অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক মহিলার দায়ের করা এফআইআরে (FIR) নাম জড়াল তেলুগু বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ তথা ‘বিগ বস তেলুগু ৩’ বিজয়ী বিখ্যাত গায়ক রাহুল সিপলিগঞ্জ-এর (Rahul Sipligunj)। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা, মানসিক হেনস্থা ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাহুল ছাড়াও গায়কের স্ত্রী হরিণ্যা রেড্ডি এবং মূল অভিযুক্ত কার্পুরাপ্লু রাহুল রেড্ডিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।

বিষয়টি সামনে আসতেই মুখ খুলেছেন ‘নাটু নাটু’ খ্যাত গায়ক রাহুল সিপলিগঞ্জ।
কী এই মামলা? পুলিশের বক্তব্য
বিশাখাপত্তনমের এমভিপি কলোনি (MVP Colony) থানা এবং পরবর্তীতে উইমেন পুলিশ স্টেশনে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে:
ডেটিং অ্যাপ সূত্রে আলাপ: অভিযোগকারিণী জানান, ২০২৩ সালে ডেটিং অ্যাপ 'বাম্বল' (Bumble)-এর মাধ্যমে তাঁর আলাপ হয় কার্পুরাপ্লু রাহুল রেড্ডির সঙ্গে।
প্রতারণা ও হুমকি: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তরুণী বিয়ের দাবি জানালে, রাহুল রেড্ডির পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা (যার মধ্যে গায়ক রাহুল সিপলিগঞ্জ ও তাঁর স্ত্রীও রয়েছেন) তরুণীকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য ভয় দেখায় ও হুমকি দেয়।
তদন্তকারী এসিপি (ACP) জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ১৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানো হচ্ছে।
‘আইন ও নির্যাতিতার কাছেই জবাবদিহি করব’— রাহুলের প্রতিক্রিয়া
পুরো ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুল বোঝাবুঝি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গায়ক। ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল সিপলিগঞ্জ জানান, 'অভিযোগকারিণী, আমার স্ত্রী হরিণ্যা রেড্ডির আত্মীয়। ওই তরুণী এবং ওঁর মধ্যে ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই প্রথম গণ্ডগোল শুরু হয়। থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ালেও পরবর্তীতে দু'জনের মধ্যে বিষয়টি মিটে যায় (Compromise)। কিন্তু এফআইআরে নাম থাকা এক আইনজীবীর উসকানিতেই আমার নাম জড়ানো হয়েছে এবং খবরটি ফাঁস করা হয়েছে।'
{{/usCountry}}পুরো ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুল বোঝাবুঝি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গায়ক। ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল সিপলিগঞ্জ জানান, 'অভিযোগকারিণী, আমার স্ত্রী হরিণ্যা রেড্ডির আত্মীয়। ওই তরুণী এবং ওঁর মধ্যে ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই প্রথম গণ্ডগোল শুরু হয়। থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ালেও পরবর্তীতে দু'জনের মধ্যে বিষয়টি মিটে যায় (Compromise)। কিন্তু এফআইআরে নাম থাকা এক আইনজীবীর উসকানিতেই আমার নাম জড়ানো হয়েছে এবং খবরটি ফাঁস করা হয়েছে।'
{{/usCountry}}আত্মগোপনের খবর ও মিটমাটের দাবি
গায়ক জানান, তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি বা ফোন বন্ধ করেননি; শুরু থেকেই পুলিশ প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। গায়কের দাবি—নির্যাতিতা নাকি নিজেই গায়ককে জানিয়েছেন, ওই আইনজীবীর ফাঁদে পা দিয়েই তিনি সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন।
আপস চুক্তি: রাহুল জানান, জুলাই মাসের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে যেখানে তরুণী ও মূল অভিযুক্তকে একসঙ্গে দেখা গেছে এবং দু’জন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নিয়েছেন।
গায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন— এই ইস্যুতে অযথা বিতর্ক তৈরির মানে হয় না, কারণ তিনি কেবল আইন এবং সংশ্লিষ্ট তরুণীর কাছেই সত্য তুলে ধরতে দায়বদ্ধ।