...
...
Next Story

Anushka Chakraborty: ‘শীতকালীন কম্বল বিতরণ…’, মমতা সরকারের টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে খোঁচা অনুষ্কার!

টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানের পর্যায়ে ফেলে ট্রোল করলেন অনুষ্কা চক্রবর্তী। ‘আঙুর ফল টক’? ট্রোলের জবাবও দিলেন সোজাসাপটাভাবে।

Published on: Jun 8, 2026, 19:57:14 IST
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো টলি-তারকা প্রকাশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অতীতের পুরষ্কার বিতরণী সংস্কৃতিকে নিয়ে এমন তীব্র উপহাস করলেন। রাজ্যে এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার এখন অতীত। এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ তথা অভিনেত্রী অনুষ্কা নিজের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘পশ্চিমবঙ্গ টেলি অ্যাকাডেমি সম্মান’ (West Bengal Tele Academy Awards)-কে সরাসরি 'কম্বল বিতরণ'-এর সাথে তুলনা করে এক মস্ত বড় বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন।

‘শীতকালীন কম্বল বিতরণ…’, মমতা সরকারের টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে খোঁচা অনুষ্কার!
‘শীতকালীন কম্বল বিতরণ…’, মমতা সরকারের টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডকে খোঁচা অনুষ্কার!

বিগত মমতা সরকারের আমলে টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড মানেই ছিল শাসকদল ঘনিষ্ঠ চাঁদের হাট। অনেকেই রসিকতা করে বলতেন, ক্ষমতার অলিন্দের কাছাকাছি থাকলেই এই পুরস্কার পাওয়া বাঁহাতের খেল। দিদির স্নেহধন্য তারকাদের কেউই প্রায় খালি হাতে ফিরতেন না সেই অ্যাওয়ার্ড শো থেকে। তবে গত বছরগুলোতে অনুষ্কার ভাগ্যে কোনো পুরস্কার (শিকে) ছেঁড়েনি। আসলে তিনি বরাবরই তৎকালীন তৃণমূল সরকারের থেকে একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।

এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আসার পর নিজের সেই জমে থাকা ক্ষোভ ও খোঁচা উগরে দিয়ে অনুষ্কা তাঁর পোস্টে লেখেন: ‘শীতকালীন কম্বল বিতরণ... সরি, অ্যাওয়ার্ড বিতরণ এর অনুষ্ঠানটা হবে এ বছর?’

তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টটি যে সরাসরি অতীতের ‘চাটুকারিতা’ ও ‘দলদাস’ সংস্কৃতির উদ্দেশ্যেই করা, তা বুঝতে কারোরই বাকি ছিল না।

‘কম্বল পাওনি বলে আজ এই কথা বলছো!’— নেটপাড়ার ট্রোলের জবাবে অনুষ্কা

কমেন্ট বক্সে এক নেটিজেন সরাসরি খোঁচা দিয়ে লেখেন— ‘আগে কম্বল পাওনি (পুরস্কার পাওনি) বলেই আজ এত কথা বলছো!’ তবে ট্রোলের মুখে দমে যাওয়ার পাত্রী নন অনুষ্কা। সেই মন্তব্যের জবাবে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পাল্টা চাল দিয়ে নায়িকা লেখেন: ‘পাবো কেন? এত সহজে কি জীবনে কিছু পাওয়া যায়? অনেক কষ্ট করতে হয়!’

তাঁর এই ‘অনেক কষ্ট করতে হয়’ মন্তব্যের আড়ালেও যে এক গভীর উপহাস লুকিয়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট। তিনি পরোক্ষে বোঝাতে চেয়েছেন, পুরস্কার পাওয়ার জন্য অভিনয়ের চেয়েও ক্ষমতাশালীদের মন জুগিয়ে চলার যে ‘কষ্ট’ করতে হতো, তা তিনি কোনওদিন করেননি।

কেরিয়ার বনাম চাটুকারিতার বিতর্ক

বাংলায় এখন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারের জমানায় বিনোদন জগতের চালচিত্র কেমন হয়, তা নিয়ে যখন চর্চা চলছে, ঠিক তখনই অনুষ্কার এই পোস্টটি এই মুহূর্তে টলিপাড়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক চরম ক্ষোভকে সামনে এনে দিয়েছে। পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তারকাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো এতদিন ধামাচাপা পড়েছিল, অনুষ্কার এই ‘কম্বল বিতরণ’ পোস্টটি যেন সেই ক্ষতেই নতুন করে নুন ছিটিয়ে দিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe