চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আক্ষরিক অর্থেই এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিল আর্জেন্টিনা। মিশরের (Egypt) বিরুদ্ধে নক-আউট ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে লিওনেল মেসির দল শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নিল, তা দেখে স্তম্ভিত গোটা ফুটবল বিশ্ব। আর ফুটবলপ্রেমীদের এই উন্মাদনার মাঝেই আর্জেন্টিনার এই রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে সমাজমাধ্যমে এক আবেগঘন, গভীর ও শিক্ষণীয় পোস্ট লিখলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)।

ফুটবলের পরিভাষা পুরোপুরি না বুঝলেও, স্রেফ খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই আজ আর্জেন্টিনা বনাম ইজিপ্ট ম্যাচটিকে নিজের জীবনের এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা বানিয়ে ফেলেছেন অপরাজিতা।
‘গাইতে গাইতে গায়েন’— দিদিমার কথা থেকে ফুটবলের ভাষা
অপরাজিতা তাঁর লেখার শুরুতেই ওঁর দিদিমার একটি পুরনো প্রবাদ স্মরণ করেছেন— ‘গাইতে গাইতে যার গলায় সুর নেই, সেও একদিন একটু একটু গাইতে শিখে যায়।’ অভিনেত্রীর মতে, এই কথাটা শুধু গানের জন্য নয়, জীবনের জন্যও সত্যি। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, ‘আমি ফুটবলের মানুষ নই। অফসাইড, প্রেসিং, ফলস নাইন, উইং—এসব এখনও পুরো বুঝি না। কিন্তু খেলাটা দেখতে ভালোবাসি। আর দেখতে দেখতে, ভালোবাসতে ভালোবাসতেই, খেলার ভাষাটাও একটু একটু করে শিখে ফেলেছি। তাই আজকের আর্জেন্টিনা–ইজিপ্ট ম্যাচ শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ হয়ে রইল না, জীবনের একটা বড় শিক্ষা হয়ে গেল।’
ঝড়ের মাঝে মেসির সেই শান্ত হাসি ও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
সাধারণ মানুষের মতো অপরাজিতাও জীবনের সংকটে ভয় পান, বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে, ঈশ্বরের কাছে কাঁদেন। কিন্তু এই ম্যাচে লিওনেল মেসিকে দেখে তিনি এক নতুন জীবনদর্শন শিখেছেন। যখন আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে এবং গ্যালারি থেকে শুরু করে টিভির ওপারের মানুষ প্রায় ধরে নিয়েছে যে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ— তখনও মেসির মুখে কোনো আতঙ্ক ছিল না।
{{/usCountry}}সাধারণ মানুষের মতো অপরাজিতাও জীবনের সংকটে ভয় পান, বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে, ঈশ্বরের কাছে কাঁদেন। কিন্তু এই ম্যাচে লিওনেল মেসিকে দেখে তিনি এক নতুন জীবনদর্শন শিখেছেন। যখন আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে এবং গ্যালারি থেকে শুরু করে টিভির ওপারের মানুষ প্রায় ধরে নিয়েছে যে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ— তখনও মেসির মুখে কোনো আতঙ্ক ছিল না।
{{/usCountry}}মেসির সেই ঐশ্বরিক মানসিকতা নিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘তখনও মেসির মুখে আতঙ্কের চিহ্ন ছিল না। ছিল এক শিশুর মতো শান্ত হাসি। সেই হাসিটা যেন বলছিল— ‘শেষ বলে কিছু হয় না। শেষ মানেই, নতুন শুরুর অপেক্ষা।’ আর তারপরই ঘটল সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষের কয়েক মিনিটে তিনটি গোল। যে ম্যাচ হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, সেটাই জয়ে বদলে গেল।’
মহান নেতৃত্ব ও অহং ত্যাগের শিক্ষা
এই ম্যাচ থেকে অপরাজিতা নেতৃত্বের এক অনন্য পাঠ পেয়েছেন। আমরা অনেকেই নিজের ‘কমফোর্ট জোন’ আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। কিন্তু মেসি দেখিয়েছেন প্রকৃত মহানায়কেরা কীভাবে নিজের জায়গা ছেড়ে দিতে জানেন।
অভিনেত্রীর লেখেন, ‘মহান নেতৃত্ব মানে সব আলো নিজের ওপর টেনে নেওয়া নয়; অনেক সময় অন্যের জন্য আলো জ্বালিয়ে দেওয়া। সব গোল নিজেকে করতে হবে না। সব কৃতিত্ব নিজের হতে হবে না। কখনও কখনও অন্যকে জায়গা করে দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় জয়।’
অপরাজিতা মনে করেন, যে মানুষ ঝড়ের মাঝেও হাসতে পারে, নিজের অহং সরিয়ে দলকে বড় করে দেখে— ভাগ্য ও ঈশ্বর তাঁর পাশেই দাঁড়ান। তাই ছোটপর্দার লক্ষ্মী কাকিমার বিশ্বাস, ঈশ্বর কোথাও দূরে নন; যে মানুষ নিজের ভয়কে জয় করে অন্যকে জিততে শেখায়, ঈশ্বর তাঁর মধ্যেই প্রকাশ পান। আর্জেন্টিনার এই জয় অপরাজিতাকে শিখিয়ে দিল যে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলে জীবনও কখনও না কখনও নিজের ‘স্কোরলাইন’ বদলে দিতে বাধ্য।