বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে চলমান বিক্ষোভে প্রতিবাদকারীদের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে সেই ভিডিয়ো পোস্ট করার পর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। বহু নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিবাদীদের ভাষা নিয়ে কথা বললেও ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও হিংসা নিয়ে কেন নীরব থাকলেন অভিনেত্রী?

রবিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিয়োতে ভূমি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিয়োতে দেশের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ভাষা ব্যবহার করছে, তা দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে করা কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিকে নিয়ে কথা বলছি। মতভেদ বা ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন, কিন্তু তা যেন শালীনতার সঙ্গে হয় এবং অপমানজনক ভাষা ব্যবহার না করা হয়।’
ভূমির এই বক্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তাঁর পোস্টে মন্তব্য করে বলেন, প্রতিবাদকারীদের ভাষার সমালোচনা করলেও ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, মারধর এবং অস্ত্র তাক করার ঘটনায় তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘কোনটা বেশি ভুল— কাউকে গালি দেওয়া, নাকি একে-৪৭ তাক করে গুলি চালানো? আপনি ভাষার নিন্দা করছেন, কিন্তু ছাত্রদের উপর হওয়া হিংসার নিন্দা করছেন না।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘যখন আমাদের মন্ত্রীরাও এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তখনও তাঁদের সমালোচনা করা উচিত।’ অন্য এক নেটিজেন লেখেন, ‘সম্মান চেয়ে নেওয়া যায় না, অর্জন করতে হয়।’
{{/usCountry}}আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘যখন আমাদের মন্ত্রীরাও এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তখনও তাঁদের সমালোচনা করা উচিত।’ অন্য এক নেটিজেন লেখেন, ‘সম্মান চেয়ে নেওয়া যায় না, অর্জন করতে হয়।’
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্র রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দাবি না মানায় ২০ জুলাই সংসদের উদ্দেশে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের আটকাতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশকর্মীদের হাতে ছাত্রদের মারধরের একাধিক ভিডিয়ো ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই সময়ে কিছু প্রতিবাদকারীর মুখে রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতেও দেখা যায়, যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।