টেলিভিশন পর্দার দর্শকদের অত্যন্ত পছন্দের একটি মেগা ধারাবাহিক ‘আনন্দী’-র সফর অবশেষে শেষ হলো। জি বাংলার (Zee Bangla) এই জনপ্রিয় ধারাবাহিকের শেষ দিনের শ্যুটিংয়ের কাজ শেষ হয়ে গেল বৃহস্পতিবার। আর শ্যুটিং ফ্লোরের সেই শেষ মুহূর্তের আলো-আঁধারি, কেক কাটা আর বিদায়ের বিষণ্ণতা ছুঁয়ে গেল ধারাবাহিকের মূল চরিত্র তথা পর্দার ‘আনন্দী’ অন্বেষা হাজরাকে।

দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাসের এক দুর্দান্ত ও সফল জার্নি শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন অন্বেষা। গীতায় শ্রীকৃষ্ণের সেই বিখ্যাত ‘বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়...’ শ্লোকটি তুলে ধরে নিজের জীবনের এক অধ্যায় শেষের যন্ত্রণার কথা ব্যক্ত করেছেন ছোটপর্দর এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী। নীলাঞ্জনা শর্মা প্রযোজিত এই শো-এ দ্বিতীয়বারের জন্য জুটি বেঁধেছিল অন্বেষা-ঋত্বিক। তাঁদের ফিরে আসা সফল।
‘১ বছর ১০ মাস পর আজ আনন্দীর শরীর থেকে বেরোলাম’
অভিনয়কে যাঁরা আত্মস্থ করেন, তাঁদের কাছে একেকটি চরিত্র যেন একেকটি নতুন জন্ম। অন্বেষার পোস্টেও ধরা পড়ল সেই চেনা সুর। গীতায় যেভাবে পুরোনো বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র ধারণের মাধ্যমে আত্মার রূপান্তরকে বোঝানো হয়েছে, ঠিক সেই দর্শনেই অন্বেষা লিখেছেন, ‘আজ ১ বছর ১০ মাস পর আমি আনন্দীর শরীর থেকে বেরোলাম….. আবার কোন নতুন শরীরে দেখা হবে….’।
‘বাপের জন্মে এতো সম্মান পাই নি’— প্রযোজক ও চ্যানেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা
{{/usCountry}}‘বাপের জন্মে এতো সম্মান পাই নি’— প্রযোজক ও চ্যানেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা
{{/usCountry}}শ্যুটিংয়ের শেষ দিনে প্রযোজনা সংস্থা ‘নিনিচিনিস মাম্মা’স প্রোডাকশন’ (Ninichinis Mamma's Production)-এর কর্ণধার নীলাঞ্জনা শর্মা (আগে সেনগুপ্ত) এবং জি বাংলা চ্যানেলের তরফ থেকে যে বিপুল ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন অন্বেষা, তা দেখে তিনি আপ্লুত। এক্কেবারে মন থেকে অকপটে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘খুব ভালোভাবে বলতে গেলে এই টুকুই বলতে পারি…. আমি বাপের জন্মে এতো সম্মান পাই নি ….. আমাদের প্রোডিউসার নীলাঞ্জনা শর্মা সত্যিই নিজের মেয়ের মতনই আমাদের আনন্দীর খেয়াল রেখেছেন…ধন্যবাদ ম্যাম’।
এর পাশাপাশি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জ্যোতি দাকে (যিনি আক্ষরিক অর্থেই তাঁর হাত ধরে এই ধারাবাহিকে নিয়ে এসেছিলেন)। ধন্যবাদ জানিয়েছেন মানসী সিনহাকে, যিনি নিজের অত্যন্ত ব্যস্ত সিনেমার শিডিউল সামলেও অন্বেষাকে এই কাজের জন্য সময় বের করে দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে শিল্পী মিত্র (Shilpi Mitra)-র ‘ম্যাজিক মশলা’ ছাড়া যে আনন্দী ফিকে হয়ে যেত, তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি অন্বেষা।
গোটা ইউনিটকে মিস করার পালা
পোস্টের শেষ অংশে অন্বেষা তাঁর সহকর্মী, পরিচালক ও ক্যামেরার পেছনের কারিগরদের নাম ধরে ধরে ধন্যবাদ জানান। পরিচালক গোপাল চক্রবর্তীকে ‘ঝড়’ বলে সম্বোধন করে তাঁর কাজের ঘরানার প্রশংসা করেন তিনি। এছাড়া শুভ্রজ্যোতি মাইতি, হোয়াইট দা, পার্থ দে, অভিষেক-সহ পারমিতা বসু, শুভাঙ্গী ঘোষ, সুচন্দ্রা বসু, কৃষাণু গাঙ্গুলী, ধ্রুব ও অতনু দাকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পর্দার পরিবার ও ফ্লোরের কর্মীদের কথা মনে করে তিনি লেখেন:
‘তোমাদের সবাইকে খুব মিস করবো…. বড়হুলি, সঞ্জয় দা, পাপ্পু দা, শিবানী, প্রিয়াঙ্কা দি…. আমার মা থেকে বাবা, বনটি থেকে দাদা বৌদি রা, বর থেকে মেয়ে, নন্দিনী থেকে নন্দিনী সবাই কে খুব মিস করবো…. গোটা ইউনিট গোটা ফ্লোর সব্বাই কে খুব মিস করবো। ফির মিলেঙ্গে চলতে চলতে’।
এই মেগার সঙ্গেই নতুন সফর শুরু করেছিলেন নীলাঞ্জনা। যিশুর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের পর যিশু উজ্জ্বল প্রোডাকশন হাউস থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজস্ব সংস্থা খোলেন নীলাঞ্জনা। যার প্রথম মেগা আনন্দী। সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে বন্ধ হচ্ছে আনন্দী।