ভারতীয় বিনোদন জগতের নক্ষত্রপতন। গোয়ার ডোনা পাউলার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। নিজস্ব দক্ষতায় হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার পর্দায় পাঁচ দশক ধরে একচ্ছত্র রাজত্ব করলেও, প্রচারের আলো থেকে বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকরকে আড়ালে রেখেছিলেন এই ‘ক্রান্তিবীর’।

কে এই নীলকান্তি পাটেকর?
নানা ও নীলকান্তির প্রথম আলাপ ঘটেছিল মারাঠি থিয়েটারে। বিজ্ঞানের ছাত্রী নীলকান্তি কেন্দ্রীয় আবগারি বিভাগের আধিকারিক বাবার বদলির সূত্রে দেশের একাধিক শহরে বড় হয়েছেন। বাবার ইচ্ছায় অত্যন্ত কঠিন ‘আইআইটি (IIT)’ প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথ না বেছে তিনি পা বাড়িয়েছিলেন নাটকের দুনিয়ায়। পেশায় তিনি একজন সরকারি ব্যাঙ্ক অফিসার হলেও অভিনয়ের প্রতি টান কমেনি কখনও।
১৯৭৩ সালে সোনা জয় ও জীবনের নতুন পথচলা:
১৯৭৩ সালে ‘মহারাষ্ট্র রাজ্য নাট্য প্রতিযোগিতা’য় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর গোল্ড মেডেল পান নীলকান্তি। এর ঠিক পাঁচ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে একেবারে সাধারণ জীবন যাপন করা তরুণ নানা পাটেকরের সঙ্গে চার হাত এক হয় তাঁর। তখন নানা বিনোদন জগতে প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে শচীন পিলগাঁওকরের পরিচালনায় ‘আত্মবিশ্বাস’ ছবিতে অভিনয় করে মহারাষ্ট্র সরকারের সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন তিনি।
সন্তানশোক ও সম্পর্কের টানাপোড়েন:
{{/usCountry}}সন্তানশোক ও সম্পর্কের টানাপোড়েন:
{{/usCountry}}দাম্পত্যের শুরুর দিনগুলো সুখে কাটলেও তাঁদের জীবনে নেমে আসে এক চরম মর্মান্তিক বিপর্যয়। তাঁদের প্রথম সন্তান মাত্র আড়াই বছর বয়সে মারা যায়। এই অকাল সন্তানশোক দম্পতির জীবনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে তাঁদের কোল আলো করে আসে দ্বিতীয় সন্তান মলহার পাটেকর।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মধ্যে তৈরি হয় অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব। আইনি বিচ্ছেদ না হলেও দুজনে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে নানা নিজে স্বীকার করেছিলেন— “আমরা দীর্ঘ সময় সুখে কাটিয়েছি, একে অপরের পাশে থেকেছি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন কিছু অমীমাংসিত মতবিরোধ তৈরি হয় যে আমরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিই। তবে আমরা আজও আইনিভাবে বিবাহিত।”
দীর্ঘদিন পর রুপোলি পর্দায় প্রত্যাবর্তন:
বহু বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর সম্প্রতি ভিকি কৌশল ও রশ্মিকা মন্দানার ব্লকবাস্টার ছবি ‘ছাবা’-তে ‘ধারাউ’-এর চরিত্রে অভিনয় করে চমক দিয়েছিলেন নীলকান্তি। পর্দার বর্ণময় অভিনয়ের আড়ালে নানার জীবনের এই একাকী অধ্যায় ও নীলকান্তির নীরব আত্মত্যাগ আজও অনেকের অজানা।