সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। অর্থাৎ দিদির প্রিয় ‘কানন’! তবে মাঝখানে ভাই-বোনের মধ্যে মন কষাকষি ছিল চরমে। শোনা যায়, শোভন আর বৈশাখীর সম্পর্কের কারণেই নাকি মুখ্যমন্ত্রীর কান ভাঙিয়েছিলেন দলেরই কিছু লোক। এখন অবশ্য সেই কালো মেঘ অনেকখানিই কেটেছে। তারই মাঝে ভাইরাল, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতাকে নিয়ে বৈশাখীর বলা কিছু কথা।

আবাসন ও দমকলমন্ত্রীর পদ থেকে ২০১৮ সালে পদত্যাগ দিয়ে বেরিয়ে আসেন শোভন। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। শোভন বান্ধবী বৈশাখীকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। সেই সময় তৃণমূলের নামে কটাক্ষবাণও ছোঁড়েন। তারপর নিজেই ছাড়েন বিজেপি। বছরখানেক আগে আজতক বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময়, বৈশাখী জানিয়েছিলেন ২০১৯ সালে মমতার বাড়িতে শোভনের ভাইফোঁটা নিতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা। শোভন-বান্ধবীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, বেশ ভয়েই ছিলেন তিনি মমতার বাড়ি যাওয়া নিয়ে। কারণ শুনে এসেছিলেন মমতা ‘খুব মুডি, কখন কী বলে দেয় ঠিক নেই!’
সেই সাক্ষাৎকারে বৈশাখীর বক্তব্য ছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন মমতা ফোঁটা নিতে ডেকেছে তাঁর প্রিয় কাননকে। বলে রাখা ভালো, তাঁর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে দলে থাকা সত্ত্বেও মমতা ভাইফোঁটায় ডাকেননি শোভনকে। আর শোভনও নাকি ‘অভিমান’ করে যাননি দিদির ঘরে। বৈশাখীর কথায়, ‘আমাকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন ফোন করে বলেন তখন আমার বক্তব্য ছিল, আমি কী করব ভাইফোঁটাতে। আমার মনে হত, উনি এমনিই আমাকে পছন্দ করেন না। গেলে হয়তো যা তা বলবেন। শুনেছি খুব মুডি মানুষ, কখন কী বলে দেয় ঠিক নেই। আমাকে পার্থদাই একথা বলেছিলেন। তো আমি বলে দেই আমি যাব না। শোভন গেলে যাবে।’
‘পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাও বলেন যে এরকম কোরো না, তোমরা না যাওয়া পর্যন্ত উনি না খেয়ে থাকবেন। তুমি না গেলে শোভনও যাবে না।’, আরও বলেন বৈশাখী।
{{/usCountry}}‘পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাও বলেন যে এরকম কোরো না, তোমরা না যাওয়া পর্যন্ত উনি না খেয়ে থাকবেন। তুমি না গেলে শোভনও যাবে না।’, আরও বলেন বৈশাখী।
{{/usCountry}}বৈশাখী জানান যে, কিছুটা বাধ্য হয়েই রাজি হন। তবে শোভনকে রাজি করাতে গিয়ে নাকি কালঘুম ছুটেছিল। শোভন বিশ্বাসই করছিল না, বৈশাখীকে দিদি ডেকেছেন। শেষে ‘আমি তো দিদির বাড়ি যাইনি, আমার দিদিকে দেখার ইচ্ছে’ এসব বলে শোভনকে রাজি করিয়েছিলেন বৈশাখী। যাওয়ার পথেও ভয়ে ভয়ে ছিলেন, কিছু যেন না আবার ভুল হয়ে যায়। তাহলে বাড়ি ফিরে বকা খেতে হবে তাঁকে শোভনের কাছেই।
তবে এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি গিয়ে তাঁর অনেক ভুল ধারণা ভেঙে যায়। নিজের চোখে দেখে বুঝতে পারেন মমতা ‘বাচ্চা ছেলের’ মতো ভালোবাসেন শোভনকে। বৈশাখীর কথায়, ‘এক বছর যে ওঁরা কথা বলেনি তা দিদির কথায় বোঝা যায়নি। তার মাঝে বিজেপিতেও তো যোগ দিয়েছিল শোভন। সেই নিয়েও সেদিন একটা কথা বলেননি মমতা। চাইলেই তো বলতে পারবেন। ওঁর প্রতি আচরণটা মমতার ছিল একটা বাচ্চা ছেলে অনেকদিন আসেনি আজকে এল। দিদি এমন করছে শোভন যেন একটা ছোট্ট বাচ্চা। শোভনও বাচ্চাদের মতো করছে। একটা অদ্ভুত দৃশ্য ছিল।’
বৈশাখী জানিয়েছিলেন যে, সেদিন মমতা শুধু শোভনকে নয় তাঁকেও ফোঁটা দিয়েছিলেন জানতে পেরে যে কোনও ভাই নেই তাঁর। বৈশাখীর কথায়, ‘ওটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। বড় পাওনা ছিল। আমি সঙ্গে এটাও বুঝেছিলাম যারা বলে উনি অল্পতে রেগে যান, ভুল বলে। খুব গোছানো, ঠান্ডা মাথার মহিলা। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যতবার কথা বলেছি কখনও দেখিনি নিজের মেজাজ হারিয়ে ফেলেছেন বা যুক্তিবোধ হারিয়ে ফেলেছেন। আমার মনে হয় উনি খুব ইমোশনাল। শোভনের প্রতি স্নেহ আলাদাই। আর শোভনও মমতার উপর যে এত অভিমানী, তিনি সেটা নিজেই তৈরি করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর অভিমান করতে পারে এমন রাজনৈতিক নেতা কম আছে। আমি দেখেছি নিজের মায়ের প্রতি যে ভালোবাসা থাকতে পারে মানুষের, তাই শোভনের রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি।’