বলিউডের প্রথম 'সুপারস্টার' রাজেশ খান্নার বিখ্যাত বাংলো 'আশীর্বাদ' ঘিরে একের পর এক ভুয়ো ও ভূতুড়ে খবর ছড়ানোয় এবার চরম ক্ষুব্ধ বোম্বে হাইকোর্ট! মুম্বইয়ের ব্যান্ডস্ট্যান্ডের এই ঐতিহাসিক বাড়িকে অভিশপ্ত, ভূতুড়ে বা দুর্ভাগ্য়ের প্রতীক বলে দাবি করা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কড়া নির্দেশ দিল আদালত। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া স্রেফ চমক তৈরি করতে একটি বাড়িসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো মালিকের সম্মানের ওপর আঘাত এবং মানহানিকর!

কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন বর্তমান মালিক?
রাজেশ খান্নার প্রয়াণের পর ওঁর পরিবারের থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকায় এই বাংলোটি কিনে নিয়েছিলেন বিখ্যাত ব্যবসায়ী শশী শেট্টি। পরবর্তীতে ওনারা পুরনো জীর্ণ কাঠামোটি ভেঙে নিজেদের থাকার জন্য চার তলার এক আধুনিক বাসভবন তৈরি করেন, তবে ভালোবাসা আর স্মৃতির খাতিরে বাড়ির নাম সেই 'আশীর্বাদ'-ই রেখে দেন।
কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছু ডিজিটাল মিডিয়া ও ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের সবচেয়ে ভূতুড়ে বাড়িগুলোর তালিকায় 'আশীর্বাদ'-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়। নিজের বাসভবন নিয়ে এই ধরনের কুৎসা ও বিভ্রান্তিতে জেরবার হয়ে আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন শশী শেট্টি। হাইকোর্ট তাঁর আর্জিকে সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছে এবং আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই জাতীয় খবর প্রকাশ বা সম্প্রচারে কড়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
রূপোলি ইতিহাসের অনন্য সাক্ষী এই 'আশীর্বাদ'
বলিউডের রাজকীয় ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বাসভবনের নাম: ১৯৫০-এর দশকে মাত্র ৬৫ হাজার টাকায় এই বাংলো কিনেছিলেন অভিনেতা রাজেন্দ্র কুমার। এই বাড়িতে পা রাখার পরেই ওঁর ঝুলিতে আসে পর পর ব্লকবাস্টার ছবি, হিন্দি সিনেমা ওনাকে নাম দেয় জুবলি কুমার।
{{/usCountry}}বলিউডের রাজকীয় ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বাসভবনের নাম: ১৯৫০-এর দশকে মাত্র ৬৫ হাজার টাকায় এই বাংলো কিনেছিলেন অভিনেতা রাজেন্দ্র কুমার। এই বাড়িতে পা রাখার পরেই ওঁর ঝুলিতে আসে পর পর ব্লকবাস্টার ছবি, হিন্দি সিনেমা ওনাকে নাম দেয় জুবলি কুমার।
{{/usCountry}}পরবর্তীতে ৩.৫ লাখ টাকায় রাজেন্দ্র কুমারের থেকে বাড়িটি কিনে নেন রাজেশ খান্না। এই ‘আশীর্বাদ’-এ থাকার সময়েই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের প্রথম অফিশিয়াল 'সুপারস্টার' হয়ে ওঠেন তিনি।
নস্টালজিয়া বনাম ভূতের গুজব
রাজেশ খান্নার ইচ্ছা ছিল ওঁর প্রয়াণের পর এই বাড়িটিকে এক সুবিশাল জাদুঘরে রূপান্তর করা হোক। তবে ওঁর মৃত্যুর পর পরিবার বাড়িটি বিক্রি করে দেয় এবং ২০১৬ সালে নতুন মালিক এসে পুরনো বাড়ি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করেন। তবে বাড়ি বদলালেও 'আশীর্বাদ'-এর আবেগ যে এখনো কমেনি এবং সেই বাড়িতে ভুয়ো ভূতের গল্প বানিয়ে টিআরপি তোলার খেলা যে আর চলবে না, বোম্বে হাইকোর্টের এই রায়ে তা পরিষ্কার!