তারকাদের অনেকেই দিল্লিতে চলা ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে কয়েকজন হাতে গোনা তারকা মুখ খুলেছেন, তাঁদের উপরও চেপেছে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা। তা সে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি হোক, নাসিরুদ্দিন শাহ বা বিশাল দাদলানি। তবে এবার এগিয়ে এসে তরুণদের এই প্রতিবাদে সামিল হলেন এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং।

শুধু ছাত্র-যুবদের পাশেই দাঁড়াননি তিনি, কঠোরভাষায় সমালোচনা করেছেন দিল্লি পুলিশ, নেতা-মন্ত্রীদের। সঙ্গে সাবধানবাণী, ‘সব কিছু মনে থাকবে…’! অরিজিৎ তাঁর ইনস্টা হ্যান্ডেল whoami-তে পোস্ট করেছেন, ‘আপনারা তো এবার ছাত্রদের মারধর করছেন। হ্যালো দিল্লি পুলিশ, আপনাদের লজ্জা করছে না? হ্যালো নেতা মন্ত্রী! কী চলছে ভাই? নিজেদেরকে ভগবান ভেবে নিয়েছেন নাকি? সব কিছু মনে থাকবে। হর হর মহাদেব। আর মনে রাখবেন, দ্য অনলি কনস্ট্যান্ট ইজ চেঞ্জ (পরিবর্তনই চিরন্তন সত্য)’।
এই প্রথম নয়, এর আগে বাংলায় আরজি কর আন্দোলনের সময় এভাবেই প্রতিবাদের মুখ হয়েছিলেন অরিজিৎ। তাঁর লেখা ‘আর কবে’ গান হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা। এবার দিল্লি-র ঘটনাতে আসা অরিজিতের টুইট প্রমাণ করল, জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্রের প্রতিবাদের স্বর এখনো শক্তিশালী।
এখানেই থেমে থাকেননি অরিজিৎ, আরও একটি পোস্ট করেন। যেখানে ‘minister.edu@gov.in’-এর মেইল আইডি দিয়ে অরিজিৎ সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে ইমেইল করতে, সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে ‘আমাদের অধিকার কী?’ লেখেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোল। এগিয়ে চলো, ভারত!’
সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে 'চলো সংসদ' কর্মসূচি শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। যাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দেয় দলে দলে মানুষ। যার মূল দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিতে হবে সরকারকে। আর দেশের তরুণদের জন্য ২৮ জুন থেকে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। যদিও শনিবার ১৮ জুলাই বলপূর্বক তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি। এরপর সোমবার ছাত্রদের 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে লাঠি চালায় দিল্লি পুলশ, ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্য়াস, জল কামান। রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
{{/usCountry}}সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে 'চলো সংসদ' কর্মসূচি শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। যাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দেয় দলে দলে মানুষ। যার মূল দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিতে হবে সরকারকে। আর দেশের তরুণদের জন্য ২৮ জুন থেকে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। যদিও শনিবার ১৮ জুলাই বলপূর্বক তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি। এরপর সোমবার ছাত্রদের 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে লাঠি চালায় দিল্লি পুলশ, ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্য়াস, জল কামান। রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, সোমবারই ককরোচ জনতা পার্টির একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছে। তাঁদের তরফ থেকে তিন দফা দাবি জমা দেওয়া হয়েছে। এগুলি হল সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। দলের মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, নাড্ডা তাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সময় চেয়েছেন। তবে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না সরকার তাঁদের দাবি মানবে, তাঁরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে।
এদিকে, সদরজং হাসপাতালেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াংচুক। প্রথমে তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলেও, পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদে অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত খারিজ করেন।