ছোট বয়সেই বিনোদন জগতে পা রাখেন অহনা দত্ত। ডান্স বাংলা ডান্স দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপরই হাতে আসে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’। সদ্য আঠেরো পেরনো মেয়েটা হয়ে ওঠে ছোট পর্দার দুঁদে খলনায়িকা মিশকা। বর্তমানে অহনাকে দেখা যাচ্ছে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে। কম বয়সে শুধু অভিনয়েই যে দারুণ তা নয়, সংসারও করছেন গুছিয়ে। সদ্য মা হয়েছেন। মেয়ে মীরাকে সামলে চলছে মেগার শ্যুটিং। বৃহস্পতিবার অহনার জন্মদিনে তাঁকে ভালোবাসায় ভরালেন সহকর্মী অস্মিতা, মনসীরা।

অহনার সঙ্গে তোলা একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে অস্মিতা চক্রবর্তী লিখলেন, ‘হ্যাপি বার্থ ডে মিষ্টি মেয়ে, বাচ্চা মেয়ে। কিন্তু আমার থেকে অত ছোটো একটা মেয়ে কিন্তু কী কনফিডেন্ট! যার মনের জোরের কথা আমি রিমোর কাছে শুনেছিলাম, কিন্তু এখন কাজ করতে করতে দেখতে পাই। যার মনে যেটা থাকে সেটা মুখে প্রকাশ হয়। খুব কেয়ারিং একটা মা, আর সব শেষে যেটা না বলে নয় সেটা হল একজন ভালো অভিনেত্রী। এরকমই থাক। আর তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যা। জন্মদিন খুব ভালো কাটুক।’ অহনাকে শুভেচ্ছা জানালেন মানসী সেনগুপ্তও। লিখলেন, ‘হ্যাপি বার্থ ডে বিউটিফুল।’
মেয়ে হওয়ার চার মাস পরেই নতুন কাজ শুরু করেন অহনা। খুদেকে সামলান অভিনেত্রীর শ্বশুরমশাই আর পরিচারিকারা। তবে শ্যুটের ফাঁকে লম্বা বিরতি পেলেই অহনা ছুটে যান বাড়িতে। মেয়ের সঙ্গে সময় কাটনোর কোনো সুযোগই ছাড়েন না। অহনার স্বামী দীপঙ্কর রায় ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ। পেশায় মেকআপ আর্টিস্ট। মেয়ের জন্মের আগেই হারিয়েছেন শাশুড়িকে। তাই শাশুড়ির নামেই সন্তানের নাম রেখেছেন মীরা।
অহনা ডান্স বাংলা ডান্সে অংশগ্রহণ করেন মা চাঁদনীর সঙ্গে। মা-মেয়ের যুগলবন্দি কেড়েছিল নজর। তবে অহনা আর দীপঙ্করের প্রেম শুরুর পর থেকেই, পরিবারের সঙ্গে বাড়ে দূরত্ব। বয়সে বড়, ডিভোর্সি, মেকআপ আর্টিস্টকে মেয়ের পাত্র মেনে নিতে পারেননি চাঁদনী। ফলে মা-মেয়ের দূরত্ব বাড়ে। বাড়ি ছেড়ে টালিগঞ্জে প্রথমে লিভ ইন করেন অহনা আর দীপঙ্কর।
তবে তাঁদের সম্পর্কে প্রথম থেকেই ঢাল হয়ে ছিল দীপঙ্করের পরিবারের লোক। তাঁদের উপস্থিতিতেই আইনি বিয়ে। আর এখন অহনা-মীরাকেও অগলে রেখেছেন তাঁরাই। তাই রেস্তোরাঁ হোক বা কাছেপিঠে কোনো ট্যুর, অহনার সঙ্গে প্রায় সবক্ষেত্রেই দেখা যায় তাঁর শ্বশুরমশাইকে। তবে মা-মেয়ের অভিমান মেটেনি এখনো। এমনকী, অহনার মা এখনো দেখেননি নাতনির মুখও।