নিজের ব্যক্তিগত জীবন, ভাবনা ও মানসিক স্বাধীনতা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী প্রখ্যাত অভিনেত্রী এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পত্নী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় (Arpita Chatterjee)। অর্পিতা নামেই স্বাচ্ছন্দ তিনি, ‘প্রসেনজিৎ ঘরণী’ তকমা আপত্তি রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সমাজ ও পরিবারের তৈরি করে দেওয়া সনাতন ছক ভেঙে নিজের ব্যক্তি সত্ত্বা, স্বাধীনতা এবং মানসিক তৃপ্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

পরিবারই শেষ কথা নয়: ব্যক্তিত্বের গ্রোথ ও আত্মতৃপ্তিই প্রথম
সাধারণত আমাদের সমাজে নারীদের ক্ষেত্রে পরিবারকে সর্বেসর্বা মনে করা হলেও, অর্পিতা একেবারেই সেই চিন্তাধারায় বিশ্বাসী নন। নিজের জীবনবোধ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে সিটি সিনেমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মানুষ হিসেবে… পরিবারটাই প্রথম এবং পরিবারই শেষ, পরিবারই সবকিছু— সেই মানসিকতার মানুষ আমি নই। আমি ব্যক্তি মানুষ হিসেবে কতটা গ্রো করতে পারছি, আমি কতটা সুখী, আমি কতটা পরিপূর্ণ, সেটাও আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
একাধিক ভূমিকা ও নিজের সত্তাকে টিকিয়ে রাখার লড়াই
অভিনেত্রী জানান, একজন নারী হিসেবে তাঁর জীবনে একই সাথে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। নাটকের মঞ্চে তিনি 'গওহর জান'-এর মতো চরিত্র ফুটিয়ে তোলা থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনে মা, মেয়ে, বউ ও বৌমার ভূমিকা— সবকিছুতেই তাঁকে যুক্ত থাকতে হয়। শুধু তা-ই নয়, দিল্লিতে তাঁর নিজের একটি প্রোডাকশন হাউজ রয়েছে, সেখানকার বিশাল কর্মযজ্ঞ ও পরিচালনার দায়িত্বও তিনি সামলান।
তবে এই সমস্ত ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করার মূল চাবিকাঠি যে নিজের ভেতরের আনন্দ ও সন্তুষ্টি, তা স্পষ্ট করে দেন অর্পিতা। অভিনেত্রীর মতে, একজন নারী যদি ব্যক্তিগতভাবে নিজে সুখী, পরিপূর্ণ এবং সন্তুষ্ট না থাকেন, তবে তিনি পরিবারের বা কর্মক্ষেত্রের কোনো দায়িত্ব বা ভূমিকাই মন থেকে সফলভাবে পালন করতে পারবেন না। অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের আত্মসত্তা বা বিকাশকে বিসর্জন দেওয়া কোনো সুস্থ মানসিকতা হতে পারে না বলেই অর্পিতার বিশ্বাস। পাশাপাশি অর্পিতার কথায় ভালোবাসা 'ওভাররেটেড একটা জিনিস'।
{{/usCountry}}তবে এই সমস্ত ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করার মূল চাবিকাঠি যে নিজের ভেতরের আনন্দ ও সন্তুষ্টি, তা স্পষ্ট করে দেন অর্পিতা। অভিনেত্রীর মতে, একজন নারী যদি ব্যক্তিগতভাবে নিজে সুখী, পরিপূর্ণ এবং সন্তুষ্ট না থাকেন, তবে তিনি পরিবারের বা কর্মক্ষেত্রের কোনো দায়িত্ব বা ভূমিকাই মন থেকে সফলভাবে পালন করতে পারবেন না। অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের আত্মসত্তা বা বিকাশকে বিসর্জন দেওয়া কোনো সুস্থ মানসিকতা হতে পারে না বলেই অর্পিতার বিশ্বাস। পাশাপাশি অর্পিতার কথায় ভালোবাসা 'ওভাররেটেড একটা জিনিস'।
{{/usCountry}}সময়ের সঙ্গে হয়ত অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের ভাবনায় বদল এসেছে। কারণ একটা সময় নিজের কেরিয়ারকে শিকেয় তুলে মায়ের দায়িত্ব সামলেছেন অর্পিতা। বিয়ের দু-বছরের মধ্যেই পুত্র তৃষাণজিৎ-এর জন্ম দেন অর্পিতা। এবং সেইসময় অভিনয়ের জগত থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এক দিদি নম্বর ১-এর মঞ্চে রচনাকে অভিনেত্রী বলেছিলেন, 'জীবনের প্রত্যেকটা অধ্যায় কিছু না কিছু শিখিয়েছে। প্রথমে অভিনেত্রী, তারপর ঘরণী, তারপর মা। আবার ফের কাজে ফিরে আসা। উদ্যোগপতি হিসেবে দিল্লিতে নিজের প্রোডাকশন হাউস, কাজ। সব মিলিয়ে জীবন আমাকে সম্পূর্ণা হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।'