বালিকা বধূ ধারাবাহিকে আনন্দীর চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পাওয়া প্রত্যুষা ব্যানার্জির মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে ১০ বছর। ২০১৬ সালে তিনি নিজের ভাড়া বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় প্রত্যুষার বাবা-মা তাঁর তৎকালীন বয়ফ্রেন্ড রাহুল রাজ সিংহের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করেছিলেন। রাহুলের বিরুদ্ধে গত ১০ বছর ধরে এই মামলা চলছিল। অবশেষে ১০ বছর পর বম্বে হাই কোর্ট রাহুলকে নিয়ে তাঁদের রায় জানিয়েছে।

প্রত্যুষার মৃত্যু মামলায় রাহুলকে অব্যাহতি আদালতের
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার মামলায় রাহুল রাজ সিংকে অব্যাহতি দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। অভিনেত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বিচারপতি শিবকুমার ডিগের বেঞ্চ প্রত্যুষা ও রাহুলের মধ্যে হওয়া শেষ কথোপকথনকে এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
আদালতে কী যুক্তি দেন রাহুলের আইনজীবীরা?
আদালতে রাহুলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী আবাদ পন্ডা ও শ্রেয়াংশ মিঠারে। তাঁদের যুক্তি ছিল, আত্মহত্যার আগে রাহুলের সঙ্গে কথোপকথনে প্রত্যুষা তাঁর বাবা-মা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে নিজের পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছিলেন। সেই কথোপকথনে রাহুল তাঁকে আত্মহত্যা না করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন আইনজীবীরা। পাশাপাশি, এই মামলায় এফআইআর দায়ের করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
রাহুল কেন হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন?
রাহুল রাজ সিংহকে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বম্বে হাই কোর্ট আগাম জামিন দিয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে বাংগুর নগর পুলিশ চার্জশিট জমা দেওয়ার পর, তিনি সেশনস কোর্টে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন জানান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সেশনস কোর্ট রাহুলের আবেদন খারিজ করে দেয়। সেশনস কোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর রাহুল বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
{{/usCountry}}রাহুল রাজ সিংহকে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বম্বে হাই কোর্ট আগাম জামিন দিয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে বাংগুর নগর পুলিশ চার্জশিট জমা দেওয়ার পর, তিনি সেশনস কোর্টে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন জানান। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে সেশনস কোর্ট রাহুলের আবেদন খারিজ করে দেয়। সেশনস কোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর রাহুল বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
{{/usCountry}}কীভাবে মৃত্যু হয় প্রত্যুষার?
২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মুম্বইয়ের গোড়েগাঁওয়ে নিজের ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা-মা রাহুলের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবীও একাধিকবার রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। উল্লেখ্য, প্রত্যুষাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল নিজেই।
রাহুলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করেছিলেন প্রত্যুষার বাবা-মা?
প্রত্যুষার মৃত্যুর পর তাঁর বাবা-মা রাহুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে, একটি পডকাস্টে রাহুল দাবি করেন, প্রত্যুষার সঙ্গে তাঁর বাবার প্রায়ই ঝগড়া হত। তাঁর আরও দাবি ছিল, প্রত্যুষার মদ্যপানের অভ্যাস ছিল এবং তিনি বাবার সঙ্গে বসে মদ্যপান করতেন। রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, মদ্যপানের পর প্রত্যুষার বাবা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন, যার জেরে তাঁদের মধ্যে বিবাদ বাধত। তবে এগুলি রাহুলের নিজস্ব দাবি।
‘বিগ বস ৭’-এর প্রতিযোগী ছিলেন প্রত্যুষা
অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ৭’-এও অংশ নিয়েছিলেন প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শোতেই অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। শো শেষ হওয়ার পরেও তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। প্রত্যুষার মৃত্যুর পর রাহুল রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন কাম্যাও।