...
...
Next Story

১০ বছর পর ‘বালিকা বধূ’ প্রত্যুষা আত্মহত্যা মামলার রায়! বম্বে হাইকোর্টে বড় স্বস্তি প্রেমিক রাহুলের

‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকে আনন্দীর চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছিলেন প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালে অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর তৎকালীন প্রেমিক রাহুল রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন প্রত্যুষার বাবা-মা।

Published on: Oct 1, 2026, 09:46:17 IST
Advertisement

বালিকা বধূ ধারাবাহিকে আনন্দীর চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পাওয়া প্রত্যুষা ব্যানার্জির মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে ১০ বছর। ২০১৬ সালে তিনি নিজের ভাড়া বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় প্রত্যুষার বাবা-মা তাঁর তৎকালীন বয়ফ্রেন্ড রাহুল রাজ সিংহের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করেছিলেন। রাহুলের বিরুদ্ধে গত ১০ বছর ধরে এই মামলা চলছিল। অবশেষে ১০ বছর পর বম্বে হাই কোর্ট রাহুলকে নিয়ে তাঁদের রায় জানিয়েছে।

প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রত্যুষার মৃত্যু মামলায় রাহুলকে অব্যাহতি আদালতের

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার মামলায় রাহুল রাজ সিংকে অব্যাহতি দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। অভিনেত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বিচারপতি শিবকুমার ডিগের বেঞ্চ প্রত্যুষা ও রাহুলের মধ্যে হওয়া শেষ কথোপকথনকে এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

আদালতে কী যুক্তি দেন রাহুলের আইনজীবীরা?

আদালতে রাহুলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী আবাদ পন্ডা ও শ্রেয়াংশ মিঠারে। তাঁদের যুক্তি ছিল, আত্মহত্যার আগে রাহুলের সঙ্গে কথোপকথনে প্রত্যুষা তাঁর বাবা-মা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে নিজের পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছিলেন। সেই কথোপকথনে রাহুল তাঁকে আত্মহত্যা না করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন আইনজীবীরা। পাশাপাশি, এই মামলায় এফআইআর দায়ের করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

রাহুল কেন হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন?

কীভাবে মৃত্যু হয় প্রত্যুষার?

২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মুম্বইয়ের গোড়েগাঁওয়ে নিজের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা-মা রাহুলের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবীও একাধিকবার রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। উল্লেখ্য, প্রত্যুষাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল নিজেই।

রাহুলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করেছিলেন প্রত্যুষার বাবা-মা?

প্রত্যুষার মৃত্যুর পর তাঁর বাবা-মা রাহুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে, একটি পডকাস্টে রাহুল দাবি করেন, প্রত্যুষার সঙ্গে তাঁর বাবার প্রায়ই ঝগড়া হত। তাঁর আরও দাবি ছিল, প্রত্যুষার মদ্যপানের অভ্যাস ছিল এবং তিনি বাবার সঙ্গে বসে মদ্যপান করতেন। রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, মদ্যপানের পর প্রত্যুষার বাবা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন, যার জেরে তাঁদের মধ্যে বিবাদ বাধত। তবে এগুলি রাহুলের নিজস্ব দাবি।

‘বিগ বস ৭’-এর প্রতিযোগী ছিলেন প্রত্যুষা

অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ৭’-এও অংশ নিয়েছিলেন প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শোতেই অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। শো শেষ হওয়ার পরেও তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। প্রত্যুষার মৃত্যুর পর রাহুল রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন কাম্যাও।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks