'বিগ বস বাংলা'-র ঘর থেকে বিদায় নিয়েছেন অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। রবিবার রাতে সায়কের এলিমিনেশন মন থেকে মানতে পারছে না দর্শক। গত কয়েক সপ্তাহে দর্শকদের ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে ওঠেছিলেন তিনি। গত কয়েক মাসে একের পর এক বিতর্কে জড়ানো সায়ককে একদম অন্য়ভাবে বিগ বসের ঘরে চিনেছে দর্শক।

এমনকী তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঝিলাম তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘তোকে এতদিন ভুল চিনতাম ভাই’। নিজের সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এই অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সার। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে অকপটে বললেন, ‘সত্যি হয়ত বিগ বসের ঘর আমার জন্য নয়’। কেন তিনি খেলার খাতিরে 'ঝগড়া' বা 'ফুটেজ' পাওয়ার চেষ্টা করেননি, সঞ্চালক সৌরভের 'ইনভিজিবল' মন্তব্য এবং বিগ বসের ঘরের রান্নাঘর অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি।
‘মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম, বার্নার চুরি আমার দ্বারা সম্ভব নয়’
সায়ক স্পষ্ট জানান, বিগ বসের ঘরে যাওয়ার ঠিক আগে তাঁর মায়ের একটি মেডিক্যাল কন্ডিশনের কথা শুনেছিলেন তিনি। তাই মন স্থির রাখতে পারছিলেন না তিনি। সর্বক্ষণ মাথার মধ্যে মায়ের আপডেটের চিন্তা ঘুরত। এছাড়া, গেমের খাতিরে জোর করে ঝগড়া বা কুৎসিত কাজ করার মানসিকতা তাঁর ছিল না।
সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাকে 'ইনভিজিবল' বললেও সে বিষয়ে সায়কের সোজা কথা, 'দাদা এসে বলেছে তোমাকে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু শুধু ক্যামেরায় দেখানোর জন্য তো আর আমি বার্নার (নিরঞ্জন করেছিল) চুরি করতে পারব না, কমোড ভেঙে দিতে পারব না, বা কারও বিছানায় জল ঢেলে দিতে পারব না! খেলা শেষে নন্দিনীকে সেভ করে বেরোনোর সময় দাদা বলেছিলেন— 'খেলার মাঠে কোনো এথিক্স কাজ করে না'। কিন্তু আমার শিক্ষা তো আমার সাথেই থাকবে। টিকে থাকার জন্য হাটকে কিছু করার অভ্যাস আমার ভেতর থেকেই আসবে না।'
{{/usCountry}}সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাকে 'ইনভিজিবল' বললেও সে বিষয়ে সায়কের সোজা কথা, 'দাদা এসে বলেছে তোমাকে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু শুধু ক্যামেরায় দেখানোর জন্য তো আর আমি বার্নার (নিরঞ্জন করেছিল) চুরি করতে পারব না, কমোড ভেঙে দিতে পারব না, বা কারও বিছানায় জল ঢেলে দিতে পারব না! খেলা শেষে নন্দিনীকে সেভ করে বেরোনোর সময় দাদা বলেছিলেন— 'খেলার মাঠে কোনো এথিক্স কাজ করে না'। কিন্তু আমার শিক্ষা তো আমার সাথেই থাকবে। টিকে থাকার জন্য হাটকে কিছু করার অভ্যাস আমার ভেতর থেকেই আসবে না।'
{{/usCountry}}রান্নাঘরের অভিজ্ঞতা ও চরম 'বাঁধাকপি ট্রমা':
বিগ বসের ঘরে থাকার এই ক'দিনে সম্পূর্ণ নিজের রান্না নিজে করার অভিজ্ঞতার কথাও হাসতে হাসতে জানান সায়ক। তিনি জানান, আগে কোনোদিন রান্না না করলেও সেখানে সোনামণি ও সৃজলার সাহায্যে রান্না শিখেছেন।
তবে সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা ছিল খাবার খাওয়া নিয়ে। ছোটবেলায় দাদা (সব্যসাচী চক্রবর্তী) জোর করে মুখে পুরে খাইয়ে দেওয়ায় বাঁধাকপি নিয়ে এমনিতেই সায়কের বড় একটি ট্রমা ছিল। আর বিগ বসের ঘরে দিনের পর দিন কেবলই বাঁধাকপি খেতে হয়েছে তাঁকে! সায়ক হাসতে হাসতে বলেন, ‘বাঁধাকপি ট্রমাটা শুধু আমার নয়, পুরো বাড়ির প্রতিটা প্রতিযোগীর মনেই থেকে যাবে! আমি তো ঘরের সাথেই বাঁধাকপিটাকেও ওখানেই ছেড়ে এসেছি, জীবনে আর বোধহয় কোনোদিনও বাঁধাকপি খাব না।’
নিজের বেসিক নীতি বজায় রেখে, দর্শকদের অগাধ ভালোবাসা নিয়ে হাসিমুখেই রিয়্যালিটি শো-র সফর শেষ করলেন সায়ক।