ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের দাপুটে অভিনেতা প্রকাশ রাজ (Prakash Raj) এবার এক বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেন। ধর্মস্থল বিতর্ক নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কয়েক দিনের মাথাতেই অভিনেতার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল আদালত। একাধিক রাজ্যের ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID Cards) নিজের কাছে রাখার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বারবার হাজিরা এড়ানোর কারণে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে।

কেন জারি হলো অ-জামিনযোগ্য পরোয়ানা?
সংবাদ সংস্থা ‘এএনআই’ (ANI)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর ৪৮তম অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (ACJM) আদালত এই কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পাঠানো একাধিক সমন বা আইনি নির্দেশিকাকে প্রকাশ রাজ বারবার উপেক্ষা করায় এবং আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে এই ওয়ারেন্ট জারি করেন। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন এই অভিনেতা।
২. কী এই একাধিক ভোটার আইডির বিতর্ক?
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। দিলীপ কুমার নামের এক আইনজীবী বেঙ্গালুরুর হালাসুরু গেট থানায় প্রকাশ রাজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল— প্রকাশ রাজ একই সাথে ভারতের ৪টি রাজ্য অর্থাৎ কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের কোনও নাগরিক একই সময়ে একাধিক স্থানে বা রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিজের নাম রাখতে পারেন না। তবে প্রকাশ রাজ অতীতে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি কেবল তামিলনাড়ু থেকেই ভোট দেন। আদালতের এই পরোয়ানা জারির পর অভিনেতার আইনি দল জরুরি ভিত্তিতে জামিনের আবেদন করতে বা ওয়ারেন্টের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলে জানা গেছে।
জড়াল ধর্মস্থল বিতর্কেও
{{/usCountry}}জড়াল ধর্মস্থল বিতর্কেও
{{/usCountry}}ভোটার আইডি মামলার পাশাপাশি সম্প্রতি কর্ণাটকের বিখ্যাত মন্দির শহর ধর্মস্থলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক বিতর্কিত রিট পিটিশনেও প্রকাশ রাজের নাম উঠে এসেছে। সি এন চিন্নায়াহ নামের এক ব্যক্তি ধর্মস্থলে একাধিক খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন, তবে পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে দাবি করেন যে মন্দির শহরটিকে কালিমালিপ্ত করার জন্য একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সেই পিটিশনে প্রকাশ রাজের সাথে তাঁর একটি ফোনালাপের কথাও উল্লেখ করা হয়। এই বিষয়ে গত সপ্তাহে প্রকাশ রাজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, একজন নাগরিক হিসেবে তথ্য পাওয়া মাত্রই তিনি তা তড়িঘড়ি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)-এর প্রধান প্রণব মহান্তির কাছে হস্তান্তর করেছিলেন এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তিনি তাঁর কর্তব্য পালন করেছেন।