বৃহস্পতিবার ইসিআই-এর রিপোর্টে সামনে আসে বিজেপি-র হয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে কত লাখ টাকা পেয়েছে বাংলার কোন ক্রিয়েটার। আর তাতে নাম উঠে এসেছে ‘ননসেন’ শমীক অধিকারি, সায়ক চক্রবর্তী, সুকান্ত কুণ্ডু, আরজে প্রিয়াঙ্কা, ‘ক্যানডিড ক্লে’-খ্যাত ইতি কর্মকার, আরজে প্রিয়াঙ্কা ওরফে প্রিয়াঙ্কা সরকারদের। টাকার অঙ্কও নেহাত কম নয়। আর তারপর থেকেই উঠেছে সমালোচনার ঝড়। মুখ খুলেছেন বহু ইনফ্লুয়েন্সার, তারকারা।

অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কেঁচো আর কেউটের গল্প... তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। যারা এর সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
এই ঘটনা সামনে আসার পর বং গাই কিরণ দত্ত পোস্ট করেছেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে না কোনোদিন একটাও ভিডিও বানিয়েছি, না ভবিষ্যতেও কোনোদিন বানাব। ফার্স্টবয়কে এটুকু বিশ্বাস করতেই পারেন।’ এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে কিরণ আরও লেখেন, ‘আমি ভাই নদীয়ার একটা ছোটো জায়গার ছেলে। সেই ছেলেকে তোমরা যেই জায়গা দিয়েছো, যেভাবে আমার খারাপ দিনে পাশে থেকেছ, আমি চাইলেও তোমাদের সাথে বেইমানি করতে পারব না গুরু। যা পেয়েছি অনেক বেশি পেয়েছি। এভাবেই ভালো আছি।’
বরাবরের মতোই চাঁচাছোলা সিনেবাপ মৃন্ময়। কটাক্ষ করে তিনি লিখলেন, ‘একজন আড়াই লাখ টাকার জন্য ব্রাহ্মণ হয়ে মাংস কেলেঙ্কারি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করল, আর একজন ১৩ লাখ টাকা নিয়ে ২টো বোতাম খুলল। ‘বাটন’ খুললে সত্যি পেমেন্ট বেশি পাওয়া যায়। আর বাকি অপজিশন পার্টি-র জন্য বিক্রি হওয়া ক্রিয়েটর নামক বিপ্লবীগুলোকে তো আগেই রোস্ট করে দিয়েছি, কেউ বলে বিপ্লবী- কেউ বলে দালাল। রাজনৈতিক মতাদর্শ কারো থাকতেই পারে এতে দোষ কিছু নেই, তো বুক ঠুকে সেই পার্টির হয়ে প্রচার কর না। এরা নিজেদের অরাজনৈতিক ইমেজ ধরে রাখবে, আবার টাকাও খাবে, আবার দর্শকবন্ধু-যাদের জন্য এই জায়গায় এসেছে তাদের ইমোশান নিয়ে খেলে তাদের কেই বোকা বানাবে।’
পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে সায়ক চক্রবর্তীর করা সেই ‘কুখ্যাত’ ভ্লগের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের তিনি বিতর্কে। এদিকে বান্ধবীর আনা শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগে জেল খেটে বেরনোর পর, ফের বিতর্কে শমীক। আপাতত যে কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের উপর টাকা নয়ে ভিডিয়ো বানানোর অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা প্রত্যেকেই চুপ। কারও কাছ থেকেই কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।