নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিজেপি (BJP)-র নির্বাচনী খরচের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতি ও সোশাল মিডিয়ায় তোলপাড়! কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রচারের জন্য সমাজমাধ্যম প্রভাবী (Influencers) সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) ও শমীক চক্রবর্তী (Shamik Chakraborty)-কে যথাক্রমে আড়াই লাখ এবং ১৩ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দিয়েছে বিজেপি। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা টাকা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার করেছেন— এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল কাদা ছোড়াছুড়ি।

আর এই গোটা বিষয় নিয়ে এবার সোশাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও টলিউডের নামী কালারিস্ট অরিত্র দত্ত বণিক।
‘তৃণমূলের খুনের হুমকি, কিন্তু বিজেপির টাকা নিইনি!’— অরিত্রের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
অরিত্র তাঁর পোস্টে জানান, শাসকদলের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে ও ডিজিটাল মাধ্যমে বিরোধীদের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তিনি প্রথম সারিতে লড়াই করেছেন। সেই সময়ে তৃণমূলের লোকাল মস্তানরা তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছিল, এমনকি গভীর রাতে পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছিল।
অরিত্র জানান, বিজেপি সে সময় তাঁকে সবরকম সাহায্য করার আশ্বাস দিলেও তিনি সম্মানের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সাফ কথা: ‘সমাজের আবর্জনা সরাতে যখন প্রথম নামি, তখন বিজেপির কথা ভেবে নামিনি। তাই বিপদের সময়েও একাই লড়ব ঠিক করেছিলাম। বিজেপি সাহায্য করতে চেয়েছিল, কিন্তু সসম্মানে ফিরিয়েছি।’
‘টাকা খেয়ে নিজের নৈতিকতা বিক্রি করিনি!’
{{/usCountry}}‘টাকা খেয়ে নিজের নৈতিকতা বিক্রি করিনি!’
{{/usCountry}}নির্বাচন কমিশনের তালিকার কথা উল্লেখ করে সাধের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মিডিয়া এজেন্সিগুলোকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অরিত্র। তিনি স্পষ্ট জানান, অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজলেও বিজেপির ফান্ড থেকে তাঁর এক টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে না। 'আজ প্রেস নির্বাচন কমিশনের তালিকা নিয়ে হইচই করছেন। আপনাদের সাধের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা লাখ লাখ টাকা পেশাদার ফিজ নিয়েছেন বিজেপির হয়ে বলার জন্যে! কিন্তু অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে খুঁজে দেখলেও সেই টাকা ট্রান্সফারের তালিকায় আমার নাম পাবেন না। কারণ আজ অব্দি জীবনে একটিও আনডিউ অ্যাডভান্টেজ কারোর থেকে নিইনি, নিজের পছন্দের বাইরে বেরিয়ে টাকা খেয়ে কাজ করিনি।"
রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান:
তিনি আরও জানান, সরাসরি রাজনীতিতে আসার একাধিক অফার পেলেও উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়া নামতে চাননি বলেই সেই সুযোগ ফিরিয়েছেন। নিজের কথা বলার জন্য কোনও পিআর (PR) বা মার্কেটিং এজেন্সি রাখেননি তিনি।
শেষে অরিত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাকার লোভে বা ভয়ে নিজের নীতি তিনি বিসর্জন দেবেন না। রাজনৈতিক অপরাধীদের হাতে গুলি খেয়ে না মরা পর্যন্ত বা আদালত কারাদণ্ড না দেওয়া পর্যন্ত তিনি একইভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সত্য কথা বলেই যাবেন!