ের:
অঙ্কিতার এই মারাত্মক সমস্ত অভিযোগের জবাবে পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য অবশ্য সমস্ত কিছু অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘আমার কাছে এখনও কোনো আইনি নোটিস এসে পৌঁছায়নি। তবে এবার আমিও পুরো বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করব। আইনি নোটিস এলে আমার তরফ থেকেও পাল্টা আইনি নোটিস পাঠানো হবে। শেষ সাংবাদিক বৈঠকটা আমিই করব।’
টলিউডের কাস্টিং কাউচ এবং মিটু বিতর্ক এর আগেও বহুবার সামনে এসেছে, তবে একজন প্রথম সারির পরিচালক এবং অভিনেত্রীর এই প্রকাশ্য আইনি যুদ্ধ টলিপাড়ার সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।