...
...
Next Story

Salman Khan: ‘শিশুপাচারকারী, দাউদের গ্য়াংয়ের সদস্য়’, ভাইজানকে নিয়ে প্রতিবেশির মিথ্য়াচার, কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ আছে বলেই সেলিব্রিটিদের সম্মানহানি করা যাবে না, সাফ বার্তা হাইকোর্টের।

Published on: Jun 12, 2026, 07:30:15 IST
Advertisement

বলিউড সুপারস্টার সলমন খান এবং তাঁর পানভেল ফার্মহাউসের প্রতিবেশী কেতন কক্কড়ের মধ্যকার সম্পত্তি বিবাদ ও আইনি লড়াই নতুন মোড় নিল। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বোম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court) অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থাকা মানেই কোনও সেলিব্রিটির বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট করার অধিকার পেয়ে যাওয়া নয়। একই সাথে আদালত সলমনের প্রতিবেশীকে অভিনেতার বিরুদ্ধে করা সমস্ত বিতর্কিত পোস্ট অবিলম্বে ডিলিট করার নির্দেশ দিয়েছে।

‘শিশুপাচারকারী’, ভাইজানকে নিয়ে প্রতিবেশির মিথ্য়াচার, কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের
‘শিশুপাচারকারী’, ভাইজানকে নিয়ে প্রতিবেশির মিথ্য়াচার, কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখের সিঙ্গল বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

‘কর্তৃপক্ষের কাছে না গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন?’ প্রশ্ন আদালতের

সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুনানির সময় বিচারপতি শর্মিলা দেশমুখ প্রশ্ন তোলেন— কোনও ব্যক্তির যদি কোনও সমস্যা বা ক্ষোভ থাকে, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ না হয়ে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে নোংরামি ছড়াবেন? আদালত সাফ জানায়, সাধারণ মানুষ হোক বা তারকা, সমাজমাধ্যমে কারোরই মানহানি করার ছাড়পত্র কেউ পায়নি।

হাইকোর্ট কেতন কক্কড়কে নির্দেশ দিয়েছে যেন তিনি সলমনের বিরুদ্ধে করা সমস্ত আপত্তিকর পোস্ট মুছে ফেলেন। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, যদি তৃতীয় কোনও পক্ষ ওই কন্টেন্টগুলো শেয়ার বা আপলোড করে থাকে, তবে সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমগুলোকে তা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৬ই জুলাই।

২০২২ সালে সলমন খান তাঁর প্রতিবেশী কেতনের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা ঠুকেছিলেন। কেতন টুইটার (বর্তমানে এক্স) এবং ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে সলমন খানের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক, কাল্পনিক এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক অভিযোগ এনেছিলেন।

সলমনের আইনজীবীর তরফ থেকে আদালতে জানানো হয়, কেতন কক্কড় সলমন খানকে নিয়ে নিম্নোক্ত সাঙ্ঘাতিক সব দাবি করেছিলেন: সলমন খান নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি-গ্যাং’ (D Gang)-এর ফ্রন্টম্যান হিসেবে কাজ করেন। সলমনের পানভেল ফার্মহাউসে নাকি শিশু পাচার (Child Trafficking)-এর মতো অসামাজিক কাজ চলে।

এমনকি, বলিউডের মৃত তারকাদের দেহ নাকি সলমনের ওই ফার্মহাউসের মাটির নিচে চাপা দেওয়া রয়েছে! এছাড়াও সলমনের ধর্মীয় পরিচয় তুলে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের সাথে তাঁর যোগসাজশ রয়েছে বলে কুৎসা ছড়ানো হয়।

"আমার মা হিন্দু, বাবা মুসলিম... কেন ধর্ম টানছেন?" গর্জে উঠেছিলেন ভাইজান

২০২২ সালে যখন এই মামলা প্রথম দায়ের করা হয়, তখন কেতনের এই কুরুচিকর কুৎসার জবাবে সলমন খান তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

নিজের ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের উদাহরণ টেনে সলমন বলেছিলেন:

‘কোনও প্রমাণ ছাড়াই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে বিবাদীর কাল্পনিক মস্তিষ্কের উপজাত। একটা সাধারণ সম্পত্তির বিবাদে কেন আপনি আমার ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করছেন? কেন এর মধ্যে ধর্মকে টেনে আনছেন? আমার মা একজন হিন্দু, আমার বাবা মুসলিম এবং আমার ভাইয়েরা হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করেছেন। আমরা আমাদের বাড়িতে সমস্ত উৎসব সমানভাবে উদযাপন করি।’

বড় পর্দায় সলমনের আগামী প্রজেক্ট

২০২৫ সালে ব্লকবাস্টার ছবি ‘সিকান্দার’ (Sikandar)-এ শেষবার বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ভাইজানকে। এরপর খুব শীঘ্রই তাঁকে দেখা যাবে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ ছবিতে। এছাড়াও পরিচালক ভামসি পৈডিপল্লির একটি মেগা প্রজেক্টে লেডি সুপারস্টার নয়নতারার সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে চলেছেন সলমন খান।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe