বাঙালি দর্শকের অত্যন্ত প্রিয় এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya) মানেই পর্দায় একরাশ পজিটিভিটি আর প্রাণখোলা হাসি। অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তিনি ভীষণ স্পষ্টবক্তা এবং জীবনকে নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি চল্লিশের কোঠা পার করা নারীদের বয়স এবং তাঁদের লাইফস্টাইল নিয়ে সমাজের চেনা ‘নীতিপুলিশি’ ও বাঁকা চাহনির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট শেয়ার করলেন অভিনেত্রী।

চুলে দুটো পেকে যাওয়া সাদা রঙ কিংবা মুখে দু-চারটে বয়সের ভাঁজ দেখলেই সমাজ যেভাবে একজন নারীকে ‘পুরোনো’ বা ‘অবসরপ্রাপ্ত’ তকমা দিয়ে দিতে চায়, তার বিরুদ্ধেই এবার গর্জে উঠলেন অপরাজিতা।
‘বয়স বাড়লে কি EMI কমে, নাকি সংসারের চিন্তা থামে?’
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাজিতা প্রশ্ন তুলেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সমাজ যেভাবে নারীদের সাজগোজ বা আনন্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চায়, বাস্তব দায়িত্বগুলো কি আদেও কমে? তিনি লেখেন, ‘চল্লিশ ছুঁলেই সবাই বলে, ‘উফ! বুড়ি হয়ে গেলে!’ আমি বলি, ‘বেশ তো ভাই, বয়সটা কি ফ্রিজে রেখে দেব নাকি?’ চুলে দুটো সাদা রং, মুখে দু-চারটে ভাঁজ, তাতেই যেন সমাজের চোখে আমি পুরোনো এক সাজ! কিন্তু মজার কথা শুনবে? বয়স বাড়লে কি EMI কমে? সংসারের চিন্তা থামে? সকালের রান্না নিজে হয়? নাকি কাপড়গুলো নিজেই কাচে? বয়স বাড়লে কি সন্তানের দায়িত্ব কমে? মায়ের চিন্তা ফুরোয়? বাড়ির হিসেব মেটে? না, কিছুই তো কমে না!’
অপরাজিতার আক্ষেপ, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সমস্ত কঠিন দায়িত্ব একই থাকলেও, কমে না শুধু মানুষের অনধিকার উপদেশ। সমাজ তখন বলতে শুরু করে— ‘এত লাল শাড়ি কেন?’, ‘এত সাজো কেন?’, ‘এই বয়সে নাচ?’, ‘এই বয়সে প্রেমের গান?’। অভিনেত্রীর সাফ কথা, বয়স তো আর বিদ্যুতের বিল নয় যে নির্দিষ্ট দিনে এসে জীবনের সমস্ত রঙ কেটে দিয়ে চলে যাবে!
{{/usCountry}}অপরাজিতার আক্ষেপ, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সমস্ত কঠিন দায়িত্ব একই থাকলেও, কমে না শুধু মানুষের অনধিকার উপদেশ। সমাজ তখন বলতে শুরু করে— ‘এত লাল শাড়ি কেন?’, ‘এত সাজো কেন?’, ‘এই বয়সে নাচ?’, ‘এই বয়সে প্রেমের গান?’। অভিনেত্রীর সাফ কথা, বয়স তো আর বিদ্যুতের বিল নয় যে নির্দিষ্ট দিনে এসে জীবনের সমস্ত রঙ কেটে দিয়ে চলে যাবে!
{{/usCountry}}‘কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, চল্লিশে এসে বুঝেছি— আমি আসলে সমুদ্র!’
বয়সকে স্রেফ একটা সংখ্যা উল্লেখ করে অপরাজিতা জানান, সময়ের সাথে সাথে একজন নারী আরও বেশি পরিণত ও গভীর হয়ে ওঠে। নিজেকে ভালোবাসার ক্ষমতাটা বাড়ে। নিজের এই রূপান্তরকে চমৎকার রূপকে সাজিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তো সেই মানুষ, শুধু অভিজ্ঞতা একটু বেশি, হাসিটা একটু গভীর, কান্নাটা একটু চুপচাপ, আর নিজেকে ভালোবাসাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি। কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, ত্রিশে হয়েছি নদী, চল্লিশে এসে বুঝেছি— আমি আসলে সমুদ্র! আমার ঢেউ আছে, আমার গভীরতা আছে, আমার ঝড় আছে, আর আছে নিজের মতো বাঁচার সাহস।’
‘নারী বুড়ো হয় না, প্রতি বছর আরও একটু গল্প হয়ে ওঠে’
সমাজের তৈরি করে দেওয়া ‘বুড়ি’ শব্দটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিতা আঢ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বয়স বাড়া কোনও অপরাধ নয়। অপরাধ হলো একজন নারীর বয়স দেখে তাঁর রঙিন মনটাকে জোর করে অবসর দিয়ে দেওয়া।
পোস্টের শেষে একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে অভিনেত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমি বুড়ি নই, আমি পরিণত। আমি শেষ নই, আমি পূর্ণ। আর যদি লাল শাড়ি পরে, ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে, হেসে একটা ছবি তুলি— তাহলে জেনে রেখো, আমি বুড়ি হইনি, আমি জীবনটাকে উদযাপন করছি! কারণ নারী বুড়ো হয় না, নারী শুধু প্রতি বছর আরও একটু গল্প হয়ে ওঠে।’
টলিউড অভিনেত্রীর এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হাজার হাজার নারী তাঁর এই লেখনীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বয়স নির্বিশেষে জীবনকে প্রাণভরে উপভোগ করার এই বার্তা সত্যি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রতিটি নারীর জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।