...
...
Next Story

Aparajita Adhya Husband: ‘বিশ্বাস মানে কাউকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়', বরের জন্মদিনে খোলা চিঠি অপরাজিতার

‘ভালোবাসায় আবেগ থাকে, কিন্তু শ্রদ্ধা এমন এক অনুভূতি যা সহজে আসে না!’ বরের ২৯তম জন্মদিনে অপরাজিতা আঢ্যর আবেগঘন খোলা চিঠি।

Published on: Oct 10, 2026, 11:01:40 IST
Advertisement

টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও হাসিখুশি অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ককে সুন্দরভাবে আগলে রাখার জন্য অনুরাগীদের কাছে তিনি বরাবরই অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি স্বামী অতনু হাজরার ২৯তম জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ ও অভূতপূর্ব প্রেমপত্র শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী ও পথপ্রদর্শককে এক বুক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

‘বিশ্বাস মানে কাউকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়', বরের জন্মদিনে খোলা চিঠি অপরাজিতার
‘বিশ্বাস মানে কাউকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা নয়', বরের জন্মদিনে খোলা চিঠি অপরাজিতার

‘মানুষটাকে যত দেখেছি, ততই অবাক হয়েছি’

স্বামীর জন্মদিনে নিজের অনুভূতির কথা লিখতে গিয়ে অপরাজিতা শেয়ার করেন যে, দীর্ঘ ২৯ বছরের এই পথচলায় মানুষের সমীকরণ ও পরিস্থিতি বদলে গেলেও কীভাবে একজন মানুষ নিজের আদর্শ ও মানসিক দৃঢ়তাকে অবিকৃত রাখতে পারে, তা অতনুকে না দেখলে তিনি বিশ্বাস করতে পারতেন না।

তিনি লেখেন, অতনুর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হলো কাউকে বিচার না করার (Non-judgmental) এক অদ্ভুত ক্ষমতা। কারও সঙ্গে অহেতুক বিরোধ বা কাউকে ছোট করে নিজে বড় হওয়ার চেষ্টা তাঁর স্বভাবের মধ্যেই নেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও তাঁর সেই প্রতিবাদের পেছনে কাউকে আঘাত করার ইচ্ছে থাকে না, থাকে কেবল নিজের ন্যায়বোধের প্রতি অটল বিশ্বাস।

নিঃসন্তান দম্পতি, অথচ হাজারো মানুষের জীবনের আশ্রয়:

ব্যক্তিগত জীবনে অপরাজিতা ও অতনু নিঃসন্তান দম্পতি। তবে নিজেদের কোনো সন্তান না থাকলেও বহু মানুষের অভিভাবক ও আশ্রয়দাতা হয়ে উঠেছেন তাঁরা। স্বামীর নিঃস্বার্থ সেবাবোধের ভূয়সী প্রশংসা করে অপরাজিতা জানান, সেবার কোনো প্রদর্শন বা প্রচার অতনু পছন্দ করেন না। কত মানুষকে তিনি নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন, কতজনের কঠিন লড়াইয়ে অলক্ষ্যে চালিকাশক্তি হয়ে পাশে থেকেছেন— তার কোনো হিসেব অতনু নিজে রাখেননি।

‘ভালোবাসা ছাড়াও অতনুর প্রতি রয়েছে আমার পরম শ্রদ্ধা’

ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার তফাৎ বোঝাতে গিয়ে অপরাজিতা লেখেন— ভালোবাসা বা নির্ভরতা দিয়ে হয়তো সম্পর্কের শুরু হয়, কিন্তু সেই সম্পর্কের মূল গভীরতা তৈরি হয় শ্রদ্ধা দিয়ে।

অভিনেত্রীর কথায়, ‘ভালোবাসায় আবেগ থাকে, মায়া থাকে, অভ্যাস থাকে, নির্ভরতাও থাকে। কিন্তু শ্রদ্ধা এমন এক অনুভূতি, যা কাউকে ভালোবেসে অন্ধ হয়ে নয়, বরং তাকে খুব কাছ থেকে চিনে, তার সমস্ত জীবনযাপনকে উপলব্ধি করেই জন্মায়। অতনুর প্রতি আমার ভালোবাসা আছে, গভীর মায়া আছে... কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে আছে এক অপরিসীম শ্রদ্ধা। জীবনে নিজের গুরুর পরে আর কোনও মানুষের প্রতি এত গভীর শ্রদ্ধা অনুভব করেছি কি না, সত্যিই জানি না।’

চিঠির শেষে বরকে আদুরে 'তাতু' সম্বোধন করে অভিনেত্রী লেখেন— 'শুভ জন্মদিন, তাতু। ঊনত্রিশ বছর পরেও তোমাকে শুধু ভালোবাসি না, তোমাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। আর আমার কাছে সেটাই আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি।'

অপরাজিতা আঢ্যর এই মন ছুঁয়ে যাওয়া খোলা চিঠি দেখে কমেন্ট বক্সে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সহকর্মী তারকা থেকে শুরু করে অগণিত ভক্ত ও অনুরাগী।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks