রাজনীতির সাতে-পাঁচে থাকেন না তিনি। তবে কোথাউ অন্যায়-অবিচার দেখলে গর্জে উঠতে ভয় পান না অরিজিৎ সিং। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত জানানোর পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রে রয়েছেন গায়ক অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। একদিকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ছাত্রদের সমর্থনে তাঁর বার্তার জেরে জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্রকে নিয়ে ট্রোল ও বিতর্ক থামার নামই নিচ্ছে না।

সম্প্রতি একজন চিকিৎসকের সাথে হওয়া কথোপকথন এবং তাঁর ‘সবজান্তা’ মনোভাবের কথা তুলে ধরে নিজের ব্যক্তিগত এক্স (X) হ্যান্ডেলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অরিজিৎ।
‘একজন ডাক্তার কীভাবে এত বিভ্রান্ত হতে পারেন!’
অরিজিৎ সিং তাঁর পোস্টে জানান, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তাঁর অবস্থান বোঝাতে গিয়ে তিনি এক চিকিৎসকের মুখোমুখি হন। কিন্তু সেই চিকিৎসক কোনো যুক্তি মানতে রাজি নন। গায়কের কথায় তিনি একটি বড় গাছ কাটার বদলে নতুন চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের অবাস্তব অজুহাত দিতে শুরু করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে অরিজিৎ লেখেন, ‘একজন ডাক্তারবাবু আমার বক্তব্যে বেশ বিরক্ত হলেন। যেন আমার বয়েই গেছে! আমি ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর অবস্থান স্পষ্ট করলাম। এরপর তাঁকে দেশজুড়ে অবাধে গাছ কাটার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। অথচ উনি ‘সবজান্তা’দের মতো জ্ঞান দিয়ে বললেন— ‘একটা গাছ কাটলে তার বদলে নতুন চারাগাছ লাগানো হচ্ছে কি না, সেই খোঁজ খবর নিয়েছ?’ ওনাকে আর কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি। বিশ্বাসই করতে পারছি না একজন ডাক্তার কীভাবে এত বিভ্রান্ত বা অবাস্তব মানসিকতার হতে পারেন! ওনার চেয়ে একজন মালি (গবেষক বা পরিবেশপ্রেমী) হয়তো অনেক ভালো উত্তর দিতে পারতেন।’
কেন চারাগাছ একটি পূর্ণবয়স্ক গাছের বিকল্প নয়?
{{/usCountry}}কেন চারাগাছ একটি পূর্ণবয়স্ক গাছের বিকল্প নয়?
{{/usCountry}}নিজের ভাবনার সমর্থনে একটি লিখিত বিবৃতিও শেয়ার করেছেন অরিজিৎ সিং। সেখানে উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো গঠন জরুরি, তবে জীবনের মূল ভিত্তি বা পরিবেশকে ধ্বংস করে সেই উন্নয়ন অর্থহীন।
একটি নতুন পোঁতা চারাগাছ কখনোই এক বা একাধিক দশক, এমনকি শতাব্দী ধরে বেড়ে ওঠা পূর্ণাঙ্গ গাছের জায়গা নিতে পারে না। একটা পুরোনো গাছ যে ছায়া, পরিবেশের ভারসাম্য, কার্বন শোষণ ও পশুপাখির বাসস্থান জোগায়— তা নতুন চারাগাছ সঙ্গে সঙ্গে দিতে পারে না।
আজকের অবহেলার কারণে চরম উত্তাপ, বায়ুদূষণ, বন্যা ও অনাবৃষ্টির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রাচীন জঙ্গল বা প্রবীণ বৃক্ষ একবার হারিয়ে গেলে তা আর কোনো দিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
অরিজিতের স্পষ্ট বার্তা
বিতর্ক ধেয়ে এলেও অরিজিৎ সিং তাঁর চিন্তাভাবনায় অনড়। পরিবেশ ও সামাজিক সত্যের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘গাছেরা নিজের কথা নিজে বলতে পারে না। নাগরিক হিসেবে আমাদেরই এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের হয়ে কথা বলতে হবে। সংক্ষিপ্ত লাভের চেয়ে জ্ঞান এবং ধ্বংসের চেয়ে জীবন রক্ষাকেই বেছে নিতে হবে।’
কিছুদিন আগেই উত্তরাখণ্ডে হৃষিকেশ হাইওয়ের সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ৪,৩০০-র বেশি গাছ কেটে ফেলার নির্দেশ এসেছিল। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদের জেরে আপতত সেই সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। পরিবেশ নিয়ে বরাবরই সচেতন অরিজিৎ সিং। একবার শ্রীজাত জানিয়েছিলেন, পরিবেশের স্বার্থে এসি (এয়ার কন্ডিশনার) ব্যবহার করেন না অরিজিৎ।